পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ-পদোন্নতি নিয়ে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের দ্বন্দ্বে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে প্রশাসনে। যার প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ডিসেম্বরে পবিপ্রবির ৫৭তম রিজেন্ট বোর্ড সভা এবং একই সময়ে হওয়া পদোন্নতির বাছাই বোর্ডকে কেন্দ্র করেই এই বিরোধের শুরু। উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. এসএম হেমায়েত জাহান উপাচার্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলেন, রিজেন্ট বোর্ডে যেসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি সেগুলোও বোর্ডের নাম ব্যবহার করে অফিস আদেশ জারি করে কার্যকর করেছেন উপাচার্য। এছাড়া ২৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ২১ জনের পদোন্নতি ও পর্যায়োন্নয়ন বিধি বহির্ভূতভাবে স্থগিত রেখে মাত্র তিনজনের অনুমোদন দেয়া হয়। এ ছাড়া বাছাই বোর্ডের সুপারিশের পর উপাচার্য নতুন করে আরেকটি কমিটি গঠন করেন যা বিধিমালার পরিপন্থী বলে দাবি উপ-উপাচার্যের। ওই কমিটি পুনরায় আবেদন ও ব্যক্তিগত নথি যাচাই করে ২৪ জনের পরিবর্তে মাত্র তিনজনকে পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করে।
এ দিকে রিজেন্ট বোর্ডে শিক্ষক ড. এবিএম সাইফুল ইসলামের পদোন্নতি এবং অধ্যাপক জামাল হোসেনের স্ত্রী জিনাত নাসরিন সুলতানার সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগ আটকে গেলে উপাচার্য ও উপাচার্যপন্থীদের দ্বন্দ্বে আরও প্রকট হয়। এরপর বিজয় দিবসে তারা আলাদাভাবে অনুষ্ঠান করেন। এছাড়া ঢাকার লিয়াজোঁ অফিসে রেজিস্ট্রারকেও হেনস্থা করার ঘটনা ঘটেছে। পরে রেজিস্ট্রার পদত্যাগ করলে উপাচার্য নতুন রেজিস্ট্রার নিয়োগ দেন পহেলা জানুয়ারি। এর চার দিন পরই সরিয়ে দেয়া হয় কৃষি অনুষদে নিয়োগ পাওয়া নতুন ডিন অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসনকে। এতে প্রশাসনিক ও একাডিমক কার্যক্রমে অস্থিরতা দেখা যায়।
এদিকে উপ-উপাচার্যপন্থীরা তাদের অভিযোগ ও দাবির বিষয়ে সুরাহা করতে ভিসিকে আল্টিমেটাম দিয়ে তার বাসভবনে তালা দেওয়ার পাশাপাশি গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুমকিও দিয়েছেন। এদিকে নিয়োগ-পদোন্নতি নিয়ে পাল্টা যুক্তি দিয়েছেন পবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড.কাজী রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, সাধারণ নিয়মে সিএস অনুসারে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকদের প্রমোশনের কার্যক্রম শুরু করা হয়। এর দুইদিন পরই দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি টিম আসে ক্যাম্পাসে। তারা যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পদোন্নতির জন্য আবেদন করেছেন তাদের মূল নিয়োগের সময়ে হওয়া নানা অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন করেন এবং তাদের নথিপত্র নিয়ে যান। পরে মূল নিয়োগের সময়ে কোন অনিয়ম হয়েছিল কিনা তা খুঁজতে একটি উচ্চতর কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি তদন্ত করে ১১০ জন কর্মচারির মধ্যে ৭ জন এবং ৩৪ জন কর্মকর্তার মধ্যে ৩১ জনের নিয়োগেই অনিয়ম খুঁজে পায়।
যে কারণে তাদের পদোন্নতি দেয়ার বিষয়টি ঝুলে যায়। এছাড়া শিক্ষক এবিএম সাইফুল ইসলামের পদোন্নতির বিষয়ে উপাচার্য বলেন, অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেতে হলে নূন্যতম চার বছর সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এক্ষেত্রে এবিএম সাইফুলের অভিজ্ঞতা রয়েছে মাত্র চার মাসের। যে কারণে তাকে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব নয়। এছাড়া আরেক অধ্যাপক জামাল হোসেনের স্ত্রী বর্তামানে এ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিরত আছেন। অধ্যাপক জামাল এখন তার স্ত্রীকে শিক্ষক বানাতে চাচ্ছেন। নিয়োগটি নিয়ে কিছু সমস্যা রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে রিজেন্ট বোর্ড সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উপাচার্য অধ্যাপক ড.কাজী রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, তার কাছ থেকে বিধিবহির্ভূত সুবিধা না নিতে পেরে বিভিন্ন হুমকি ধামকি দেয়াসহ নানা ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। কিন্তু তিনি নিয়ম ও আইনের বাইরে গিয়ে কোনো কাজ করবেন না।