নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে ৩৫ মণ জাটকা ইলিশ মাছ জব্দ করেছে পুলিশ। তবে জব্দকৃত মাছের প্রকৃত মালিককে শনাক্ত বা আটক করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কায়েসুর রহমানের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে জব্দকৃত ৩৫ মণ জাটকা ইলিশ মাছ উপজেলার বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রাসায় বিতরণ করা হয়। এ সময় বেগমগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাসুমা আক্তারসহ থানা পুলিশের একটি টিম উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুর থেকে ছেড়ে আসা নোয়াখালীর বেগমগঞ্জগামী একটি বাসে অভিযান চালিয়ে বেগমগঞ্জ এলাকায় এসব জাটকা জব্দ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেগমগঞ্জ এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় বাসের ভেতর থেকে অবৈধভাবে পরিবহন করা বিপুল পরিমাণ জাটকা মাছ উদ্ধার করা হয়। তবে মাছের প্রকৃত মালিককে শনাক্ত বা আটক করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আদালতের নির্দেশে জব্দকৃত ৩৫ মণ জাটকা উপজেলার বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রাসায় বিতরণ করা হয়।
এদিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কায়েসুর রহমান।
এ বিষয়ে সিনিয়র বেগমগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাসুমা আক্তার বলেন, জব্দকৃত জাটকার কোনো মালিককে পাওয়া যায়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহযোগিতা ও উপস্থিতিতে নিয়ম অনুযায়ী এসব মাছ বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রাসায় বিতরণ করা হয়েছে।
জাটকা সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে জাটকা ধরা, পরিবহন ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কায়েসুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জাটকা সংরক্ষণে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অবৈধভাবে জাটকা পরিবহন ও বিক্রির বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। উদ্ধারকৃত মাছ নিয়ম অনুযায়ী মানবিক বিবেচনায় বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রাসায় বিতরণ করা হয়েছে।