প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে উপজেলার সবত্রই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ট্র্যাক্টর বা কাঁকড়াগাড়ি। অবৈধ ট্র্যাক্টর বা কাঁকড়া গাড়ির বেপরোয়া চলাচলে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাচা পাকা সড়কগুলো এখন বেহাল দশায় পরিনত হয়েছে। ইটভাটাসহ বিভিন্ন অবকাঠামোতে আবাদি জমি থেকে মাটি পরিবহন করার কারনে সড়কগুলো অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে কাচা সড়কগুলো ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে ইটভাটা সংলগ্ন প্রায় আধা কিলোমিটার পর্যন্ত সড়কে ধুলাবালির কারণে পথচারীদের চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়িছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। ইতোমধ্যে ট্র্যাক্টর ধাক্কায় প্রাণ গেছে এক মোটরবাইক চালকের। শিশু শিক্ষার্থীদের স্কুলে পাঠিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন অভিভাবকরা।
ট্র্যাক্টর নামক এই গাড়িগুলোর নেই কোনো রেজিস্ট্রেশন নম্বর, রোড পারমিট এমনকি চালকের নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। সেই সঙ্গে চালকসহ ট্র্যাক্টরে যেসব শ্রমিক রয়েছ তার বেশিরভাগেই শিশু শ্রমিক। কৃষিপণ্য বা কৃষি উপকরণ সরবরাহের জন এসব গাড়ি ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছ। অথচ একশ্রেণীর অসাধু মালিক বা চালক দেশের বাইর থেকে এসব গাড়ি নিয়ে এসে বিধিবহির্ভূত তা ব্যবহার করছেন। গাড়িগুলা অত্যন্ত শক্তিশালী হওয়ায় যত্রতত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে ট্র্যাক্টরগুলা ইটভাটা থেকে ইট, বালু, মাটি সরবরাহের কাজে বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। উপজেলায় সেসব ট্র্যাক্টর চলছে, তার বেশিরভাগ ইটভাটা মালিকদের। ব্যক্তি মালিকানা ট্র্যাক্টরের সংখ্যা অনেক কম।
রামজীবন গ্রামের অভিভাবক রেজাউল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন ভোর থেকে বেশ কিছু সংখ্যক ট্র্যাক্টর স্থানীয় সড়কগুলো দিয়ে চলাচল করে। যে গতিতে গাড়িগুলো চলে তাতে করে ছেলেমেয়েকে একাই স্কুলে পাঠানো অত্যন্ত ঝুঁকি বা শঙ্কার। গাড়িগুলো চলাচলের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা একান্ত প্রয়োজন। গত বছর চারজন স্কুলগামী শিশু ট্র্যাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা গেছে। গত সপ্তাহে পৌরসভায় একজন মোটরবাইক চালকের মৃত্যু হয়েছে।
ট্র্যাক্টর মালিক আনারুল ইসলাম বলেন, বছরের প্রায় ছয় মাস ট্র্যাক্টরের চাহিদা থাকে। বাকি সময়ে মাঝে মধ্যে ভাড়া হয়, তা না হলে বসে থাকতে হয়। ইটভাটা, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি মালিকানা অবকাঠানো নির্মাণের জন্য ইট, বালু ও মাটি সরবরাহের কাজ ট্র্যাক্টর ব্যবহার করা হয়। মাটি সরবরাহের সময় কাচা সড়কগুলোতে সামন্য খান-খন্দের সৃষ্টি হলে, তা ঠিক করে দেয়া হয়। সড়ক দুর্ঘটনা তো নিজের ইচ্ছায় হয় না।
ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক মো. আব্দুল মালেক বলেন, গ্রামগঞ্জে পণ্য সরবরাহের জন্য ট্র্যাক্টরের বিকল্প অন্য কোনো যানবাহন নেই। সে কারণে দীর্ঘদিন ধরে এর ব্যবহার হয়ে আসছে। সড়কগুলোর যে ক্ষতি হয়, তা সঙ্গে সঙ্গে মেরামত করে দেয়া হয়। পেটের দায়ে শিশু শ্রমিকরা কাজ করেন। এখানে তো করার কিছু নেই। তবে ইটভাটা মালিকদের এ ব্যাপারে আরও সর্তক হতে হবে।
থানার ওসি মো. তাজুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি যানবাহনের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম-কানুন বিদ্যামান রয়েছে। প্রত্যেকের উচিত সেসব নিয়ম মেনে যানবাহন চালানো। এসব ক্ষেত্রে আমাদের অনেক ঘাটতি রয়েছে। বেপরোয়া গতিতে সারাদিন এসব গাড়ি চলাচল করলে স্কুলগামী শিশু শিক্ষার্থীদের সড়ক দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকতে পারে।
সহকারী কমিশনার ভূমি চৌধুরী আল মাহমুদ বলেন, ট্র্যাক্টরের মাধ্যমে আবাদি জমি থেকে ইটভাটায় মাটি সরবরাহ করা সম্পূর্ণরূপে বেআইনি। ইতোমধ্যে অভিযোগের ভিত্তিতে বেশ কিছু সংখ্যক গাড়ি আটক করে ভ্রামম্যাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তাৎক্ষলিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অর্থ-বাণিজ্য: শেয়ারবাজারে বড় উত্থান, বেড়েছে লেনদেনও
অর্থ-বাণিজ্য: ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার
আন্তর্জাতিক: ইরানে ট্রাম্পের জয়ের সহজ কোনো পথ নেই
সারাদেশ: বাগাতিপাড়ায় যুবক নিখোঁজ