image
ছবিঃ সংগৃহীত

ঘন কুয়াশায় ধানের বীজতলায় ব্যাপক ক্ষতি

প্রতিনিধি, শেরপুর (বগুড়া)

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় বোরো ধানের বীজতলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সূর্যের আলো না থাকা এবং তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম থাকায় চারার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। এতে নির্ধারিত সময়ে বোরো চারা রোপণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। একই সঙ্গে আলু ও সরিষা চাষেও দেখা দিয়েছে বড় ধরনের ঝুঁকি।

উপজেলার শাহবন্দেগি ইউনিয়নের ঘোলাগাড়ি, কুসুম্বি ইউনিয়নের আমন, বাগড়া ও খানপুর ইউনিয়নের খাগা এবং মির্জাপুর ইউনিয়নের মাকরখোলা এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক বীজতলায় চারাগাছ হলদে হয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও চারার গোড়া পচে গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে অনেক কৃষক নতুন করে বীজতলা তৈরির চিন্তায় পড়েছেন।

মির্জাপুর ইউনিয়নের কৃষক রফিক জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে বীজতলা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু কয়েকদিনের তীব্র শীতে চারাগাছ ঠিকমতো বাড়ছে না। অনেক জায়গায় পাতা হলদে হয়ে গেছে এবং কিছু অংশ পচে যাচ্ছে। খানপুর ইউনিয়নের খাগা গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তাদের এলাকায় অনেক কৃষকের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। কুয়াশার ক্ষতি কমাতে পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে শেরপুর উপজেলায় ২০ হাজার ৪৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮৬ হাজার ৮৬৪ মেট্রিক টন। এজন্য ৮৭৭ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীত আলু চাষেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, শীত ও কুয়াশার সময় বোরো বীজতলা স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। সকালে চারার ওপর জমে থাকা শিশির ঝরিয়ে দিতে বলা হয়েছে। আলুর ক্ষেত্রে রোগের পূর্বাভাস পাওয়া গেলে সাত দিন পরপর অনুমোদিত ছত্রাকনাশক নির্দিষ্ট মাত্রায় স্প্রে করতে হবে।

সম্প্রতি