image
চকরিয়া (কক্সবাজার): জমিতে চাষ নিয়ে ব্যস্ত কৃষকরা -সংবাদ

চকরিয়ায় বোরো আবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক

প্রতিনিধি, চকরিয়া (কক্সবাজার)

পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুইটি রাবার ড্যাম যথাসময়ে ফুলানোর মাধ্যমে মাতামুহুরী নদীর মিঠাপানির সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবার বদৌলতে কক্সবাজারের চকরিয়ায় চলতি মৌসুমে পুরোদমে শুরু হয়েছে বোরোধান চাষ। বীজতলা তৈরির কাজ শেষে জমিতে চাষ দিয়ে ডিসেম্বর মাসের শেষদিকে রোপণ শুরু হয়েছে। বর্তমানে উপজেলার প্রভৃতি এলাকায় বোরো আবাদ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

চকরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চলতি মৌসুমে উপজেলার ১৮ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকায় ৫৫ ব্লকের আওতায় ১৭ হাজার ৬৯০ হেক্টর (৪৪২২৫ একর) জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। এখন গৃহীত লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা চাষের সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিং করছেন।

গত শনিবার উপজেলার কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন, আবার কেউ কেউ জমিতে শেষবারের মতো মই দিয়ে চাষের উপযোগী করছেন।

মাতামুহুরী নদীর পালাকাটা ও বাঘগুজারা পয়েন্টের রাবার ড্যাম দুটি ফুলানোর পর নদীতে বেড়েছে মিঠাপানির উৎস। নদীর তীরে বিভিন্ন মোকামে শ্যালো মেশিন বসিয়ে কৃষকেরা চাষের জমিতে নিরবচ্ছিন্নভাবে সেচ সুবিধা নিচ্ছে।

জানা গেছে, চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার নভেম্বর মাসের শুরুতে সরেজমিন ঘুরে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে মাতামুহুরী নদীর রাবার ড্যাম দুটি দ্রুতসময়ে সচল করার তাগাদা দিয়েছেন।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে পাউবো কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলামের তড়িৎ পদক্ষেপে এ বছর যথাসময়ে রাবার ড্যাম দুটি ফুলানো সম্ভব হওয়ায় নদীতে মিঠাপানির প্রবাহ তৈরি হয়েছে। তাতে মিঠাপানির সেচ সুবিধা নিশ্চিত হয়েছে। তাছাড়া আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ডিঙিয়ে অতিরিক্ত চাষের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি অফিসার শাহনাজ ফেরদৌসী।

সরেজমিন দেখা গেছে, চকরিয়া উপজেলার হারবাং, বরইতলী, কৈয়ারবিল, লক্ষ্যারচর, সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকরা, বমু বিলছড়ি, ফাসিয়াখালী, ডুলাহাজারা, খুটাখালী, চিরিংগা, সাহারবিল, বিএমচর, পূর্ব বড় ভেওলা, পশ্চিম বড় ভেওলা, কোনাখালী, ঢেমুশিয়া, বদরখালী ইউনিয়ন এবং চকরিয়া পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় পুরোদমে বোরো আবাদ শুরু হয়েছে।

বেশির ভাগ জমিতে কৃষকরা হাইব্রিড ব্রি-ধান ৯২, ৭৪, ৮৭ ও ১০০ জাতের চারা রোপণ করছেন। পাশাপাশি অনেক কৃষক উপশী ও স্থানীয় জাতের ধান রোপণ করছেন। তবে বেশির ভাগ কৃষক উপশী জাতের চেয়ে হাইব্রিড জাতের ধান চাষে বেশি আগ্রহী। কারণ হাইব্রিড জাতে ফলন বেশি হয়।

চকরিয়া উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি অফিসার (হিসাব ও উন্নয়ন) মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১৮ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকায় মোট ১৭ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চাষের আগে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন এলাকায় সুফলভোগী কৃষকদের মাঝে সরকারিভাবে বিনামূল্যে সার ও ধান বীজ দেয়া হয়েছে। সাহারবিল ইউনিয়নের কোরালখালী এলাকার কৃষক আমির হামজা বলেন, গতবারের মতো এবারও ২ একর জমি বর্গা নিয়ে বোরো চাষ শুরু করেছেন। ট্রাক্টর দিয়ে জমিতে চাষ দিয়েছেন। এবছর প্রথমবারের মতো বিএডিসির সেচ স্কিমের মাধ্যমে জমিতে পানি সুবিধা নিচ্ছে। ১২ দিন আগে জমিতে হাইব্রিড জাতের ধান চারা রোপণ করছেন। তিনি বলেন, এখন পরিচর্যার কাজ করছি। আশা করছি, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলন ঘরে তুলতে পারবো।

বরইতলী গোবিন্দপুর এলাকার কৃষক রুহুল আমিন বলেন, নিজের জমিতে বছরে দুইবার আমন ও বোরো চাষ করে আসছি দীর্ঘ সময় ধরে। আমন মৌসুমে পানি নিয়ে দুর্ভোগ থাকে না। কিন্তু শুকনো মৌসুমে সেচের পানি নিয়ে সমস্যা তৈরি হয় কমবেশি কৃষকের। তিনি বলেন, গ্রামের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত ছরাখালে শুকনো মৌসুমে পানির প্রবাহ কম থাকায় সেচের পানি নিয়ে এই সমস্যা বেশি হয়।

ফলে আমার মতো আশপাশের কৃষকরা মিলেমিশে নিজেরাই মাটির বাঁধ দিয়ে ছড়াখালে পানি সংরক্ষণ করে শ্যালো মেশিন বসিয়ে চাষাবাদ করে। এভাবে আমাদের প্রতি কানি (৪০ শতক) জমিতে সেচ খরচ গুনতে হয় ৩,৫০০ টাকা থেকে চার হাজার টাকা করে।

চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহনাজ ফেরদৌসী বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৭ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। ডিসেম্বর মাস থেকে পুরোদমে চাষ শুরু হয়। মাঠে নিয়োজিত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ১১ হাজার হেক্টর জমিতে রোপণ হয়েছে। আশা করছি, এ মাসের মধ্যে পুরো জমিতে বোরো রোপণ শেষ হবে। তিনি বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং মাতামুহুরী নদীতে রাবার ড্যাম দুটি ফুলানোর মাধ্যমে মিঠাপানির সেচ সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় এ বছর বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ডিঙিয়ে অতিরিক্ত চাষের সম্ভাবনার পাশাপাশি ভালো ফলনেরও আশা করা হচ্ছে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» শ্রীমঙ্গলে কারখানায় বিস্ফোরণে নিহত ১, আহত ৩

» কটিয়াদীতে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে দোয়া

সম্প্রতি