মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় নিজ ঘর থেকে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার, (১৯ জানুয়ারী ২০২৬) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজানগর গ্রামের নুরুজ্জামানের বাড়ির দুচালা টিনের ঘরের একটি কক্ষ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন- আমেনা বেগম (৩২) ও তার মেয়ে মরিয়ম (৮)। আমেনা বরিশালের বাসিন্দা কাঠমিস্ত্রি মিজান মিয়ার স্ত্রী।
পুলিশ ধারণা করছে, সোমবার ভোর রাত থেকে সকাল ১০টার মধ্যে যে কোনো সময়ে হত্যাকা-টি সংঘটিত হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, নুরুজ্জামানের বাড়ির এক ভাড়াটিয়া সোমবার বেলা ১১টার দিকে আমেনার ঘরের দরজা বন্ধ দেখে ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে সন্দেহ হলে আশপাশের লোকজনকে জানান। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মেঝেতে পড়ে থাকা মা ও মেয়ের মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
জানা গেছে, আমেনা বেগম প্রায় ৪ মাস ধরে পরিবারসহ ওই ঘরে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন। পাশের কক্ষে মোহাম্মদ আলী নামে এক যুবক ভাড়া থাকতেন। ঘটনার দিন সকাল থেকে আমেনার স্বামী মিজান মিয়া ও ওই যুবকের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিহত আমেনার বোন ফাতেমা জানান, পাশের কক্ষে থাকা যুবকটি মাদকসেবী ছিলেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। ঘটনার পর থেকে তিনিও নিখোঁজ রয়েছেন।
বাড়ির মালিক মো. নুরুজ্জামান (৬৫) বলেন, সকাল থেকে ঘর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে বিষয়টি স্থানীয়দের জানান। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
সিরাজদিখান থানার ওসি মো. আব্দুল হান্নান জানান, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহ বা পরকীয়াজনিত কারণে হত্যাকা-টি ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতদের মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং ঘটনাস্থল থেকে একটি কাঠের খ- উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ মরদেহ দুটির সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম বলেন, হত্যাকা-ের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে। ঘটনার পর থেকে নিহত আমেনার স্বামী মিজান মিয়া ও মোহাম্মদ আলী পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
‘