image
ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

রংপুরে টিসিবির ডিডির বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ

প্রতিনিধি, পীরগাছা (রংপুর)

রংপুরে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) পরিচালিত ফ্যামিলি স্মার্টকার্ড কর্মসূচিতে ঘুষ, অনিয়ম ও স্বচ্ছতার অভাবের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ডিলারদের অভিযোগ, টিসিবির পণ্য উত্তোলনের সময় বিশেষ করে ফ্রেশ ভোজ্যতেল পেতে উপ-পরিচালককে সন্তুষ্ট করতে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক হাবীবুর রহমান ও স্টোর কিপার ইলিয়াসের বিরুদ্ধে।

টিসিবি সূত্রে জানা যায়, রংপুর আঞ্চলিক অফিসের অধীনে রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায় টিসিবির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই চার জেলায় এক সময় সুবিধাভোগীর সংখ্যা ছিল ৮ লাখ ২১ হাজার ৬০৩ জন। স্মার্টকার্ড ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তির পর বর্তমানে এ সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮ হাজার ৬৯৯ জনে। এসব পণ্য বিতরণে রংপুরে ৩৭৭ জন, কুড়িগ্রামে ১৬৩ জন, নীলফামারীতে ৮৩ জন এবং লালমনিরহাটে ৭৮ জন ডিলার নিয়োজিত রয়েছেন।

ডিলারদের অভিযোগ, টিসিবির সরবরাহকৃত ভোজ্যতেলের মান একরকম নয়। ফ্রেশ, ফ্যামিলি ও রাইস ব্রান এই তিন ধরনের তেল সরবরাহ করা হলেও সবগুলো একই দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে ফ্যামিলি ও রাইস ব্রান তেলে জমাট বাঁধা ও দুর্গন্ধের অভিযোগ রয়েছে, যা নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ডিলার জানান, ফ্রেশ তেল পেতে ডিলারপ্রতি ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। নির্ধারিত অর্থের চেয়ে কম দিলে আংশিক ফ্রেশ ও আংশিক ফ্যামিলি বা রাইস ব্রান তেল দেওয়া হয়। গত ডিসেম্বর মাসের বিতরণে রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার কান্দি ইউনিয়নে রিয়া ট্রেডার্স, রাজা ট্রেডার্স এবং পীরগাছা সদর ইউনিয়নের এনায়েত ট্রেডার্স ফ্রেশ তেল পেলেও অন্যান্য অনেক ডিলার আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ফ্যামিলি ও রাইস ব্রান তেল পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে স্মার্টকার্ড রি-ইস্যু ও রি-একটিভেশন প্রক্রিয়াতেও ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা জানান, স্মার্টকার্ড হারিয়ে গেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কার্ড না পাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে কার্ড বাতিল হয়ে যাচ্ছে। ফলে পুনরায় রি-একটিভেশনের জন্য আবেদন করতে হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী রি-ইস্যু ফি ১০৫ টাকা হলেও বাস্তবে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। রি-একটিভেশনের ক্ষেত্রেও সরকারি কোনো ফি না থাকলেও একই অঙ্কের টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বর্তমানে চার জেলার ৬ লাখ ৮ হাজার ৬৯৯ জন সুবিধাভোগীর মাঝে চাল, ডাল, চিনি ও তেলসহ নির্ধারিত পণ্য ৫৪০ টাকায় বিতরণ করা হচ্ছে। তবে একই এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন মানের তেল সরবরাহ এবং অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে উন্নতমানের তেল দেয়ার অভিযোগ কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ডিলার জানান, রংপুরের টিসিবির উপ-পরিচালক হাবীবুর রহমানকে ডিলার প্রতি ফ্রেশ তেল নিতে গুনতে হয় ১২শ থেকে দুই হাজার টাকা ঘুষ।

চাহিদার চেয়ে কম টাকা দিলে কিছু ফ্রেশ আর কিছু ফ্যামিলি ও রাইস ব্রান দেন। গত ডিসেম্বর মাসের বিতরণে রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার কান্দি ইউনিয়নে রিয়া, রাজা ও পীরগাছা সদর ইউনিয়নে এনায়েত ট্রেডার্স ফ্রেশ তেল পেয়েছে, আর বাকিরা কেউ কেউ কিছু ফ্রেশ কিছু রাইস ব্রান ও ফ্যামিলি, আবার কেউ সম্পূর্ণটাই রাইস ব্রান ও ফ্যামিলি দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে টিসিবির উপ-পরিচালক হাবীবুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘টাকা লেনদেনের যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমি সব ডিলারকে সমানভাবে পণ্য সরবরাহ করছি। কোথাও অনিয়ম হলে ডিলারদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সচেতন মহলের মতে, এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে সরকারের ভর্তুকিপ্রাপ্ত এই কর্মসূচির ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সম্প্রতি