কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে খালের মুখ ভরাট করে খাল দখল করায় হাওরের পানি নিস্কাশন হতে পারছে না। এতে ভোলাডুবা হাওরের অন্তত এক হাজার একর বোরো জমি জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। যেখানে বোরো ধানের চারা রোপণের কথা, সেখানে এখন হাঁটু ও কোমর সমান পানি রয়েছে। সময় মতো জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ করতে না পারলে বেরো আবাদের ক্ষতি হবে। এ নিয়ে কয়েকশত কৃষক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন। ১৫ বছর ধরে কৃষকরা ক্ষতির শিকার হয়ে আসলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ না নেয়ায় কৃষকদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার গুনধর ইউনিয়নের ভোলাডুবা হাওরের অবস্থান। প্রাচীনকাল থেকেই এ হাওরের পানি ভোলাডুবা খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ধনু নদীতে পড়ে আসছে। কিন্তু হাওরের পানি যে খাল দিয়ে নদীতে নামার কথা সেখানে ভরাট করায় পানি নামতে পারছে না। খালের মুখ ভরাট করে দখলদাররা তিন কিলোমিটার খাল দখলে নিয়ে সেখানে বোরো আবাদ করেছেন। পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ হাওরের বোরো জমি এখন জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত। বোরো ধানের চারা রোপনের মৌসুম চললেও সেখানে এখন হাঁটু ও কোমর পানিতে নিমজ্জিত। কৃষকরা জানিয়েছেন বোরো ধানের চারা রোপণ করার সময় চলে যাচ্ছে। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে ওই হাওরের বোরো জমি এখনও পানির নিচে। কোনো কোনো জমি হাঁটু ও কোমর পানিতে নিমজ্জিত। এ অবস্থায় কৃষকরা তাদের জমি কীভাবে আবাদ করবেন সে চিন্তায় অস্থির হয়ে পড়েছেন। কৃষকরা জানিয়েছেন, ১৫ বছর আগে খালের মুখ ভরাট করায় কৃষকরা এ সমস্যায় মুখে পড়েছেন। খালের মুখ ভরাট করে খালটি দখলদারদের কবলে পড়ায় মাঘ মাসেও জলাবদ্ধতার কারণে জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ করতে পারছেন না। আবার বৈশাখ মাসে সামান্য বৃষ্টি হলেই সেখানের কাঁচা ও আধাপাকা বোরো জমি পানিতে তলিয়ে যায়। জলাবদ্ধতার কারণে বোরো চারা রোপণ করতে যেমন সমস্যা, ঠিক বৈশাখ মাসে বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে কাঁচা ও আধাপাকা বোরো ফসলের ক্ষতি হয়ে আসছে। বৃষ্টিতে পাকা বেরো ধান জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেলে ২০২৪ সালের ২০ এপ্রিল সংবাদে সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। পরদিন সংবাদে ‘ভোলাডুবা হাওরের বোরো খেতের পানি নিষ্কাশনে ব্যবস্থা নিন’ শিরোনামে সম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়। তৎকালীন করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার (বর্তমানেও কর্মরত) বিষয়টি কমিটির মাধ্যমে দ্রুত তদন্ত করে খাল খননের উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু পৌনে দুই বছর পার হলেও এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই। এখন কৃষকরা জলাবদ্ধতার কারণে বোরো ধানের জমিতে ধানের চারা রোপণ করতে পারছেন না। এ অবস্থার জন্য প্রশাসনের উদাসীনতাকে দায়ি করছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। কৃষকরা আরো জানিয়েছেন, চার বছর আগে খালটি খননের উদ্যোগ নিয়েছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড। খালটির সামান্য অংশ খননও করা হয়েছিল। দখলদারদের বাধায় খালটি খনন না করেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার উধাও হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের উদাসীনতা দেখছেন কৃষকরা। কারণ প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ নিলে খালটি খনন করা যেতো।
গুনধর ইউনিয়নের আশতকা গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম রুবেল ভূঁইয়া জানান, খালের মুখ ভরাট ও দখলের কারণে তিনি ১৫ বছর ধরে বোরো আবাদ নিয়ে বিপাকে পড়ে আসছেন। এখন বোরো ধান সবুজ রং ধারণ করার কথা। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে বোরো ধানের চারা রোপণ করতে পারছেন না। এ হাওরের বেশ কয়েকজন কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, জলাবদ্ধতার কারণে তাদের বোরো আবাদের ক্ষতি হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না।
জয়কার খোঁজার গাও গ্রামের সমাজকর্মী মো. জাকারিয়া বলেন, খালের মুখ ভরাট করে খালটিকে অবৈধভাবে দখল করায় শতশত কৃষকের ক্ষতি হচ্ছে। তিনি দ্রুত খালটি খনন করে কৃষকদের সমস্যাটি সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। করিমগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অপূর্ব চন্দ্র ধর জানান, সেচ প্রকল্পগুলো মূলত বিএডিসি নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। বিষয়টির খোঁজখবর নিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।
সারাদেশ: সামুদ্রিক কচ্ছপ উদ্ধারের পর অবমুক্ত