রাজধানীর বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও ভাড়াটিয়া-বাড়িওয়ালার সম্পর্ক স্বচ্ছ ও ন্যায্য করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ভাড়াভিত্তিক নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, একবার ভাড়া নির্ধারণ হয়ে গেলে দুই বছরের মধ্যেই বাড়িভাড়া বাড়ানো যাবে না, এবং বাড়িভাড়ার বার্ষিক পরিমাণ সম্পত্তির বাজারমূল্যের ১৫ % এর বেশি হতে পারবে না।
ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) গুলশানে নগর ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই নির্দেশিকা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালাদের দায়িত্ব, অধিকার ও করণীয় উভয়েরই সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
নতুন নির্দেশিকার মূল পয়েন্টগুলো হচ্ছে, একবার ভাড়া নির্ধারিত হলে পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে কোনো পরিস্থিতিতেই বাড়িভাড়া বাড়ানো যাবে না। দুই বছর পর অবশ্যই ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালার দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ভিত্তিতে মূল্য সমন্বয় করা যাবে।
দ্বিতীয়ত, বাড়িভাড়ার বার্ষিক বৃদ্ধি ঐ বাড়ির বাজারমূল্যের ১৫ % এর বেশি হতে পারবে না। যা ভাড়াটিয়াদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তৃতীয়ত, ভাড়াটিয়াকে প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ভাড়া প্রদান করতে হবে। বাড়িওয়ালা অবশ্যই লিখিত রসিদ দিতে বাধ্য থাকবেন।
চতুর্থত, ভাড়াটিয়া যে কোনো সময় বাসায় প্রবেশ করতে পারবে এবং বাড়ির সার্বিক নিরাপত্তা ও পরিষেবাগুলো ঠিকভাবে বজায় রাখতে বাড়িওয়ালাকে বাধ্য করা হয়েছে।
পঞ্চমত, স্থানীয় ওয়ার্ডভিত্তিক বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়া সমিতির মাধ্যমে প্রথম অবস্থায় সমস্যা সমাধান করার পরও যদি দ্বন্দ্ব অব্যাহত থাকে, তা ডিএনসিসি’র আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করা যাবে।
ডিএনসিসি জানায়, রাজধানীতে ব্যাপক ভাড়া-বৃদ্ধি ও অসংগঠিত বাড়ি ভাড়ার কারণে ভাড়াটিয়াদের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে, অনেক পরিবার আয়ের বড় অংশই ভাড়ায় ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছে। নিয়মিত ভাড়া বৃদ্ধির অভ্যাস লক্ষ্য করার পর ও ভাড়াভিত্তিক আইনের প্রয়োগে অসংগতি থাকায় এই নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে।
ডিএনসিসি প্রশাসক এজাজ বলেন, “একটি বাসায় মানুষের বসবাস সুরক্ষিত হতে হবে; বাড়িভাড়া নির্ধারণের সময় বাসাটির মান, সুবিধাদি এবং বাজারগত মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
নতুন নিয়ম বাস্তবায়িত হলে বাসা ভাড়ায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, ভাড়াটিয়াদের আর্থিক চাপ হ্রাস ও বাড়িওয়ালাদের দায়িত্বপূর্ণ কর্তব্য পালনের মাধ্যমে ভাড়া-সম্পর্কিত বিরোধ কমবে—এমন প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সারাদেশ: সামুদ্রিক কচ্ছপ উদ্ধারের পর অবমুক্ত