দেওয়ানগঞ্জ বাজার রেলওয়ে স্টেশনের পাওয়ার হাউস ডিপার্টমেন্টের বৈদ্যুতিক মিটার হতে শতাধিক চোরাই লাইন ছড়িয়ে গেছে অত্র এলাকার ছোট-বড় মুদি দোকান, রেস্টুরেন্ট, আবাসিক বাড়িসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। এসব অবৈধ বৈদ্যুতিক লাইনের বিল গুনছে রেল কর্তৃপক্ষ। ১৫ বছরের অধিক সময় ধরে ধরা ছোঁয়ার বাইরে চোরাই লাইনের সিন্ডিকেট।
খালেদা বেগম দেওয়ানগঞ্জ বাজার রেলওয়ে স্টেশন কলোনিতে থাকেন। তার ঘরে বৈদ্যুতিক পাখা, বাল্ব, টিভি, ফ্রিজসহ সব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চলছে। কিন্তু নেই বৈদ্যুতিক মিটার। প্রতি মাসে কতো টাকা বিদ্যুৎ বিল গুনতে হয় তিনি জানেন না। কারণ তার ছেলে আলামিন ঢাকায় চাকরি করে সেখান থেকেই রেলের কোনো একজনকে মোবাইলে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেন। পাশের কোয়ার্টের থাকেন শহিদ মিয়া, তার ঘরেও বৈদ্যুতিক সংযোগ আছে। নেই মিটার। তার স্ত্রী রহিমা বিলের বিষয়ে জানান, স্টেশনের স্বপন দাদা প্রতি মাসে ২০০ টাকা বিল নেয়। সারা মাস বিদ্যুৎ চালাই। এরকম অবৈধ বৈদ্যুতিক লাইন কোথায়-কোথায় আছে খুঁজতে গিয়ে দেখা যায়, বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রদ্যোৎনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্টেশন সংলগ্ন ডালবাড়ি, পাওয়ার হাউস সংলগ্ন হরিজন পট্টিসহ রেল কলোনির অধিকাংশ বাড়িতে বৈদ্যুতিক সংযোগ আছে মিটার নেই।
এসব অবৈধ দৈ্যুতিক সংযোগের বিল উত্তোলনকারী কে এই স্বপন? জানতে চাইলে সুবিধাভোগীদের কেউই ঠিকমতে পরিচয় দেয় না। শুধু বলে সে স্টেশনের বিদ্যুতের লোক। অনুসন্ধানে বেড়িয়ে আসে স্বপন কুমার মন্ডল ওরফে স্বপন দেওয়ানগঞ্জ বাজার রেলওয়ে স্টেশনের পাওয়ার হাউস ডিপার্টমেন্টের সহকারী ওয়্যারিং ম্যান। তিনিই সব চোরাই লাইনগুলো পরিচালনা করেন এবং বিল উঠান। রেলওয়ে স্টেশনের পাওয়ার হাউস ডিপার্টমেন্টের বৈদ্যুতিক মিটার হতে মিটার বিহীন বৈদ্যুতিক লাইন ব্যাবহারের নিয়ম আছে কী না, জানতে চাইলে স্বপন স্বপন কুমার মন্ডল বলেন, স্থানীয় কয়েকজনের শেল্টারে লাইনগুলো চলে। তারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকেন এবং মাসিক বাটোয়ারায় শরিক হয়। আরও জানান, তিনি স্থানীয় রাজনীতির শিকার তিনি, তারকরার কিছুই নেই।
স্টেশনমাস্টার আব্দুল বাতেন বলেন, পাওয়ার হাউস ডিপার্টমেন্টটি আলাদাভাবে দেখাশোনা করা হয়। তাই চোরাই লাইনগুলোর বিষয়ে জানেন না। তবে একজন স্টেশন মাস্টার হিসেবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাবেন বলে জানান।
সারাদেশ: সামুদ্রিক কচ্ছপ উদ্ধারের পর অবমুক্ত