image
সিরাজগঞ্জ : ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ট্রাকচালকদের বিশ্রামাগার -সংবাদ

সিরাজগঞ্জে চালকদের বিশ্রামাগার মাদকসেবীদের আড্ডায় পরিণত

জেলা বার্তা পরিবেশক, সিরাজগঞ্জ

ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় দূরপাল্লার পণ্যবাহী ট্রাকচালকদের জন্য ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিশ্রামাগারটি এখন পর্যন্ত চালু হয়নি। নির্মাণের ৫ বছর পার হলেও চালু না হওয়ায় বর্তমানে ট্রাক টার্মিনালটির সামনের অংশ ধান শুকানো ও গরু রাখার কাজে ব্যবহার করছেন স্থানীয়রা। রাতে টার্মিনালটি মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় ভবনের বিভিন্ন জিনিসপত্র চুরি হয়ে যাচ্ছে।

জানা যায়, উল্লাপাড়ার পাঁচলিয়ায় ট্রাক পার্কিং ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বিশ্রামাগারটি মহাসড়কের পাশে ১৩ একর জায়গার ওপরে গড়ে তোলা বিশ্রামাগারটিতে দূরপাল্লার ট্রাকচালকদের জন্য শয়নকক্ষ, ক্যান্টিন, গোসলখানা, নামাজের জায়গা, প্রাথমিক চিকিৎসা সেবাকক্ষ ও সার্ভিসিং সুবিধা থাকার কথা থাকলেও এটি চালু না হওয়ায় এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন চালকরা। টেকসই ও নিরাপদ মহাসড়কের পাশে নির্মিত যমুনা সেতুর পশ্চিমে চারটি মহাসড়কের পাশে দূরপাল্লার পণ্যবাহী ট্রাকচালকদের জন্য বিশ্রামাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেয় সড়ক বিভাগ। পরে পাঁচলিয়ায় ২০২০ সালে ১৩ একর জায়গার ওপর গড়ে তোলা হয় আধুনিক টার্মিনালটি। যেখানে ১০০ ট্রাক পার্কিংয়ের ব্যবস্থা, চালকের জন্য শয়নকক্ষ, ক্যান্টিন, গোসলখানা, নামাজের জায়গা, প্রাথমিক চিকিৎসা সেবাকক্ষ, যানবাহনের ত্রুটি মেরামতের জন্য ওয়ার্কসশ, ওয়াশজোন থাকার কথা। কিন্তু নির্মাণের ৫ বছর পার হলেও চালু হয়নি ট্রাক টার্মিনালটি।

পাঁচলিয়া বাজারে মুদিখানা দোকানদার শফিক বলেন, অনেক দিন ধরে টার্মিনালটি নির্মাণ হয়েছে। চালু না হওয়ায় রাতে অনেক মাদকসেবীরা টার্মিনালের ভেতরে চলাচল করে। ভেতরে কেউ না থাকায় মাদকসেবীদের আড্ডায় পরিণত হয়েছে।

রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী ট্রাকচালক আবু বক্কার বলেন, অনেক সময় গাড়ি চালিয়ে শরীর খারাপ লাগে। মহাসড়কের পাশে টার্মিনালের বিশ্রামাগারটি চালু না হওয়ায় এর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেক চালকরা। অনেক সময় হোটেলের সামনে অথবা রাস্তার ওপর ট্রাক থামিয়ে বিশ্রাম নেয়া হয়। ট্রাক থামিয়ে ঘুমিয়ে পড়লে অনেক সময় তেল ও মালামাল চুরিসহ নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

চট্টগ্রাম থেকে আসা পাবনাগামী পণ্যবাহী ট্রাক চালক শুক্কুর আলী বলেন, মহাসড়ক দিয়ে চলাচলের সময় বিশ্রামাগারটি দেখতে পায়। তবে দীর্ঘদিন ধরে ট্রাক টার্মিনালটি চালু না হওয়ায় অযতœ আর অবহেলায় পড়ে আছে। এটি থেকে আমরা কোনো সুবিধা নিতে পারছি না। এসব সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত টার্মিনালটি চালুর দাবি জানান তিনি।

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, থানা এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে। পাশাপাশি অপরাধ প্রবন এলাকা চিহ্নিত করে অপরাধ নির্মূলের চেষ্টার সঙ্গে মহাসড়কে যানযট নিরশনে সর্বোচ্চ কাজ করা হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইমরান ফারহান সুমেল বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ইজারা পদ্ধতির মাধ্যমে টার্মিনালটি চালুর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। চালকের সুবিধার কথা চিন্তা করে টার্মিনালটি চালু করা হবে। নির্মিত বিশ্রামাগারটির জন্য প্রথমে নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। পরে প্রকল্পের কিছু কাজ বর্ধিত করার জন্য বাড়তি ১৩ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানো হয় বলে তিনি জানিয়েছেন।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি