image
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) : বাদাম চাষের ফলে সুবজে ভরে উঠেছে তিস্তার ধু ধু বালুচর -সংবাদ

সুন্দরগঞ্জে তিস্তার বালু চরে বাদাম চাষ, বাম্পার ফলনের সম্ভবনা

প্রতিনিধি, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)

কাপাসিয়া ইউনিয়নের বাদামের চরের রুহুল আমিন বলেন, তিস্তার বালু চরে নানাবিধ সবজি ও ফসলের চাষাবাদ করে এখন অনেকে সাবলম্বী। উজান থেকে আসা পলি জমে তিস্তা পরিণত হয়েছে আবাদি জমিতে। তিস্তার ধু ধু বালুচর এখন সবুজের ভরে উঠেছে। তিনি চলতি মৌসুমে ছয় বিঘা জমিতে চিনাবাদাম চাষ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা। ফলনও ভাল হয়েছে। তিনি আশাবাদী আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ছয় বিঘা জমিতে প্রায় ১০৮ মণ বাদাম হবে। যার বর্তমান বাজার দর ২ লাখ ১৬ হাজার টাকা। খরচ বাদে তার দেড় লাখ টাকা লাভ হবে। তিনি মনে করেন ৬ মাসে চরের কৃষকরা গম, ভুট্টা, তরমুজ, বাদাম, তিল, তিশি, সোয়াবিন, আলু, মরিচ, পেঁয়াজ, কুমড়া চাষাবাদ করে এক বছর সংসার চালানোর সম্পদ জোগার করবেন।

তারাপুরের লাঠশালা চরের আরেক চাষি শফিকুল ইসলাম বলেন, বাদাম চাষে অল্প খরর কিন্তু লাভ বেশি। পলি জমে চরের মাটি উর্বর হওয়ায় ফলন ভালো হচ্ছে। অল্প খরচে অধিক লাভের আশায় তিনি প্রতি বছর বাদাম চাষাবাদ করে আসছেন।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রববাহিত ভরা তিস্তা নদী মরায় পরিনত হয়েছে। প্রতি বছর হাজারও একর জমি নদীতে বিলিন হলেও অন্যপ্রান্তে চর হয়ে জেগে উঠে ওইসব জমি। সেই জমিতে চাষাবাদ করছেন চরবাসি। চরের জমি জিরাত খুয়ে যাওয়া পরিবারগুলে ৬ মাসের জন্য চরে ফিরে এসে তাদের বাপ-দাদার জমিতে নানাবিধ ফসল চাষাবাদ করছেন। গোটা চরাঞ্চল এখন পরিণত হয়েছে আবাদি জমিতে।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে তিস্তার চরাঞ্চলে ১৭৬ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে; যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। ইতোমধ্যে ফলন আসতে শুরু করেছে।

কাপাসিয়া চরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. লিটন মিয়া জানান, চলতি মৌসুমে কাপাসিয়া চরে সবচেয়ে বেশি বাদাম চাষ হয়েছে। কাপাসিয়ার বাদারে চর ভরে উঠেছে বাদামে। কৃষি অধিদপ্তরের পরামর্শ নিয়ে বাদাম চাষ করছেন কৃষকরা। অনেক কৃষককে উন্নত জাতে বাদামের প্রদশনী দেয়া হয়েছে।

হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজহারুল ইসলাম বলেন, চরের মানুষের আগামী ৬ মাস কোনো কষ্ট নেই। তারা বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করে সুন্দরভাবে সংসার পরিচালনা করতে পারবেন। কারণ চরের জমি এখন চাষযোগ্য হয়ে উঠেছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. রাশিদুল কবির জানান, প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় চরের কৃষকদের তুলনামুলকভাবে বেশি পরিমাণে বিভিন্ন ফসলের বীজ ও সার প্রদান করা হয়েছে। নানাবিধ ফসল চাষাবাদে চরের কৃষকরা এখন অনেক আগ্রহী হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে চরে এখন বাদাম, কুমড়া, তরমুজ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি