বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় বাল্যবিয়ের তদন্তে গিয়ে কনের বাবাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে বার্থী ইউনিয়ন পরিষদের এক সচিবের বিরুদ্ধে। এ ঘটনা এলাকায় প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের ঘটনাটি গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের বাঙ্গিলা গ্রামে ঘটেছে। অভিযুক্ত ইউপি সচিবের নাম অবিনাষ বাড়ৈ।
ভুক্তভোগী কনের বাবা ও দিনমজুর শহীদ খান অভিযোগ করে জানান, গত শুক্রবার তার অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল। মেয়ের বয়স ১৬ বছর হওয়ায় প্রশাসন বিয়েটি বন্ধ করে দেয়। এ সময় তিনি প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মেনে মেয়ের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে না দেয়ার মর্মে লিখিত মুচলেকা প্রদান করেন।
তিনি আরও জানান, গত রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইউপি সচিব অবিনাষ বাড়ৈ তার বাড়িতে এসে পুনরায় বাল্যবিয়ে দেওয়া হয়েছে কি না জানতে চান। মেয়েকে তার সামনে হাজির করে বিয়ে না দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা সত্ত্বেও অভিযুক্ত সচিব তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে নানা কৌশলে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে পরিস্থিতির চাপে তিনি ৫০ হাজার টাকা প্রদান করে রক্ষা পান বলে অভিযোগ করেন শহীদ খান।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সচিব অবিনাষ বাড়ৈ বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাল্যবিয়ে বন্ধ করার পরও কনের বাবা মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন এমন সংবাদের ভিত্তিতে আমি ওই বাড়িতে যাই। সেখানে গিয়ে অভিযোগের কোনো সত্যতা না পাওয়ায় ফিরে আসি। কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন হয়নি।
গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইব্রাহীম বলেন, বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়েছিল। তবে তদন্তের জন্য কাউকে পাঠানো হয়নি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সারাদেশ: সামুদ্রিক কচ্ছপ উদ্ধারের পর অবমুক্ত