লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিসে দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তার পদ শূন্য এবং জনবল সংকট থাকায় ব্যাপক হয়রানির শিকার হচ্ছেন সেবাপ্রার্থীরা। অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা সপ্তাহে দুদিন অফিস করায় নিয়মিত সেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে! এতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে উপজেলা সমাজসেবা অফিসের কার্যক্রম।
উপজেলা সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা যায়, সমাজসেবা কর্মকর্তার পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। একজন সহকারী সমাজসেবা কর্মকর্তা থাকার কথা থাকলেও নেই উচ্চমান সহকারী। কারিগরি প্রশিক্ষক থাকার কথা থাকলেও একজনও নেই। সব মিলিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে উপজেলা সমাজ সেবার কার্যক্রম।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সমাজসেবা অফিসার আব্দুর রাজ্জাক বদলির পর সমাজসেবা অফিসারের পদটি শূন্য হয়। পরে ওই শূন্যপদটিতে দীর্ঘদিন অতিরক্ত সমাজসেবা কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন জেলা সমাজসেবা অফিসের রেজিস্ট্রেশন অফিসার সুকান্ত সরকার।
তিনি চলে যাওয়ার পর আবারও সমাজসেবা কর্মকর্তা হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার জাহাঙ্গীর আলম। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ২২ সেপ্টেম্বর ডাক্তারের স্বাক্ষরকৃত ৮টি ইউনিয়নের বেশকিছু প্রতিবন্ধীর আবেদন বাতিল করেন এবং প্রতিবন্ধী জরিপ কার্যক্রম চলাকালীন প্রতিবন্ধী এক ব্যক্তির সঙ্গে অশালীন আচরণসহ কাগজপত্র টেবিল থেকে ছুড়ে ফেলে দেন ওই কর্মকর্তা। প্রতিবন্ধী জরিপ কার্যক্রম চলাকালীন ওই কর্মকর্তার এমন আচরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন সোনারহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অফিস সহকারী হরিমাধব রায়। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আজও নেয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা। দীর্ঘদিন ধরে এ পদগুলো শূন্য থাকায় প্রতিনিয়ত অফিসের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। জনবল সংকটের কারণে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রম যথাসময়ে বাস্তবায়ন করতে হিমশিম খাচ্ছে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়। বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা, শিক্ষা উপবৃত্তি, ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমসহ সরকারের নানা সেবায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের। এতে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন ওই অফিসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেবাপ্রার্থীরা।
এ বিষয় জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ফজলুল হক বলেন, শুধু কালীগঞ্জ উপজেলায় নয় জেলার আদিতমারী, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রামে কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে। তবে কালীগঞ্জে যে অফিসার অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন তাকে আমি সপ্তাহে তিন দিন অফিস করার বিষয়ে বলেছি। কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবগত করেছি। আশা করি অচিরেই সমস্যার সমাধান হবে।
সারাদেশ: সামুদ্রিক কচ্ছপ উদ্ধারের পর অবমুক্ত