image
মাদারীপুর : সরকারি খাদ্য গুদাম -সংবাদ

সরকারি গোডাউনগুলোতে নিম্নমানের আমন চাল গুদামজাত করছে কর্মকর্তারা

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, মাদারীপুর

সরকার ভালো দাম নির্ধারণ করলেও মিলারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে নিম্নমানের চাল গুদামজাত করছে মাদারীপুরের সদর উপজেলার সরকারি গোডাউনগুলোতে। সংগ্রহ করা হাইব্রিড এই চালগুলো ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি খুচরা মূল্য রয়েছে বাজারে বলে জানিয়েছে চাল ব্যবসায়ীরা। বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করলেও এ বিষয়ে কোন কথা বলতে নারাজ জেলা খাদ্য কর্মকর্তা।

আমন সিদ্ধ চাল সংগ্রহ করছে সরকার। সদর উপজেলায় এবছর আমন সিদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৬৫ মে. টন। সদর উপজেলার ইটেরপুলের মাদারীপুর গোডাউনে ৩০০ মে. টন ও চরমুগরিয়া গোডাউনে ৩৬৫ মে.টন চাল সংগ্রহ করার নির্দেশনা রয়েছে। প্রতি কেজি চালের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা। ভালো মানের চাল সংগ্রহ করার কথা থাকলেও সদর উপজেলার সরকারি গুদামগুলোতে নিম্নমানের হাইব্রিড চাল সংগ্রহ করছে। সংগ্রহ করা চালগুলো খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। পশু-পাখিকে খাওয়ানের জন্য এই চাল ক্রয় করে নেয় ক্রেতারা। এছাড়া এই চাল দিয়ে হাঁস-মুরগি, পশু-পাখি ও মাছের ফিড তৈরি করা হয় বলে দাবি একাধিক চাল ব্যবসায়ীর।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চরমুগরিয়া গোডাউনগুলোতে ট্রাকে করে চাল এনে তা গুদামজাত করছে গোডাউনের কর্মচারীর ও শ্রমিকরা। গোডাউন ইনচার্জকে সঙ্গে করে চালের বস্তা থেকে স্যাম্পল নিয়ে দেখা যায় এ মৌসুমে উৎপন্ন হাওয়া চালের মধ্যে সবচেয়ে নিম্নমানের চাল তারা গুদামজাত করছে। কিন্তু গোডাউন ইনচার্জ বিষয়টি মানতে নারাজ।

চরমুগরিয়া গোডাউন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ মল্লিক বলেন, আমাদের প্রায় সব চালই ভালো মানের। হয়তো কিছু চাল এদিক-ওদিক হতে পারে। সরকার আমাদের যে নির্দেশনা দিয়েছে তা মেনেই আমরা চাল গুদামজাত করছি।

ইটেরপুল মাদারীপুর গোডাউনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সঞ্জয় সাহা বলেন, সরকারের নির্দেশনা মেনেই আমরা চাল নিচ্ছি। মিলাররা হাইব্রিড চালই দিচ্ছে বেশি। হাইব্রিড চালের দাম কম হলে আমাদের কী করার আছে।

চরমুগরিয়া ও মাদারীপুর গোডাউনের ইনচার্জদের অনুমোতি নিয়ে তাদের উপস্থিতিতে বেশ কিছু বস্তার চালের স্যাম্পল সংগ্রহ করে চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বললে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। ব্যবসায়ীরা স্যাম্পল চালগুলো দেখেন এবং নিশ্চিত করেন এগুলো এই মৌসুমের সবচেয়ে নিম্নমানের চাল। এই মানের চাল কোন চাল ব্যবসায়ীরা বিক্রি করে না। এই মানের চাল বিক্রি করা হয় পশু-পাখির খাবারের দোকানে। এই চাল হাঁস, মুরগি ও পাখিদের খাওয়ানো হয়। এছাড়া এই চাল দিয়ে পশু-পাখি ও মাছের ফিট তৈরিতে কাজে লাগান ফিট উৎপাদককারীরা।

চাল ব্যবসায়ী মো. নুরুল ইসলাম, আবুল কালাম বেপারী ও কেরামত আলী বলেন, এত নিম্ন মানের চাল আমরা বিক্রি করি না। এগুলো গোডাউনের চাল। রিকশাওয়ালারাও এই চাল কেনে না। আমন মৌসুমের সবচেয়ে নিম্নমানে চাল এগুলো।

চাল ব্যবসায়ী শাহ আলম বেপারী ও নাইম তালুকদার বলেন, এ ধরনের চাল পশু-পাখিকে খাওয়ার জন্য পশু-পাখির খাবারের দোকানে এই মানের চাল পাওয়া যায়। পশু-পাখির খাদ্য হিসেবে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা খুচরা বিক্রি হয়। এছাড়া এই চালগুলো পশু-পাখিদের ফিট তৈরিতে কাজে লাগানো হয়। জেলা খাদ্য কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে, সংবাদকর্মীরা কেন খাদ্যগুদামে গিয়েছে এই প্রশ্ন তুলে এ বিষয় কোন কথা বলতে রাজি হননি। জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নিম্নমানের চাল সংগ্রহের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি