image
লামা (বান্দরবান) : উপজেলা পরিষদ ভবন -সংবাদ

লামায় থমকে আছে উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন কাজ

প্রতিনিধি, লামা (বান্দরবান)

বান্দরবান পার্বত্য জেলার মধ্যে লামা সবচেয়ে বৃহৎ ও জনবহুল উপজেলা। উপজেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ সংস্থান না থাকায় এ উপজেলায় বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। এর মধ্যে ইজারার প্রাপ্ত অর্থ বকেয়া থাকায় আরও দূর অবস্থার মধ্যে পড়েছে পরিষদটি।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ কর্তৃক গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে লামা উপজেলায় ৭টি টোল পয়েন্ট ও ৪টি হাট-বাজার ইজারা দেয়। ইজারার প্রাপ্ত রাজস্বের অর্থ থেকে সরকারি বিধি মোতাবেক লামা উপজেলা পরিষদ পায় ৬১ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা। অর্থ সংকটে থাকা লামা উপজেলা পরিষদের পক্ষে থেকে অফিসিয়াল নিয়মে বকেয়া টাকা দিয়ে দেয়ার জন্য বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদকে বার বার অবগত করে চিঠি দেয়া সত্ত্বেও টাকা দিচ্ছে না বলে জানান লামা উপজেলা পরিষদের দায়িত্বরত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন।

লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন এ বিষয়ে গত ১৯ জানুয়ারি সাংবাদিকদের জানান, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে লামা উপজেলার উল্লেখিত হাট-বাজার ও টোল পয়েন্ট ইজারাকৃত অর্থ হইতে লামা উপজেলা পরিষদে প্রাপ্য রাজস্বের অংশ সম্পূর্ণরূপে প্রেরণ করা হয় নাই। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ কর্তৃক গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে লামা উপজেলায় ৭টি টোল পয়েন্ট ও ৪টি হাট-বাজার ইজারা দেয়। ইজারার প্রাপ্ত অর্থ থেকে সরকারি বিধি মোতাবেক লামা উপজেলা পরিষদ পায় ৬১ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা। আমাদের প্রাপ্ত রাজস্ব থেকে জেলা পরিষদ গত লামা উপজেলা পরিষদের নামের ইস্যুকৃত চেক নং-ঈঊ১০০ ৭২৭৫৬৩৪ মূলে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর ২৪ লাখ ৩৭ হাজার ৬৫০ টাকা প্রেরণ করে। উপজেলা পরিষদ এখনও পাওনা রয়েছে ৩৬ লাখ ৯৪ হাজার ২৩০ টাকা।

লামায় যে সব টোল পয়েন্ট ইজারা দেয়া হয়, আজিজনগর-গজালিয়া রাস্তার মাথা সড়ক (বান্দরবান সীমানা) সীমানা- ৪০১,০০০/-, ফাঁসিয়াখালী রাজাপাড়া রাঙা সড়ক বান্দরবান ইয়াংছা খালের মুখ নদীপথ (বান্দরবান সীমানা)- ১,২১,০০০/-, ফাঁসিয়াখালী রাজাপাড়া রাঙা সড়ক (বান্দরবান ইয়াংছা খালের মুখ নদীপথ (বান্দরবান সীমানা)- ১,২১,০০০/-, আলীকদম-ফাঁসিয়াখালী সড়কে কুমারী কভার সংলগ্ন সড়ক পথ (বান্দরবান সীমানা) ৪৬,২৪,০০০/-, ১২,২০,০০০/-, ৫৭,৭৩,৬৮০/-, ফাইতং এলাকাধীন বানিয়ারছড়া সংলগ্ন সড়ক পথ ও সোনাছড়ি গস নদী পা (বান্দরাম সীমানা সরই ইউনিয়নস্থ হাছনাভিটা কর্তবিট অফিস সংলগ্ন সড়ক পথ (বান্দরবান সীমানা)- ৬০,০০,০০০/-, সরই ইউনিয়নস্থ পূর্বচাম্বি মুসলিম বাজার সংলগ্ন সড়ক ও নদীপথ (বান্দরবান) ১৭,৮০,০০০/-, ১,১০,০০০/- মোট = ১,৪২,৫৬,০০০/- এবং ইজরাকৃত হাট-বাজারের নাম : লামা বাজার, গজালিয়া বাজার, চাম্বি মফিজ বাজার, ডলুছড়ি বাজার, মোট ইজারাকৃত অর্থ ১৮,৪০,০০০/-।

এ বিষয়ে লামার ইউএনও মো. মঈন উদ্দিন আরও বলেন, সরকারি বিধি মোতাবেক ইজারায় প্রাপ্ত অর্থের ১০০ টাকার ১০ টাকা পায় আঞ্চলিক পরিষদ, বাকি ৯০ টাকার মধ্যে জেলা পরিষদ পাবে ৫৫ টাকা আর উপজেলা পরিষদ পাবে ৪৫ টাকা। এ ছাড়া পৌরসভার মধ্যে হলে, ১০০ টাকার মধ্যে পৌরসভা পাবে ৪০ টাকা, বাজার ফান্ড পাবে ৪০ টাকা আর বাকি ২০ টাকা পাবে উপজেলা পরিষদ। অর্থ সংকটে থাকা লামা উপজেলা পরিষদের পক্ষে থেকে অফিসিয়াল নিয়মে বকেয়া টাকা দিয়ে দেয়ার জন্য বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদকে বার বার অবগত করা সত্বেও বান্দরবান জেলা পরিষদ টাকা দিচ্ছে না। এ কারণে পরিষদ চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি