image

আত্রাইয়ে লোকবল সংকটে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত

আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি

লোকবল সংকটে আত্রাই উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। শিক্ষা অফিসের ৫টি সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মধ্যে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র দুজন। এ ছাড়া অফিস উচ্চমান সহকারীর একটি পদ শূন্য আর হিসাব সহকারী ও অফিস সহায়ক পদেও কোনো কর্মী নেই। দীর্ঘদিন ধরেই জনবল সংকটে এই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

এমন পরিস্থিতিতে অফিসের নিয়মিত কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। অন্যদিকে উপজেলার ১৩০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৭টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক। ৩২টি সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। প্রধান শিক্ষক না থাকায় শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে ‘ভারপ্রাপ্ত’ দিয়ে। তাছাড়া উপজেলার অনেক বিদ্যালয়ে ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক আছে ৪-৫ জন। অনেক বিদ্যালয়ে আবার ৩শ থেকে ৪শ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক আছে ৫-৬ জন। যার ফলে সেইসব বিদ্যালয়ে পাঠদানের কার্যক্রম বিঘিœত হচ্ছে। এদিকে শিক্ষক বৈষম্যে নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি শিক্ষক সংকট দূর করণ এবং অফিসের পদের শূন্যতা পূরণ করা খুবই জরুরি বলছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য মতে, এই উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ ৫ জন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা থাকার কথা। কিন্তু দীর্ঘদিন উপজেলায় মাত্র দুজন? সহকারী প্রাথমিক কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছে। পাঁচটি ক্লাস্টারের দায়িত্ব দুজন সহকারী প্রাথমিক কর্মকর্তা পালন করার কারণে বিদ্যালয় পরিদর্শন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার মান উন্নয়ন কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না।

বান্দাইখাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ বলেন, আমার বিদ্যালয়ে এখন প্রায় পাঁচশ শিক্ষার্থী এবং ১৩ জন শিক্ষক কর্মরত আছি। তারপরও বিদ্যালয়ের প্রতিটা শ্রেণীতে ৩টা করে সেকশন করে আমাদের ক্লাস নিতে হয়। এতে আমাদের বিদ্যালয়ে শিক্ষকের স্বল্পতা দেখা দেয়। আমার প্রতিষ্ঠানে আরও দুজন শিক্ষক হলে ভালো হতো।

কালিকাপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের শিক্ষার্থী এক অভিভাবক আমজাদ হোসেন জানান, এই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার্থী রয়েছে ৫০ জনের মতো, শিক্ষক রয়েছে দুজন। এই বিদ্যালয় আর কি পড়াশোনা হতে পারে। বিদ্যালয়টিতে অতি দ্রুত প্রধান শিক্ষকসহ সহকারী শিক্ষক প্রয়োজন। বর্তমান ভারপ্রাপ্তের প্রধান শিক্ষক দিয়েই চলছে বিদ্যালয়। শিক্ষক স্বল্পতার কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে বিঘ্ন হচ্ছে।

ব্রজপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজার রহমান এবং সদুপুর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাহারুল ইসলাম বলেন, অনেক প্রধান শিক্ষক অবসরে যাওয়ার কারণে প্রধানের পদ শূন্য হয়ে গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাধান শিক্ষক না থাকলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার ঘাটতি থেকে যায়। তাই প্রধানের পদগুলো পূরণ থাকা দরকার। তাহলে উপজেলার সকল বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান করো ভালো হবে।

ইসলামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান মোছা. খালেদা বানুর কাছে থেকে প্রতিষ্ঠান প্রধান না থাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কি ধরনের সমস্যা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রী বেশি নেই এখন ৮১ জন ছাত্র-ছাত্রী আছে এবং আমরা পাঁচজন সহকারী শিক্ষক আছি। আমাদের কোনো সমস্যাই নেই। আমরা দেখেছি প্রধান শিক্ষক আসলেই সে সঠিক সময়ে স্কুলে আসে না, ঠিকমতো ক্লাসও নেয় না। আমরা পাঁচজন সহকারী শিক্ষক মিলেমিশে কাজ করি। আমরা ভালোই আছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সহকারী শিক্ষক জানান, জনবল সংকটের কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত পদ পূরণ না হলে প্রাথমিক শিক্ষার মান আরও নিম্নগামী হবে বলেও মনে করছেন তারা।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাযহারুল ইসলাম বলেন, আমরা শিক্ষক বৈষম্যে নিয়ে কাজ করছি। এই উপজেলায় যে শিক্ষক সংকট রয়েছে তা দ্রুতই দূর হবে, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার এবং অফিসের পদের শূন্যতা পূরণ করা খুবই জরুরি। নিয়োগের মাধ্যমে খুব দ্রুতই শূন্য পথগুলো পূরণ হবে বলে আমি আশা করছি।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি