হামলার প্রতিবাদে রমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ধর্মঘট শুরু

রোগীদের চরম দুর্ভোগ

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর

চিকিৎসকদের ওপর হামলা ও মারধর করে আহত করার প্রতিবাদে এবং কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বুধবার, (২১ জানুয়ারী ২০২৬) থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছেন। এ ধর্মঘটের ফলে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যত ভেঙে পড়েছে এবং রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান ধর্মঘটের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, চিকিৎসকদের দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও চিকিৎসকদের সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জিক্যাল অপারেশন থিয়েটারে কর্তব্যরত সিনিয়র ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ২৫টি জরুরি অপারেশনের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় এক রোগীর স্বজনরা তাদের রোগীকে আগে অপারেশন করার দাবিতে চাপ সৃষ্টি করেন। চিকিৎসকরা জানান, সিরিয়াল অনুযায়ী অপারেশন হচ্ছে এবং তাদের রোগীর অপারেশনও যথাসময়ে করা হবে। এ নিয়ে রোগীর ছেলে সুমিত ও তার সহযোগীরা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে চিকিৎসকরা প্রতিবাদ করেন।

এর জেরে প্রথমে কথাকাটাকাটি এবং পরে রোগীর ছেলে সুমিতের নেতৃত্বে কয়েকজন লোক এসে চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন সিনিয়র ও ইন্টার্ন চিকিৎসক মারধরের শিকার হয়ে আহত হন এবং তাদের পোশাক ছিঁড়ে ফেলা হয়।

এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এর প্রতিবাদে বুধবার বেলা ১১টা থেকে তারা হাসপাতালের পরিচালক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

ইন্টার্ন চিকিৎসক আসিফ জানান, গতকাল মঙ্গলবার রাতে সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে ধারাবাহিকভাবে ২৫টি জরুরি অপারেশন চলছিল। সেখানে সিনিয়র, আবাসিক ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় রোগীর স্বজনরা অন্যায়ভাবে চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে আহত করেন। তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব পালনের সময় আমাদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। দোষীদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত আমাদের ধর্মঘট চলবে এক সপ্তাহ লাগলে এক সপ্তাহ, এক মাস লাগলে এক মাস।’

ইন্টার্ন চিকিৎসক তানজিদা রহমান বলেন, ‘দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি আমরা মব হামলার শিকার হই এবং নিরাপত্তা না পাই, তাহলে চিকিৎসাসেবা দেয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’

এদিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ধর্মঘটের ফলে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সরেজমিনে নেফ্রোলজি বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। একই অবস্থা মেডিসিন ওয়ার্ডসহ অন্যান্য বিভাগেও। চিকিৎসার অপেক্ষায় রোগী ও স্বজনরা থাকলেও চিকিৎসকরা কাজে যোগ না দেয়ায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। দোষীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। দ্রুত সমস্যা সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» পুরো রোজার মাস স্কুল ছুটি চেয়ে রিট

সম্প্রতি