ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নীলফামারীতে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ১০টা থেকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে পর্যায়ক্রমে জেলার চারটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রথমে নীলফামারী-১ আসনের প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ অনুষ্ঠিত হয়। এ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী খেজুরগাছ প্রতীক পান। জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুস সাত্তার পান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক। জাতীয় পার্টির প্রার্থী তছলিম উদ্দিন পান লাঙ্গল প্রতীক। এছাড়া অন্য দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে কাঁচি, টেলিভিশন, বাইসাইকেল, গাভী ও হাতপাখা প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী না থাকায় এই আসনে মোট আটটি দলের প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়। এরপর নীলফামারী-২ আসনের প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়। এ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের খালাতো ভাই ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন। জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আলফারুক আব্দুল লতীফ পান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী অ্যাডভোকেট হাসিবুল ইসলাম পান হাতপাখা প্রতীক। অন্যান্য দলীয় প্রার্থীরা টেলিভিশন ও দেয়ালঘড়ি প্রতীক পান। এ আসনে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ফুটবল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে নীলফামারী-৩ আসনের প্রতীক বরাদ্দ অনুষ্ঠিত হয়। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ আলী পান ধানের শীষ প্রতীক। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক পান ওবায়দুল্লাহ সালাফি। জাতীয় পার্টির প্রার্থী রোহান চৌধুরী পান লাঙ্গল এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আমজাদ হোসেন পান হাতপাখা প্রতীক।
সবশেষে নীলফামারী-৪ আসনের প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ আসনে ছয়জন দলীয় ও তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতীক পান। ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছেন অধ্যাপক আব্দুল গফুর সরকার। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক পান আব্দুল মুনতাকিম। জাতীয় পার্টির প্রার্থী সিদ্দিকুল আলম পান লাঙ্গল প্রতীক। এছাড়া কাঁচি, কাঁঠাল ও হাতপাখা প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয় অন্য প্রার্থীদের। প্রতীক পাওয়ার পর সন্তোষ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন প্রার্থীরা।
নীলফামারী-১ আসনের খেজুরগাছ প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে নামলাম। শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশে মানুষের দোরগোড়ায় আমাদের বার্তা পৌঁছে দিতে চাই।
একই আসনের দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আব্দুস সাত্তার বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা রেখে আমরা গণতান্ত্রিকভাবে ভোটারদের সমর্থন চাইবো।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী তছলিম উদ্দিন বলেন, লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে সাধারণ মানুষের উন্নয়ন প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবো।
নীলফামারী-৩ আসনের লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী রোহান চৌধুরী বলেন, প্রতীক বরাদ্দের পর মাঠে নেমে জনসংযোগ শুরু করবো। ভোটারদের কাছে আমাদের পরিকল্পনা তুলে ধরাই এখন মূল লক্ষ্য। প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে নীলফামারীর চারটি সংসদীয় আসনেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো নির্বাচনী মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
নীলফামারী-৪ আসনে প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর প্রার্থীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। ধানের শীষ প্রতীকপ্রাপ্ত বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল গফুর সরকার বলেন, প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো। জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই আন্দোলনে মানুষ আমাদের পাশে থাকবে বলে বিশ্বাস করি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট হলে ধানের শীষই বিজয়ী হবে।
দাঁড়িপাল্লা প্রতীক পাওয়া প্রার্থী আব্দুল মুনতাকিম বলেন, আমরা ন্যায়, ইনসাফ ও ইসলামী মূল্যবোধের রাজনীতি নিয়ে মানুষের কাছে যাচ্ছি। ভোটারদের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা করছি।
অপরদিকে নীলফামারী-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মামুনুর রশিদ বলেন, প্রতীক পাওয়ার মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রমে গতি এলো। এলাকার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে আমি ভোটারদের কাছে যাচ্ছি।
প্রতীক বরাদ্দ শেষে প্রার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। প্রতীক পাওয়ার মধ্য দিয়ে নীলফামারী-৪ আসনেও জমে উঠতে শুরু করেছে নির্বাচনী মাঠের লড়াই।