দেশের সবচেয়ে বড় সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় জ্বালানির অর্থ সাশ্রয়ের নামে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা রেলওয়ে বাংলো চত্বরে বেড়ে ওঠা বিভিন্ন ফলদ ও বনজ বৃক্ষ কাটছে। অনেক বড় বড় গাছের ডালও কাটা হচ্ছে। এরপর সেগুলো রেলওয়ের মালবাহী ট্রাকে তুলে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার ফাউন্ড্রি সপে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরে এসব কাঠ ফাউন্ড্রি সপের লোহা গলানো চুল্লিতে ব্যবহার করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
একই দপ্তরের দেয়া তথ্য মতে, এই রেলওয়ে কারখানায় ২২টি উপ-কারখানা (সপ) রয়েছে। এর মধ্যে ফাউন্ড্রি সপ নামে একটি সপ রয়েছে। এ সপে স্ক্রাপ লোহা ও পিক আয়রন চুল্লিতে পুড়ে ছাচে ঢেলে বিভিন্ন খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরি করা হয়। যন্ত্রাংশগুলো রেলওয়ের যাত্রীবাহী কোচ মেরামতের কাজে করা হয় ব্যবহার। আর লোহা গলানোর চুলায় তাপ সৃষ্টি করার জন্য কয়লা বা গাছের লাকড়ি ব্যবহার করা হয়। শুধু লাকড়ি (খড়ি) কেনা বাবদ সরকারের প্রতি বছর চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা করা হয় ব্যয়।
কিন্তু এ বছর রেলওয়ের বাংলো ও কারখানার অভ্যন্তরে বেড়ে ওঠা বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছ কেটে লাকড়ি হিসাবে ফাউন্ড্রি সপে তা সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে সরকারের সাশ্রয় হচ্ছে মোটা অংকের টাকা। কিন্তু একাধিক পরিবেশবাদী বলছেন সৈয়দপুরের আবহাওয়ায় দেশের অন্যান্য শিল্পাঞ্চলের মতো বাতাসে শীসার পরিমাণ বেশি। ফলে শহরে বসবাসরত নাগরিকরা সবসময় থাকে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। এজন্য শহরের অভ্যন্তরে বিশুদ্ধ অক্সিজেনের জন্য যত গাছ প্রয়োজন তার অর্ধেকেও আছে কিনা সন্দেহ। ফলে শহরের গাছ কাটা হলে শহরবাসীর অক্সিজেনে টান পড়ার সম্ভাবনা বেশি। এজন্য গাছ কাটার চেয়ে দ্বিগুণ হারে গাছ লাগানোর দাবি জানান ওইসব ব্যক্তিরা।
কারখানার অভ্যন্তরে ও অফিসার্স বাংলোর গাছ কাটার বিষয়ে জানতে কথা হয় সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নুর মোহাম্মদের সঙ্গে। তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষা, বিশুদ্ধ বায়ু চলাচল, বিনা বাধায় সূর্যের আলো পাওয়া এবং বাংলো ও কারখানার অভ্যন্তরের ভবনগুলো যাতে ব্যবহার উপযোগী থাকে সেকারণে গাছের বাড়তি ডালপালা কেটে যা মিলছে তা লাকড়ি হিসাবে ফাউন্ড্রি সপে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সরকারের অর্থও সাশ্রয় হচ্ছে।