image
ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙে যান চলাচল ব্যাহত

প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম

ভোরের আলো ফোটার আগেই শুরু হয় মানুষের ছুটে চলা। কর্মস্থল, স্কুল, কলেজ, হাট-বাজারসহ বিভিন্ন কর্মস্থলে গন্তব্যের পথে একমাত্র ভরসা ছিল সোনাহাট সেতু। কিন্তু সেই সেতুই আজ যেন হয়ে উঠেছে মানুষের দীর্ঘশ্বাসের নাম।

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার নদের ওপর নির্মিত শতবর্ষী সোনাহাট সেতুর একটি পাটাতন ভেঙে পড়ায় বন্ধ হয়ে গেছে সব ধরনের যান চলাচল।

গত মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে ইট বোঝাই একটি অতিরিক্ত ওজনের ট্রাক সেতুতে উঠতেই বিকট শব্দে দেবে যায় স্টিলের পাটাতন। মুহূর্তেই থেমে যায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। ১০ টন ধারণক্ষমতার এই সেতুতে ৩৯ টন ইট বোঝাই ট্রাক ওঠায় ঘটে এই দুর্ঘটনা। ভাগ্য ভালো—বড় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। তবে ক্ষতিটা পড়েছে হাজারো সাধারণ মানুষের জীবনে।

ঘটনার পরপরই সেতুর দুই পাশে আটকে পড়ে অসংখ্য যানবাহন। কেউ অফিসে যাওয়ার তাড়া, কেউ পরীক্ষা দিতে ছুটছে, কেউবা গরু নিয়ে হাটে পৌঁছানোর সংগ্রামে। নদীর ওপারে যেতে মানুষ ভরসা খুঁজছে ছোট ছোট নৌকায়। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই পার হচ্ছে দুধকুমার।

রাহিজুল ইসলাম নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, প্রতিদিনের মতো সময়মতো বের হয়েছিলাম। কিন্তু এসে দেখি সেতু ভেঙে গেছে। অফিসে যেতে হবে—উপায় না পেয়ে নৌকায় নদী পার হলাম।

গরু ব্যবসায়ী আমজাদ, কাশেম ও রাসেল জানান, সকালে গরু নিয়ে হাটে পৌঁছালে ভালো দাম পাওয়া যায়। ৮টা গরু নিয়ে ভটভটিতে এসেছিলাম। এখন সেতু বন্ধ নৌকার জন্য অপেক্ষা করছি। সময় গেলে লোকসান হবেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটি বহুদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ। মাঝেমধ্যেই পাটাতন দেবে যায়, ভাঙে তারপরো জীবিকার তাগিদে মানুষ বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নেয়। স্থলবন্দরের ব্যবসা, তিন ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগ সবকিছুই এই একটি সেতুর ওপর নির্ভরশীল।

ইতিহাসের সাক্ষী এই সেতু নির্মিত হয়েছিল ব্রিটিশ আমলে, ১৮৮৭ সালে। লালমনিরহাট থেকে ভারতের গৌহাটি পর্যন্ত রেললাইনের অংশ হিসেবে দুধকুমার নদের ওপর গড়ে ওঠে প্রায় ১২০০ ফুট দীর্ঘ সোনাহাট রেলসেতু। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর অগ্রগতি ঠেকাতে এর একটি অংশ ভেঙে দেওয়া হয়। স্বাধীনতার বহু বছর পর এরশাদ সরকারের আমলে সড়ক সেতু হিসেবে মেরামত করা হয়। কিন্তু সেই সংস্কার আর সময়ের ভার সইতে পারছে না।

কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, সেতুটির ধারণ ক্ষমতা ১০ টন। কিন্তু ট্রাকটি বহন করছিল ৩৯ টন। অতিরিক্ত লোডের কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে। ট্রাক মালিক ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

অন্যদিকে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিম উদ্দিন বলেন, ওভারলোডের কারণে মামলা না হলেও জরিমানার বিধান রয়েছে।’

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» মিঠাপুকুরে চারজনকে ব্যাকডেটে নিয়োগ জালিয়াতির অভিযোগ

» জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাতে প্রবিধান দ্রুত কার্যকরের দাবিতে স্মারকলিপি

» গজারিয়ায় যৌথ অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী আটক, ইয়াবা উদ্ধার

সম্প্রতি