image

বিশ্লেষণ

নির্বাচনী প্রচারণায় ডিজিটাল রণক্ষেত্র

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নির্বাচনী প্রচারণা মাঠের চেয়ে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে ডিজিটালে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশীয় রাজনীতির মাঠ আর আগের মতো নেই। আসছে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় নির্বাচন। হাতে সময় মাত্র ২০ দিন। অথচ মাঠে উত্তার কোনো চিত্র নেই, আভাস নেই। বিপরীতে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে যেন নির্বাচনের ঝড় বয়ে যাচ্ছে। বলা যায় ভোটের প্রধান রণক্ষেত্র এখন সোশ্যাল মিডিয়া। বিশ্লেষকরাও বলছেন, এবারের নির্বাচনী রাজনীতির চিত্র অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ডিজিটাল প্রচারণা তুঙ্গে উঠেছে। যা গতানুগতিক প্রচারণার চেয়ে ভোটাদের মানসপটে বেশি প্রভাব ফেলছে।

ভোটের অনলাইন যুদ্ধের ক্ষেত্র তৈরি করেছে আলোচিত জেন–জি বা নতুন প্রজন্মের ভোটাররা। নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে দেশে যত ভোটার আছে তার মধ্যে প্রায় ৪৪ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩৭ বছরের মধ্যে। যারা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে পালন করেছে মূখ্য ভূমিকা। এই প্রজন্মের বিশাল এক অংশ মনে করে তারা বিগত কয়েকটি নির্বাচনে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তাই তারা এবারের ভোটের ব্যাপারে ব্যাপক উৎসাহী। আর সেই উৎসহের ঢেউ আছড়ে পড়ছে অনলাইন প্ল্যাটফরম বা সোশ্যাল মিডিয়ায়। কারণ, এই প্রজন্মের বেড়ে ওঠাই হয়েছে জিডিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের তথ্য বলছে, দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১৩ কোটি ছাড়িয়েছে। যা মোট জনসংখ্যার প্রায় তিন-চতুর্থাংশ। বিপরীতে সর্বশেষ হিসাব মতে, দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ। অন্যদিকে, বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল গবেষণা ও বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম ডেটারিপোর্টালের হিসাব অনুযায়ী, দেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৬ কোটি ৪০ লাখ। টিকটক ব্যবহারকারী ৫ কোটি ৬০ লাখ। আর ইউটিউব ব্যবহারকারী ৫ কোটির কাছাকাছি। বিশাল এই ডিজিটাল উপস্থিতিই নির্বাচনী রাজনীতির কৌশল পাল্টে দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশাল আকারের নির্বাচনী জনসভা আয়োজন করতে যে পরিমাণ অর্থ, শ্রম ব্যয় হয় তাতে ভোটার বা বিশাল জনগোষ্ঠীর যে সাড়া পাওয়া যায়, তার চেয়ে কম অর্থ ব্যয়ে তৈরি করা ভাইরাল ভিডিও অনেক বেশি কার্যকর। বিশেষত তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের আকর্ষণ করতে গতানুগতিক ধারার প্রচারণার চেয়ে ডিজিটাল ফরমেট সবচেয়ে বেশি কার্যকর। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রতিষ্ঠাতা হাসান আল বান্না বলেছেন, অনলাইন কনটেন্টই ঠিক করে দেয় মানুষ কী নিয়ে আলোচনা করবে। আর তরুণ ভোটারপ্রধান বাংলাদেশের ক্ষেত্রে, সেই আলোচনাই শেষ পর্যন্ত ভোটের ফল নির্ধারণ করতে পারে।

ভোটের ডিজিটাল মাঠে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি তাদের প্রচারণায় দেশপ্রেম ও জনস্বার্থকে সামনে এনে অনেক গান তৈরি করেছে। “আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ” এমন শব্দ প্রয়োগ করে নিজেদের দায়িত্বশীল বিকল্প হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর তৈরি করা অনেক গান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হচ্ছে। আবার, চব্বিশের আন্দোলন থেকে উঠে আসা জাতীয় নাগরিক কমিটি (এনসিপি) নাটকীয় ভিডিও, তরুণদের ভাষায় বার্তা ও বিদ্রূপাত্মক কনটেন্ট দিয়ে দ্রুত অনলাইনে জায়গা করে নিচ্ছে।

বিএনপি ‘ম্যাচমাইপলিসি’ ধরনের প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে, অনলাইনে নিজেদের নীতিগত প্রস্তুতি তুলে ধরতে। যেসব প্ল্যাটফর্মে ভোটাররা সরাসরি মতামত জানাতে পারছেন। দলটির দাবি, জনগণের সঙ্গে তারা দুইমুখী সংযোগ তৈরি করছে। জামায়াতে ইসলামীও ‘জনতার ইশতেহার’ নামে ওয়েবসাইট চালু করে ভোটারদের মতামত সংগ্রহ করছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতঘেঁষা অনলাইন কনটেন্ট বিএনপির বিরোধিতা ও ভারত-বিরোধী আবেগ উসকে দেওয়ার দিকেই বেশি মনোযোগী। ফ্যাক্ট-চেকাররা বলছেন, এসব বার্তা শুধু রাজনৈতিক পেজেই এখন আর সীমাবদ্ধ নেই। মিম, রিলস ও শর্ট ভিডিওর মাধ্যমে তরুণদের ব্যক্তিগত ফিডেও ঢুকে পড়ছে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি