রংপুর নগরীর অন্যতম স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৩৯ জন শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষার নামে চরম প্রহসনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রায় দেড় হাজার চাকরি প্রত্যাশী শিক্ষিত যুবক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, নিয়োগ পরীক্ষা নেয়ার নামে হাতে লেখা ফটোকপি করা প্রশ্নপত্র সরবরাহ, পরীক্ষার্থীদের বসার জন্য বেঞ্চে চক দিয়ে নম্বর লিখে বসতে দেয়া, নির্ধারিত সময়ের দেড় ঘণ্টা পর পরীক্ষা গ্রহণসহ চরম অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
গতকাল রংপুর নগরীর রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে ঘটনা ঘটে। আবেদনকারীদের অভিযোগ, পুরো আয়োজন দেখে মনে হয়েছে- আগেই নির্ধারিত ছিল কারা নিয়োগ পাবেন।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। একাধিক শ্রেণীতে পাঁচটির বেশি শাখায় ঠাসাঠাসি করে পাঠদান চলছে। এর ওপর দ্বিতীয় শিফট চালুর নামে আরও প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি নেয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
দুই মাস আগে দ্বিতীয় শিফটের জন্য শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর পর শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগের লক্ষ্যে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আবেদন আহ্বান করা হয়। মনোবিজ্ঞান, বাংলা, ইংরেজি, গণিত, পদার্থবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে ৩৯ জন শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়। আবেদন জমাদানের শেষ তারিখ ছিল ১০ জানুয়ারি ২০২৬।
প্রায় দেড় হাজার আবেদনকারী এক হাজার টাকার ব্যাংক ড্রাফটসহ আবেদন করেন। গতকাল এসব আবেদনকারীর লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
পরীক্ষার সময় নির্ধারিত ছিল সকাল ১০টা। তবে আবেদনকারীরা সকাল ৯টার মধ্যেই বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। কিন্তু সকাল ১০টার পরও তাদের বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। প্রায় দেড় ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার পর বেলা সাড়ে ১১টায় পরীক্ষার্থীদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়।
ভেতরে প্রবেশ করে পরীক্ষার্থীরা দেখতে পান, বেঞ্চের ওপর চক দিয়ে পরীক্ষার্থীদের নম্বর লেখা রয়েছে, যার বেশিরভাগই অস্পষ্ট। এরপর হাতে লেখা প্রশ্ন ফটোকপি করে বিতরণ করা হয়। আবেদনকারীদের অভিযোগ, পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্তরা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের উত্তর বলে দেয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিলেন। এভাবে চরম বিশৃঙ্খল পরিবেশে লোক দেখানো পরীক্ষা নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
এদিকে বিদ্যালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গত বছরের ১৬ আগস্ট ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত গভর্নিং বডির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের সময় স্বল্পতা ও সামনে জাতীয় নির্বাচন থাকায় স্কুল শাখায় ডবল শিফট চালুর বিষয়টি স্থগিত থাকবে।
কিন্তু সে সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বিশেষ উদ্দেশ্যে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ না করেই শিক্ষার্থী ভর্তি নেয়া হয় এবং শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা হয়। চলমান শিক্ষা কার্যক্রমের মধ্যেই শিক্ষক নিয়োগের নামে প্রহসন বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
এ বিষয়ে রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি, রংপুরের পুলিশ সুপার এবং কলেজের অধ্যক্ষ-কেউই কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
অর্থ-বাণিজ্য: ভরিতে ৩ হাজার ২৩৬ টাকা বাড়লো সোনার দাম
অর্থ-বাণিজ্য: ঈদের ছুটিতে কাস্টম হাউসগুলো খোলা থাকবে