নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আধিপত্য বিস্তার করা নিয়ে তিন গ্রামে দফায় দফায় হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে দুপক্ষের লোকজন। উভয় পক্ষের হামলায় তিন গ্রামের নারী, পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ অন্তত অর্ধশত জন আহত হয়েছেন। গত বুধবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত পিরোজপুর ইউপির খাসেরগাঁও, ছোট কোরবানপুর ও পাঁচআনি গ্রামের লোকজনের মধ্যে হামলার এই ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পিরোজপুর ইউপির ২নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য খাসেরগাঁও গ্রামের মনির হোসেন ও ছোট কোরবানপুর গ্রামের ত্রাসখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী রাসেল মিয়ার সঙ্গে এলাকায় আধিপত্য নিয়ে একই ইউপির পাঁচআনি গ্রামের হামিদুল ইসলাম হামিদের বিরোধ ছিল। সম্প্রতি কোরবানপুর গ্রামের ত্রাস রাসেল মিয়া তার মাদক ব্যবসা বিস্তার ঘটাতে বিগত সময়ের মতো এখনও বহিরাগত মাদক ব্যবসায়ী ও ডাকাতদের নিয়ে পাঁচআনিসহ আশপাশের এলাকা দিনরাত ঘুরে বেড়ায়। বহিরাগত ডাকাত ও মাদক ব্যবসায়ী নিয়ে এলাকায় প্রবেশ করতে নিষেধ করেন হামিদুল। এই নিয়ে হামিদুলের সঙ্গে রাসেলের কথা কাটাকাটি হয়। অপরদিকে মনির মেম্বারের সঙ্গে এলাকার বিভিন্ন ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করা নিয়েছিল হামিদুলের বিরোধ। মূলত হামিদুলের সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ী রাসেলের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে প্রথম রাসেল গ্রুপ টেটাঁ, বল্লব, রাম দা, হকিস্টিক, লাঠিসহ দেশি অস্ত্র নিয়ে হামিদুলের পাঁচআনি গ্রামে হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এ সময় হামিদুল গ্রুপ পাল্টা রাসেল গ্রুপকে ধাওয়া দিয়ে তার কোরবানপুর গ্রামে হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর করে। এই খবর পেয়ে মাদক ব্যবসায়ী রাসেলের সঙ্গে যোগ দিয়ে হামিদুলের গ্রামে আবারো হামলা চালায় খাসেরগাঁও গ্রামের মনির হোসেন (মেম্বার)। পরবর্তিতে হামিদুলের লোকজন পাল্টা হামলা চালায় মনির মেম্বারের খাসেরগাঁও গ্রামে। সেখানেও ব্যাপক ভাঙচুর করা হয় বাড়িঘরে। দুই গ্রুপের তিন গ্রামে দফায় দফায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটতে থাকে। তা দেখে তিন গ্রামের সাধারণ মানুষ গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে পুলিশকে উপেক্ষা করেই সংঘর্ষে লিপ্ত হয় উভয় গ্রুপ। এক পর্যায়ে হামিদুল গ্রুপের কয়েকজন স্থানীয় মসজিদে আশ্রয় নিলে মাদক ব্যবসায়ী রাসেল গ্রুপ মসজিদেও হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। পরবর্তিতে পরস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে সেনাবাহিনী গিয়ে পুলিশের সহযোগিতায় রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। দুই গ্রুপের তিন গ্রামে হামলায় অন্তত ২০ টি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। হামলা ও সংঘর্ষে উভয় গ্রুপের রাশিদা, মিনু, মুক্তা, পরিবানু, সালাম, বজলু, সজল, মোকশেদ, বাবুসহ নারী, পুরুষ ও শিশু-কিশোর মিলিয়ে প্রায় অর্ধশতজন আহত হয়েছেন।
আহতদের ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিন গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে আবারো হামলা ও গ্রেপ্তার আতঙ্কে গ্রাম ছেড়েছেন বেশিভাগ পরিবার। পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এই দুই গ্রুপের বিরোধ চলে আসছে। আমরা বিরোধ মেটানোর চেস্টা করছি। সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মহিবুল্লা জানান, দুই গ্রুপের হামলার খবরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রশাসনের লোকজন সরে গেলেই আক্রমণের চেষ্টা করছে। আবারো হামলার শঙ্কায় সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখনও কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। পরিস্থিতি শান্ত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সারাদেশ: রাজশাহীতে বিজিবি কর্তৃক সিরাপ জব্দ