পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগড় ইউনিয়ন পরিষদ ক্যাশলেস সেবা সিস্টেমের বিপরীতে হোল্ডিং ট্যাক্সের নামে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে অর্থ আদায় করা হয়েছে। উপজেলার দেবনগড় ইউনিয়ন পরিষদে এই অর্থ আদায় করা হয়।
গ্রামাঞ্চলে প্রচলিত চৌকিদারি ট্যাক্সকে গৃহকর বা হোল্ডিং ট্যাক্স নামে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া এখন দৃশ্যমান, যা বর্তমান সরকারের ক্ষমতার শেষ মেয়াদেও এবং আগামী নির্বাচনের আগে ভাবমূর্তিতে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিস্ময়কর হলেও সত্য যে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বারো বছর আগে প্রণীত একটি গেজেটের দোহাই দিয়ে গ্রামাঞ্চলে হতদরিদ্র মানুষের কাছ থেকেও হোল্ডিং ট্যাক্স নামে অর্থ আদায় করা হয়েছে কিছু এনজিওর মাধ্যমে। এই অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত রয়েছে দেবনগড় ইউনিয়ন পরিষদ। এমন ঘটনা চলছে সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার আওতার বাইরে প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপদে। এই জনগোষ্ঠী গৃহকর সম্পর্কে সচেতনও নয়। তাদের মনে ভীতির পাশাপাশি চাপা ক্ষোভও সৃষ্টি হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের রশিদ বইয়ের মাধ্যমে অর্থ আদায় করা হলেও ইউনিয়ন পরিষদ ক্যাশলেস সেবা সিস্টেমে জমা না করার অভিযোগ রয়েছে। অর্থাৎ মাঝখানে বড় অঙ্কের অর্থ লোপাট করা হয়েছে।
গত শনিবার ও সোমবার (১৭ ও ১৯ জানুয়ারি) ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে সরেজমিনে গেলে জানা যায়, এনজিও কর্মীর মাধ্যমে বাঁশের পাটাতন দিয়ে তৈরি চাপড়া ঘর, টিন দিয়ে তৈরি দুচালা কাঁচাঘর, চারচালা কাচাঘর, আধাপাকা, পাকা ও ছাদযুক্ত এমনকি কোনভাবে বসবাসরত এই ধরনের ঘর থেকেও সর্বনি¤œ ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৫শ, ৬শ, ৭শ, এক হাজারের থেকে তদুর্ধ্ব অর্থ আদায় করা হয়েছে।
নির্বাচনের আগে এ ধরনের অর্থ আদায় জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। জানা যায়, ওই পরিষদের চেয়ারম্যান একটি এনজিও সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করেন। চুক্তির পর এনজিও সংস্থাটি গৃহকরের নামে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করেছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ গৃহকর বা হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ে এনজিও কর্মীরা এক ধরনের হুমকি দিয়েছেন। তারা বলছে, গৃহকর না দিলে তাদের ভবিষ্যতে সরকারের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হবে। ফলে অশিক্ষিত বা হতদরিদ্র জনগণ যে যেভাবে পারে ওই এনজিও কর্মীর হাতে তার নির্ধারিত অর্থ দিয়েছেন।
ওই ইউনিয়নের হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদানকারী একাধিক ব্যক্তি জানান, গ্রামপুলিশসহ দুই তিনজন লোক বাড়ির ট্যাক্স নিতে আসলে আমরা তাদের ট্যাক্স দেয়। ট্যাক্স দিতে না চাইলে বিভিন্ন কথা বলেন। এরপর ট্যাক্স দিলে তারা টাকা নেয়ার সময় ইউনিয়ন পরিষদের একটি কাগজ দেয়। আমাদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার পর সেই টাকা সরকারি খাতে জমা করছেন কিনা আমরা সাধারন ব্যক্তি কীভাবে জানব।
এদিকে আদায়কৃত উত্তোলনের টাকার বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে পরিষদের কাউকে সহযোগিতায় পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ছলেমান আলী বলেন, তিনি হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের জন্য ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম, ওবায়দুল হক ও সচিবকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আদায়কৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছেন কিনা জানতে চাইলে কোনো সদুত্তোর পাওয়া যায়নি।
ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, হোল্ডিং ট্যাক্সের আদায়কৃত রশিদের সব অর্থ অনলাইনে জমা হয়নি কিছু বাকি আছে। চেয়ারম্যান সমস্যার কারণে কয়েকদিন পরিষদে আসতে না পারায় সেসব অর্থ জমা করা সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজ শাহীন খসরুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি অবগত নন। হোল্ডিং ট্যাক্সের নামে আদায়কৃত অর্থ ইউনিয়ন পরিষদ তা সরকারি কোষাগারে জমা করছেন কিনা জানার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ সচিবকে ডাকবেন জানিয়েছেন।