image

রৌমারীতে ঘুষের টাকা লেনদেন নিয়ে খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও ডিলারের হাতাহাতি

প্রতিনিধি, রৌমারী (কুড়িগ্রাম)

খাদ্য বান্ধব কর্মসূচী, ওএমএস ডিলার নিয়োগ দেওয়ার নামে ঘুষের টাকা ফেরত না পেয়ে খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবু হাসনাত মো. মিজানুর রহমান ও খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ডিলার আব্দুর রাজ্জাক এর হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মুহূর্তেও মধ্যে টক অব দা টাউনে পরিণত হয়েছে রৌমারী জুড়ে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ে এঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় ও প্রত্যেক্ষদর্শিরা জানান, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবু হাসনাত মো. মিজানুর রহমান ও আব্দুর রাজ্জাক দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও খাদ্যবান্ধব ডিলার, ওএমএস টিসিবির চাল আব্দুর রাজ্জাককে না দেয়ায় বিষয়টি নিয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলতে যান ডিলার। রাজ্জাক ওএমএস এর চাউল না পাওয়ায় খাদ্য নিয়ন্ত্রককের কাছে দেয়া ঘুষের টাকা ফেরত চান। এ নিয়ে খাদ্য নিয়ন্ত্রক ঘুষের টাকার বিষয়টি অস্বীকার করলে তাদের মধ্যে বাকবিতন্ড তার এক পর্যায়ে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। হাল্লাচিল্লা শোনে আশপাশের লোকজন এসে পরিস্থিতি শান্ত করেনএবং তৎক্ষনাত উপস্থিত লোকজন বিষয়টি সমঝোতা ও করে দেন। প্রত্যক্ষদর্শি পারভীন আক্তারসহ অনেকেই বলেন, খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসের ভেতরে মানুষের মারামাারি ও উচ্চ শব্দের কথা শোনা যায়। এসময় আমরা সেখানে গিয়ে দেখি খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও আব্দুর রাজ্জাক নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে কিল-ঘুষি মারছে। পরে তৎক্ষণাৎ তাদের মধ্যে স্বান্তনা দিয়ে সমঝোতা করে দেয়া হয়। তবে শোনা গেছে তাদের উভয়ের মধ্যে অর্থ লেনদেন নিয়ে এমন ঘটনা ঘটে।

ডিলার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, টিসিবির সুবিধাভোগীদের বিতরণের জন্য ওএমএসএর চাউল ২টি ডিলারের মাঝে ১ মাস পর পর উল্টো পাল্টা করে দেয়ার কথা। খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান তা না করে রহস্যজনক ভাবে আমাকে না দিয়ে প্রতি মাসে একজনকেই দিয়ে যাচ্ছেন। আমাকে দেয়া যাবে না বলে জানান। পরে তার কাছে আমার পাওনা টাকা চাইলে সে অস্বীকার করেন। এবং তিনি উত্তেজিত হয়ে আমাকে ঘুষি মারেন। পরে উভয়ের মধ্যে কিল-ঘুষির ঘটনা ঘটে।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবু হাসনাত মো: মিজানুর রহমান বলেন, আমার সঙ্গে রাজ্জাকের অর্থনৈতিক লেনদেন নেই। তবেও এমএস ডিলারদের এক মাসের চাল উল্টোপাল্টা করে দেয়ার কথা। এক মাসের চাল একজন ডিলারকে দেয়া হয়েছে। আগামী মাসের চাউল রাজ্জাককে দেয়া হবে। কোন কিছু না বুঝে এমন নেক্কার জনক ঘটনাটি ঘটেছে।

রৌমারী থানা অফিসার ইনচার্জ কাওছার আলীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান, বিষয়টি জেনেছি। তবে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত পুর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারন আলাউদ্দিন বলেন, খাদ্য নিয়ন্ত্রক যদি বিচার চেয়ে থানায় অভিযোগ করে, তাহলে থানা ব্যবস্থা নেবে। এখানে আমার কিছু করার নেই।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি