image

কেশবপুরে ভিনদেশি স্কোয়াশ চাষে কৃষকদের বাজিমাত

প্রতিনিধি, কেশবপুর (যশোর)

কেশবপুরে ভিনদেশি রানার জাতের সবজি স্কোয়াশ চাষ করে কৃষকরা অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। প্রতি বিঘায় ১৫০ থেকে ১৬০ মণ স্কোয়াশ উৎপাদন হবে বলে কৃষকরা আশাবাদী। স্কোয়াশ বিদেশি সবজি হিসেবে পরিচিত হলেও এর চাষ পদ্ধতি সহজ এবং কম সময়ে ভালো ফলন পাওয়া যায়। একারণে এখানকার কৃষকরা স্কোয়াশ চাষে ঝুঁকে পড়ছেন। সম্ভাবনাময় এ সবজির আবাদ বাড়াতে কৃষকদের পাশাপাশি সরকারি সহযোগিতার দাবি স্থানীয় কৃষকদের।

স্কোয়াশ মূলত একটি দ্রুত বর্ধনশীল শীতকালীন সবজি। যা অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে বেলে-দোআঁশ মাটিতে ভালো জন্মায়। এটি লাউ পরিবারের অন্তর্ভুক্ত এক ধরনের ফল, যা দেখতে অনেকটা শসা বা মিষ্টি কুমড়ার মতো। এতে প্রচুর ভিটামিন-এ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। যা শরীরের জন্য উপকারী। স্কোয়াশ চাষে প্রতি শারিতে ৩ ফুট এবং মাদা থেকে মাদা ৫-৬ ফুট দূরত্বে, প্রতি মাদায় ২-৩টি বীজ বা চারা রোপণ করতে হয়। চারা রোপণের ৩৫ থেকে ৩৬ দিনের মধ্যে ফুল আসে। নিয়মিত সেচ ও মালচিং এর মাধ্যমে অধিক ফলন পাওয়া যায়।

উপজেলার মূলগ্রামের কৃষক বাসুদেব জানান, তিনি এবছর এক বিঘা জমিতে রানার জাতের উচ্চ ফলনশীল শীতকালীন সবজি স্কোয়াশ চাষ করেছেন। গত বছর ১০ কাঠা জমিতে চাষ করে ভালো দাম ও উচ্চ ফলন পেয়ে এবার চাষ বাড়িয়েছেন তিনি। প্রতিটি গাছেই ধরেছে পর্যাপ্ত স্কোয়াশ। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর লাভ বেশি হচ্ছে। কম খরচে ও অল্প সময়ে এর চাষ করে লক্ষাধিক টাকা আয় হওয়ার আশা তার। চারা রোপণসহ সব পরিচর্যা শেষে ৪০ থেকে ৪৫ দিনের মাথায় তিনি স্কোয়াশ হারভেস্ট করতে শুরু করেছেন। এক বিঘা জমিতে তার ২৪ হাজার টাকা খরচ হলেও ৯০ থেকে এক লাখ টাকা স্কোয়াশ বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।

শুধু কৃষক বাসুদেব নয় তারমত উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা, আওয়ালগাতি, সাতবাড়িয়া ও মূলগ্রামের কয়েকজন কৃষক এবার স্কোয়াশ চাষ করেছেন। তাদের জমিতেও ভালো ফলন হয়েছে। তাদেরও প্রতি বিঘায় ১৫০ মন থেকে ১৬০ মন স্কোয়াশ উৎপাদন হবে। অন্যান্য শীতকালীন সবজির দাম কমলেও প্রতি কেজি স্কোয়াশ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। একটি স্কোয়াশ দেড় কেজি থেকে আড়াই কেজি পর্যন্ত ওজন হচ্ছে বলে তারা জানিয়েছেন। জমি থেকেই ব্যবসায়ীরা স্কোয়াশ ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিগত বছরে কেশবপুর স্কোয়াশ চাষ হতো না। এ বছর অনেক কৃষক স্কোয়াশ চাষ করেছেন। ফলন ভালো হয়েছে। স্কোয়াশ সবজি ও সালাদ করেও খাওয়া যায়। এটি বিদেশে রপ্তানীযোগ্য ফসল।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি