সরস্বতী পূজা উপলক্ষে সিরাজগঞ্জ ও তাড়াশে প্রায় ২০০ বছরে ধরে ঐতিহ্যবাহী দই মেলা অনুষ্ঠিত। মেলায় দইসহ নানা রসনা বিলাসী খই, চিড়া, মুড়ি, মুড়কি, বাতাসা, কদমাসহ খাবার বেচা-কেনা হচ্ছে। সকাল থেকে দই মেলায় ভিড় করছেন ক্রেতারা। সিরাজগঞ্জের ঘোষরা তৈরি করেন হরেক রকমের দই মিষ্টি। এখানকার তৈরি দই আকর্ষণীয়। খেতেও সুস্বাদু। শ্রীপঞ্চমী তিথি হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তিথিতে শিক্ষার্থীরা ভক্তিসহকারে মা সরস্বতীকে প্রদান করে পুস্পঞ্জলি। সিরাজগঞ্জের মানুষ সরস্বতী মায়ের পূজায় ভোগ হিসেবে ফলমূলের পাশাপাশি দেন দই মেলা থেকে কেনা দই। এ সময় দুর দুরান্তের আত্মীয়স্বজন আসেন তাদের কুটুম বাড়িতে। জামাইয়রা দই কেনেন শ্বশুরবাড়ির জন্য। জনশ্রুতি আছে তাড়াশের তৎকালীন জমিদার বনোয়ারী লাল রায়বাহাদুর প্রথম দইয়ের মেলার আয়োজন করেন। তিনি দই ও মিষ্টান্ন পছন্দ করতেন। এছাড়া জমিদারবাড়িতে আসা অতিথিদের আপ্যায়নে এ অঞ্চলে ঘোষদের তৈরি দই পরিবেশন করা হতো। সে থেকেই জমিদারবাড়ির সামনে রশিক লাল রায় মন্দিরের পাশের মাঠে সরস্বতী পূজা উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী দই মেলার আয়োজন শুরু হয়।
প্রতি বছর মাঘ মাসে শ্রীপঞ্চমী তিথিতে দই মেলায় বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোর থেকে ঘোষেরা দই এনে পসরা সাজান। তবে এখন তিন দিন নয়, একদিন বসে দইয়ের এই মেলা।
শুক্রবার ভোর থেকে সিরাজগঞ্জ শহরের মুজিব সড়ক এলাকায় শুরু হয়েছে দই মেলা। জেলার বিভিন্ন স্থানে থেকে দই ব্যবাসায়ীরা এসে এই মেলায়। এখানে খিরখাশা, খিরশা, চিনিপাতা, খাশাসহ বিভিন্ন প্রকার দই মেলায় উঠেছে। ৪০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা মূল্যের ২ কেজি ওজনের দই বিক্রি হচ্ছে। ভোর থেকে ক্রেতা বিক্রেতাদের হাকডাকে মুখরিত হয়ে উঠেছে দই মেলা প্রাঙ্গণ। মেলা চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। দই নিয়ে আসা এনায়েতপুরের রণজিত ঘোষ বলেন, ৫০ বছর ধরে এই মেলায় দই বিক্রি করে থাকি। আমার পূর্ব পুরুষেরাও এই মেলায় দই বিক্রি করতো। এবার ৮শ হাঁড়ি দই আনা হয়েছে। আশা করছি দুপুরের মধ্যেই সব দই বিক্রি হয়ে যাবে। গত বছরের চেয়ে এবার দইয়ের চাহিদাও রয়েছে অনেক বেশি।
বেলকুচি উপজেলার রাজাপুর গ্রামের সুকুমার কুমার ঘোষ জানান, দুধের দাম, জ্বালানি, শ্রমিক খরচ, দই পাত্রের মূল্য বৃদ্ধির কারণে দইয়ের দামও বেড়েছে। তবে মেলা এক দিনব্যাপী হলেও চাহিদা থাকার কারণে কোনো ঘোষের দই অবিক্রিত থাকে না।
সিরাজগঞ্জ ব্রাহ্মণ কল্যান সমিতির সভাপতি অশোক কুমার ব্যানার্জি বলেন, ঐতিহ্যবাহী সিরাজগঞ্জের দই মেলা প্রায় ২শ বছর হলো চলমান রয়েছে। প্রতি বছরই স্বরসতী পূজা উপলক্ষে এই দই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। আর মেলাকে কেন্দ্র করে সব সম্প্রদায়ের মানুষদের বাড়িতে স্বজনদের ব্যাপক উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়।
মেলায় দই কিনতে আসা জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি অ্যাড. সুকুমার চন্দ্র দাস জানান, সিরাজগঞ্জ ও তাড়াশে স্বরস্বতী পূঁজা উপলক্ষে প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী দইয়ের মেলা বসেছে। মেলাকে কেন্দ্র করে সব সম্পদায়ের মানুষের মাঝে আনন্দ উল্লাসের সৃষ্টি হয়। প্রতি বছরই এই মেলাতে প্রায় ৪ থেকে ৫শ মণ দই বিক্রি হয়।
অর্থ-বাণিজ্য: ২১ দিনে প্রবাসী আয় দুই বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে
অর্থ-বাণিজ্য: ব্যাংক হিসাবে পিছিয়ে পড়া দেশের তালিকায় বাংলাদেশ
আন্তর্জাতিক: এক বছরে তিনবার ঈদের ছুটি! মিলবে ২০৩৯ সালে
আন্তর্জাতিক: ‘ট্রিগারে আঙুল’ রয়েছে, ওয়াশিংটনকে হুঁশিয়ারি ইরানের