image
নাসিনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : মধু সংগ্রহ করছেন মৌচাষি -সংবাদ

নাসিরনগরে সরিষা ও মৌচাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের

প্রতিনিধি, নাসিনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রণোদনা ও কৃষকদের আগ্রহে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে একসময় হারিয়ে যেতে বসা সরিষা চাষ। একই সঙ্গে সরিষার ফুলকে ঘিরে মধু উৎপাদনের সম্ভাবনাও নতুন আশার সঞ্চার করেছে কৃষক সমাজে।

চলতি মৌসুমে এলাকায় কৃষকদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে এই পুরনো ফসলের নতুন সম্ভাবনা। রবি শস্য উৎপাদন বাড়াতে নাসিরনগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ বছর ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সরকারি প্রণোদনার আওতায় প্রায় ৪ হাজার কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং মোট প্রায় ৭ হাজার কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সরিষার বীজ, সার ও অন্যান্য উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার ৯০৮ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের মাধ্যমে প্রায় ১১ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বছর বারি সরিষা-১৪, বারি সরিষা-১৭, বারি সরিষা-২০, বিনা-৯সহ বিভিন্ন উন্নত জাতের সরিষা চাষ হয়েছে।

পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে মধু সংগ্রহের জন্য সরিষার মাঠে স্থাপন করা হয়েছে তিনটি মৌ খামার। এসব খামারে স্থাপিত পাঁচ শতাধিক মৌবাক্স থেকে প্রায় ১২৫ মণের বেশি বিশুদ্ধ মধু সংগ্রহের আশা করা হচ্ছে। গত ২০ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোস্তফা এমরান হোসেন এবং নাসিরনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন সরেজমিনে ফান্দাউক ইউনিয়নের আতুকুড়া গ্রামের একটি মৌখামার ও পার্শ্ববর্তী সরিষার ক্ষেত পরিদর্শন করেন।

এ সময় তারা কৃষকদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন এবং ফসলের অবস্থা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। উপপরিচালক ড. মোস্তফা এমরান হোসেন বলেন, মৌমাছির পরাগায়নের ফলে সরিষার ফলন ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইনের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। পরিদর্শিত খামারের মৌচাষি সৈয়দ উদ্দিন জানান, কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত খামারের খোঁজখবর রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিচ্ছেন। গোকর্ত ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামের কৃষক ভজন চন্দ্র দেব বলেন, কৃষিবিষয়ক সচেতনতামূলক ভিডিও ও পরামর্শ থেকে তিনি নিয়মিত উপকার পাচ্ছেন, যা তাকে সরিষা চাষে আরও আগ্রহী করে তুলেছে।

সম্প্রতি