রবিবার ২৫ জানুয়ারি ঊনবিংশ শতাব্দীর বিশিষ্ট বাঙালি কবি ও নাট্যকার তথা বাংলার নবজাগরণ সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০২তম জন্মবার্ষিকী। তার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছর কপোতাক্ষ নদ তীরে জন্মস্থান সাগরদাঁড়িতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বসে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা। লাখো প্রাণের উচ্ছ্বাসে মেলা প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে উদ্বিপ্ত। কিন্তু আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের করণে এবছর ২৫ জানুয়ারি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে মধুমেলার কার্যক্রম।
মধুসূদন সাগরদাঁড়ি গ্রামে ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি জমিদার বাবা রাজনারায়ণ দত্ত ও মা জাহ্নবী দেবীর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম আধুনিক কবি, প্রথম সার্থক নাট্যকার। মধুসূদন সাত বছর বয়সে কলকাতা যান। খিদিরপুর স্কুলে দুই বছর পড়ার পর ১৮৩৩ সালে কবি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। বাংলা, ফারসি ও সংস্কৃত ভাষায় শিক্ষা লাভ করেন। ১৮৪৪ সাল থেকে ১৮৪৭ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতায় বিশব কলেজে অধ্যায়ন করেন। সেখানে গ্রিক, ল্যাটিন ও সংস্কৃত ভাষা শেখেন। তিনি মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভুক্ত হাইস্কুলে শিক্ষাকতা করেন। মাদ্রাজ থেকে প্রকাশিত পত্রিকা মাদ্রাজ স্পেক্টেটরের সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৮৬২ সালের ৯ জুন ব্যারিস্টারি পড়ার জন্যে তিনি বিলেত যান। ১৮৬৬ সালে তার স্বপ্নের ব্যারিস্টারি পাশ করেন।
মাইকেল মধুসূদন বাংলা ভাষায় সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। তিনি বাংলা সাহিত্যের পাশাপাশি ইংরেজি সাহিত্যেও অসামান্য অবদান রাখায় বিশ^বাসী এই ধীমান কবিকে মনে রেখেছে কৃতজ্ঞচিত্তে। যদিও তার প্রথম ইংরেজি কাব্যগ্রন্থ ‘ঞযব ঈধঢ়ঃরাব খধফরব’-কে ইংরেজরা তখন সাদরে গ্রহণ করেনি। পাশ্চত্যের প্রতি আর্কষিত মধুসূদন ১৮৪৩ সালে খ্রিস্ট ধর্মে দীক্ষিত হয়ে ‘মাইকেল’ উপাধি ধারণ করেন। তিনি ইংরেজদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এটি রচনা করলে গ্রন্থটি তৎকালীন ইংরেজ সাহিত্যিকদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করে। মধুসূদন থাকলে তাদের সাহিত্যকর্ম স্থান পাবে না এই সংশয় তাদের মাঝে প্রকটভাবে দানা বাধতে থাকে। ইংরেজি সাহিত্যে তার কীর্তির যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ায় তিনি মনক্ষুণ্ণ হয়ে পড়েন। তখনই বুঝতে পারেন শেকড় ভোলোার জ্বালা। ইংরেজি সাহিত্য থেকে ছিটকে পড়ে বন্ধু মহলের পরামর্শে মধুসূদন বাংলা ভাষায় সাহিত্য রচনায় মনোনিবেশ করেন। তিনি বাংলা সাহিত্যে উপহার দেন শর্মিষ্ঠা, পদ্মাবতী, তিলোত্তমা সম্ভব কাব্য, কৃষ্ণকুমারী, মেঘনাদবদ কাব্য, চতুর্দশপদী কবিতাবলী, হেক্টরবধ-এর মতো বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম।
মধুসূদন দত্ত নাট্যকার হিসেবেই প্রথম বাংলা সাহিত্যের অঙ্গনে পদার্পণ করেন। ১৮৫৯ সালে তিনি রচনা করেন ‘শর্মিষ্ঠা’ নাটক। এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক। ১৯৬০ সালে রচনা করেন দুটি প্রহসন ‘একেই কি বলে সভ্যতা’ ও বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ এবং পুর্ণাঙ্গ পদ্মাবতী নাটক। পদ্মাবতী নাটকেই তিনি প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার করেন। একের পর এক রচনা করেন ‘মেঘনাদ বধ কাব্য’ (১৮৬১), নামে মহাকাব্য, ‘ব্রজাঙ্গনা’ কাব্য (১৮৬১), ‘কৃষ্ণকুমারী’ নাটক (১৮৬১), চতুর্দশপদী কবিতা (১৮৬৬)। মধুসূদনের শেষ জীবন চরম দুঃখ ও দারিদ্র্যের মধ্যদিয়ে অতিবাহিত হয়। আইন ব্যবসায় তিনি তেমন সাফল্য লাভ করতে পারেননি। তা ছাড়া অমিতব্যয়ী স্বভাবের জন্য তিনি ঋতগ্রস্ত হয়ে পড়েন। মহান এ কবি ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন আলিপুর হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
আন্তর্জাতিক: ইরাকে মার্কিন দূতাবাসের ক্যাম্পে ড্রোন হামলা
জাতীয়: ঢাকার বায়ু আজ অস্বাস্থ্যকর