image
বোরহানউদ্দিন (ভোলা) : খননের অভাবে সেচকাজ ব্যাহত -সংবাদ

বোরহানউদ্দিনে খননহীন খাল নিয়ে বিপাকে ৬০০ কৃষক

প্রতিনিধি, বোরহানউদ্দিন (ভোলা)

দুই বিঘা জমির আমন ও বোরো ধান আর দুটো গরুর দুধ বিক্রির আয় দিয়ে বেশ ভালোই সংসার সামলাচ্ছিলেন ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার পক্ষীয়া ইউনিয়নের কৃষক নূর ইসলাম ফরাজী। কয়েক বছরে আগেও পৌষের শেষ ও মাঘ মাসের শুরুতে তিনি বোর ধান রোপণ ও চাষ নিয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকতেন। কিন্তু এখন তার আর সেই কর্মব্যস্ততা নেই। চাষের জন্য সেচের ব্যবস্থা না থাকায় খালি ফেলে রাখছেন উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম ফসলি জমি। বরং বয়সন্ধিকাল থেকে কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করা নূর ইসলাম এখন সংসার সামলতে বিকল্প পেশা খুঁজছেন।

কয়েক বছর আগেও যেই খালের পানি দিয়ে ধান চাষ করতাম, সেই খাল এখন মরা নালা হয়ে গেছে। সেচের জন্য এই খালে আর পানি পাওয়া যায় না। কোন বিকল্প না থাকায়, জমি ফেলে রাখতে হচ্ছে, এক রাজ্য দুশ্চিন্তা প্রকাশ করে বলেন নূর ইসলাম ফরাজী।

শুধু নূর ইসলাম ফরাজীই নন, খালের নাব্যতা হারিয়ে যাওয়ার পর খনন না হওয়ায় বোরো ধানের চাষাবাদ নিয়ে বিপাকে রয়েছেন ওই উপজেলার দুই ইউনিয়নের প্রায় ৬০০ কৃষক। কেউ কেউ তাদের চাষের পুরো জমি খালি ফেলে রাখছেন, আর কেউ কেউ সেচের প্রয়োজন হয় না এমন বিকল্প সবজি ও শস্য চাষ করে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করছেন।

কৃষকরা জানান, মেঘনা নদীর মাছ ঘাট হতে প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ নয়া মিয়ার হাট খালটি পক্ষিয়া ইউনিয়নের শেষ সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত। খালটির এক পাশে পক্ষিয়া ইউনিয়ন। আর অন্যপাশে টবগী ইউনিয়ন। এই খালের পানি দিয়েই কয়েক যুগ ধরে দুই ইউনিয়েনের প্রায় ৪০০ হেক্টর জমিতে বোর ধান চাষ হয়ে আসছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নয়া মিয়ার হাট খালে জোয়ার ভাটা না থাকায় সেচ ব্যবস্থা ব্যহত হচ্ছে। বাধা গ্রস্ত হচ্ছে বোরো ধান চাষ। এতে করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে সর্বশেষ ২০০৫ সালে এই এলাকায় খাল খনন হয়েছে। এরপর বিগত ২০ বছরে এই খাল খনন হয়নি। অন্যদিকে উপকূলীয় এলাকা হওয়ার কারণে প্রতি বছর বর্ষায় প্লাবিত হয়ে নদীর পলি জমে খালটির নাব্যতা হারিয়ে গেছে।

ভুক্তভোগী কৃষকরা বলেন, এক দশক আগেও যেসব জমিতে বোরো ধানের চাষ হতো, সেসব জমিতে এখন চাষ হচ্ছে গম, ভুট্টা, খেসারি ডাল ও আলু। এতে সংকট পড়ছে ধান ও চাল উৎপাদন। খাদ্য সংকটে হ্রাস পেয়েছে গবাদি পশুর লালন পালন ও দুগ্ধ উৎপাদন। আর দুধ উৎপাদন কমাতে পুষ্টিহীনতা নিয়ে বড় হচ্ছে দুই ইউনিয়েনের কয়েক গ্রামের শিশু-কিশোররা। স্থানীয় জাহাঙ্গীর হাজী বলেন, একটা সময় খালটি হাজারো মানুষের প্রাণ ছিলো। কিন্তু খনন না করার কারণে বর্তমানে খালটি এলাকার কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

খালটি দিয়ে পানি আসা-যাওয়ার মাধ্যমে মানুষের উপকার হওয়ার কথা থাকলেও এই খালটি দিয়ে বর্তমানে মানুষের অপকারই হচ্ছে বেশি। দীর্ঘদিন খনন না করার কারণে বর্ষাকালে এলাকায় কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি হয়, বলেন জাহাঙ্গীর।

সরেজমিনে দেখা যায়, দুটি ইউনিয়নের কৃষকের বোরো ধান রোপণের জন্য পানি আসার একমাত্র খালটি বর্তমানে পানি শূন্য হয়ে আছে। গ্রীষ্মের মৌসুমে ফসলি জমি শুকিয়ে চৌচির হয়ে গেছে। বর্তমানে এই ইউনিয়নগুলো ধান চাষ প্রায় বিলুপ্তির পথে।

স্থানীয় কৃষক নূর ইসলাম ফরাজী, মো. আব্বাস হোসেন, আব্দুল আলী, আলম ম্যানেজার, বাবুল সহ একাধিক কৃষক এলাকার মানুষের স্বার্থে খালটি খনন করার জন্য প্রশাসনকে এগিয়ে আসার দাবি জানান।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) পরিচালক হাবিবুর রহমান দৈনিক সংবাদ-কে বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খলটি খননের লিস্ট দিতে পারিনি। নতুন অর্থ বছরের বাজেটে আমার খালটির লিস্ট দিবো।

অন্যদিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলার কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন জানান (বিএডিসি) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না থাকায় এই অর্থবছরে কিছু করতে পারছি না। তবে কৃষকের সুবিধার জন্য তাদের একটি দরখাস্ত নিয়ে সরকারি দপ্তর থেকে খালটি খননের চেষ্টা করার কথা জানান তিনি।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি