শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগদানকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনটি ঘরে অগ্নিসংযোগ, নয়টি ঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তিনটি অবিস্ফোরিত তাজা হাতবোমা। এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। এখনো পর্যন্ত মামলা হয়নি।
গত শুক্রবার রাতের দিকে শরীয়তপুর সদর উপজেলার চরগয়ঘর এলাকায় শৌলপাড়া ইউনিয়নে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুখোশ পরিহিত একদল দুর্বৃত্ত মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এরপর তারা ঘরবাড়ি ও আসবাব ভাঙচুর করে, বাড়ি বাড়ি লুটতরাজ চালায় এবং একপর্যায়ে কয়েকটি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে ঘরের আসবাব ও মূল্যবান জিনিসপত্র পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শৌলপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের উপজেলা সদস্য ভাসানী খান চলতি মাসের ১৭ তারিখ তার সমর্থকদের নিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন বিএনপির কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নেতা হেলাল উদ্দীন আকনের সঙ্গে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। তাকে পাশ কাটিয়ে বিএনপিতে যোগদান মেনে নিতে পারেননি তিনি ও তার অনুসারীরা। এর জের ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
ভাসানী খানের ভাতিজা শাহজাহান খান বলেন, আমার কাকা ভাসানী খান আগে আওয়ামী লীগ করতেন তবে আওয়ামী লীগ থেকে তিনি নির্বাচনে অংশ নেননি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার তো বিরোধ ছিল বলেই তিনি সমর্থকদের নিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেন। কিন্তু সেটা মেনে নিতে পারেননি শৌলপাড়ার বাসিন্দা বিএনপির জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতা হেলাল উদ্দিন আকন্দ। এরপর থেকে তিনি দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন।
তিনি আরও বলেন, যোগদানের সাত দিন পর ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে চলে যায়। সেই সুযোগেই তার বাড়ি ও সমর্থকদের বাড়িঘরে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। লুটতরাজ করে অগ্নিসংযোগ ঘটায়।
ঘটনার পর এলাকা পরিদর্শন করে পুলিশ তিনটি অবিস্ফোরিত তাজা হাতবোমা উদ্ধার করেছে। এতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় আতঙ্কিত এলাকার মানুষ। তারা বলছেন, নির্বাচনের আগে এমন সহিংসতা মেনে নেয়া যায় না। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতিতে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নির্বিঘ্নে ভোট দেয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, রাতে ককটেল বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। আমরা পরিবার নিয়ে ঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হই। নির্বাচনের আগে এমন ঘটনা আমাদের খুব ভীত করে তুলেছে।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরদার এ কে এম নাসির উদ্দীন কালু বলেন, এই ধরনের ঘটনা দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষু্ণ্যে করে। দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী তৎপর রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
চিকন্দী ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক গোলাম রসূল বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। এলাকায় অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: পদ্মাসেতুর টোল পরিশোধ করা যাচ্ছে নগদের মাধ্যমে
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: পাবজি মোবাইল রাইজিং স্টার টুর্নামেন্টের অংশীদার রবি
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নে এসআইসিআইপি এবং বাক্কোর মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর
অপরাধ ও দুর্নীতি: গাজীপুরে ভুয়া ডিবি ও সাংবাদিক পরিচয়ে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৫