বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্তি না দিয়ে কারাফটকে তার স্ত্রী ও ৯ মাস বয়সি সন্তানের লাশ দেখানোর বিষয়ে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। এ বিষয়ে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একটি চিঠি রোববার,(২৫ জানুয়ারী ২০২৬) সামনে এনেছে কারা অধিদপ্তরের মিডিয়া সেল।
সেখানে বলা হয়েছে, স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পর কারাবন্দী সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির জন্য তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ‘আবেদন করা হয়নি’। কিন্তু বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন অন্য কথা। তিনি বলেন, তার প্রশাসন বরাবর সাদ্দামের পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোলে মুক্তির জন্য ‘আবেদন করা হয়েছিল’। তার ভাষ্য, ‘তবে আবেদনটি সঠিক জায়গায় হয়নি’।
মো. বাতেন আরও বলেন, তারা সাদ্দামের পরিবারকে যশোর জেলা প্রশাসকের কাছে যেতে পরামর্শ দিয়েছিলেন। কারা অধিদপ্তর বলছে, সাদ্দামকে কারাফটকে স্ত্রী-সন্তানের লাশ দেখানোর বিষয়টি নিয়ে ‘অপপ্রচার চালানো হচ্ছে’, এ কারণে ‘সবার অবগতির জন্য’ এই ব্যাখ্যা তারা দিচ্ছে।
‘কারা কর্তৃপক্ষ প্যারোলে মুক্তিসংক্রান্ত কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করে না। এটা সম্পূর্ণ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ারাধীন। কারা কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র এটাকে ইমপ্লিমেন্ট বা বাস্তবায়ন করে।’ চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণআন্দোলনের সময়কার একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেলা কারাগারে রয়েছেন সাদ্দাম। গত শুক্রবার বিকেলে বাগেরহাট সদরের কাড়াপাড়া ইউনিয়নের সাবেকডাঙা গ্রাম থেকে তার স্ত্রী সুবর্ণা স্বর্ণালী ও সন্তানের লাশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ বলছে, তারা সুবর্ণা স্বর্ণালীকে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলে থাকা অবস্থায় এবং ছেলেকে মেঝে থেকে উদ্ধার করেছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় সাদ্দামের সন্তান ও তার স্ত্রীর লাশ নেয়া হয় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে। সেখানে তাদের শেষবারের মত ছুঁয়ে দেখেন সাদ্দাম। এরপর আবার তাকে কারাগারের পাঠানো হয় বলে জেলার আবিদ আহম্মেদ জানান।
স্ত্রী-সন্তানের জানাজায় আসতে সাদ্দামকে ‘প্যারোলে মুক্তি না দেয়ায়’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা হয়। এরপর কারা কর্তৃপক্ষ এই ব্যাখ্যা দিলো। যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে দেয়া চিঠিতে বলা হয়, ‘বাগেরহাট কারাগার থেকে গত বছর ১৫ ডিসেম্বর যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আগত বন্দী জুয়েল হাসান সাদ্দাম নামক ব্যক্তির স্ত্রী ও সন্তান মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, যশোর কিংবা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ বরাবর প্যারোলে মুক্তির কোনো ধরনের আবেদন করা হয়নি।
‘বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পরিবারের বক্তব্য থেকে জানা যায় সময় স্বল্পতার কারণে তাদের পারিবারিক সিদ্ধান্তে প্যারোলে মুক্তির আবেদন না করে জেল গেইটে লাশ দেখানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।’
চিঠিতে বলা হয়, ‘ফেইসবুকের বিভিন্ন পোস্টে উল্লিখিত বন্দীর স্ত্রীকে লিখিত চিঠি, কারাগারে বন্দী অবস্থায় ছবি দেখা যাচ্ছে যা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়।’ আবেদনের পরেও প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি এধরনের তথ্যও ‘মিথ্যা’ বলে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভাষ্য।
চিঠিতে বলা হয়, ‘যশোর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর প্যারোলে মুক্তিসংক্রান্ত কোনো আবেদনই করা হয়নি। বরং পরিবারের মৌখিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কারা কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে মানবিক দিক বিবেচনায় কারা ফটকে লাশ দেখানোর ব্যবস্থা করে।’
এদিকে প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের ফেইসবুক পেইজে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কাছে সাদ্দামের মামা হেমায়েত উদ্দিনের লেখা একটি চিঠি পোস্ট করে বলেছেন, ‘মানবিকতা বিবর্জিত কতিপয় গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করছে কারাবন্দী জুয়েল হোসেন সাদ্দামকে, তার স্ত্রী ও সন্তানের জানাজার নামাজ ও দাফনে অংশগ্রহণ করতে পরিবারের পক্ষ থেকে কোন আবেদন করা হয়নি।
‘সাদ্দামের পরিবার এই প্যারোলের আবেদনটি নিয়ে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসন হতে যশোরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় পর্যন্ত ছুটে গেছে কিন্তু ব?্যুরোক্রেসির মারপ্যাঁচ আর সাপ্তাহিক ছুটির দিনের ছুতোয় কেউই তাদের সহায়তা করতে শক্ত পদক্ষেপ নেননি। ‘বরং স্থানীয় পুলিশের ডিএসবি প্রতিবেদন দেয় যে সাদ্দামকে নিয়ে আসা হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। হাজার হাজার মানুষ জড়ো হতে পারে, সেই আশঙ্কা থেকে জেলা প্রশাসনকে জানানো হয় তাদের আবেদনটি পজেটিভভাবে না নেয়ার জন?্য। ধিক্কার জানাই সংশ্লিষ্ট সকলকে, শেইম অন ইউ।’
বাগেরহাট জেলা প্রশাসন যা বলছে
এদিকে সাদ্দামের মামার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এক প্রশ্নে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, ‘সাদ্দামের প্যারোলের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। তবে আবেদনটির সঠিক জায়গায় না করায় তাদের (সাদ্দামের পরিবার) যশোর জেলা প্রশাসকের কাছে যেতে পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। বিষয়টি তারা স্বাভাবিকভাবে নিয়েই চলে যান।’ ‘অত্যন্ত সহানুভূতির সঙ্গে’ বিষয়টি দেখে যশোর জেলা প্রশাসকের কাছে যাওয়ার পাশাপাশি জেল সুপারকেও বলা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন মো. বাতেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাদ্দামকে ‘প্যারোলে মুক্তি না দেয়া’ নিয়ে যে তথ্যটি ছড়িয়েছে সেটি ‘সত্য নয়’ বলেও বলেন বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন।
শোক ও স্মরন: সাংবাদিক প্রশান্ত ঘোষাল মারা গেছেন
অপরাধ ও দুর্নীতি: অভিনেত্রী ঊর্মিলাসহ তিনজনের সম্পদের হিসাব চায় দুদক
অপরাধ ও দুর্নীতি: স্ত্রী-সন্তানসহ আছাদুজ্জামান মিয়ার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, সম্পদ জব্দ
নগর-মহানগর: আহনাফের মৃত্যুর বিচারটা কইরেন: আদালতকে মা