image
চাটমোহর (পাবনা) : সাহবাড়ি ঘাটে অস্থায়ী চড়াটে ঝুঁকিপূর্ণ পথে মানুষ নদী পার হয় -সংবাদ

চাটমোহরে ৫০ বছর ধরে বাঁশের সাঁকোতে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

প্রতিনিধি, চাটমোহর (পাবনা)

নিচে নদীর শান্ত জল, আর তার উপর বাঁশ দিয়ে তৈরি অস্থায়ী চড়াট এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ দিয়েই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছেন কমলমতি শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ, যুবক, কৃষক ও কর্মজীবী মানুষ। পাবনার চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা ইউনিয়নের দিঘল গ্রামের সাহবাড়ি ঘাটে দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ধরে একটি স্থায়ী ব্রিজের অপেক্ষায় রয়েছেন অন্তত ৩০টি গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় এই ঘাট দিয়েই প্রতিদিন স্কুলগামী শিক্ষার্থী, কৃষিপণ্য বহনকারী কৃষক, কর্মস্থলে যাতায়াতকারী শ্রমজীবী মানুষ এমনকি মোটরসাইকেল নিয়েও ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে বাধ্য হচ্ছেন। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বেড়ে গেলে বাঁশের চড়াট আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। সামান্য পা পিছলে গেলেই ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা। ইতোমধ্যে এমন কয়েকটি দুর্ঘটনাও নাকি ঘটেছে এই বিপজ্জনক বাঁশের চড়াটে। বিপাকে পড়তে হয় গর্ভবতী নারী এবং নদীর ওপারে আবাদি কৃষকদের ফসল আনা নিয়ে। নদীর এপাড়ে রয়েছে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা।

বছরের পর বছর জনপ্রতিনিধিদের কাছে দাবি জানানো হলেও আজও বাস্তবায়ন হয়নি একটি স্থায়ী ব্রিজ। এই গ্রামের কষকরা জানান এই চড়াট দিয়েই আমাদের ফসল নিয়ে বাজারে যেতে হয়। অনেক সময় মোটরসাইকেল নিয়ে পার হতে গিয়ে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। এক স্কুলশিক্ষার্থী জানায়, ভয়ে ভয়ে স্কুলে যাই, কখন যে দুর্ঘটনা ঘটে কে জানে।

স্থানীয় প্রবীণদের মতে, স্বাধীনতারও বহু বছর আগে থেকেই এই ঘাটে পারাপারের জন্য ব্রিজের প্রয়োজনীয়তা অনুভব হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি। ফলে প্রতিদিনই ঝুঁকির মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।

এ বিষয়ে চাটমোহর উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যাইনি বলে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত দৃষ্টি আকর্ষণ এবং সাহবাড়ি ঘাটে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের আশা, একটি ব্রিজ নির্মিত হলে শুধু যাতায়াতের ঝুঁকি কমবে না, বরং পুরো এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» প্রজাতন্ত্র দিবসে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি রপ্তানি বন্ধ

সম্প্রতি