চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার সুবলপুর গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত ভৈরব নদের পানি ধারণক্ষমতা, প্রবাহ ও নাব্যতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শুকনা মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষ্যে একটি প্রকল্প হাতে নেয় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এই প্রকল্পটি এই জনপদের চাষিরা সুফল পেতে শুরু করলে পাল্টে যাবে এ জনপদের অর্থনীতির চিত্র। তাই নতুন দিগন্তের হাত ছানি দিচ্ছে ভৈরব নদে নির্মাণাধীন স্লুইস গেট।
পাউবোর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি প্রকল্পটির কাজ উদ্বোধন করেন সাবেক সংসদ সদস্য আলী আজগার টগর। যদিও ২০২১-২২ অর্থবছর শুরু হওয়া কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২২-২৩ অর্থবছরে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয়েছিল ৩১ কোটি ১৫ লাখ ৫৪ হাজার ২৬২ দশমিক ৪৬৫ টাকা। চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ২৮ কোটি ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৮৩৬ দশমিক ২১৯ টাকা। ২০২২ সালের ২১ জুলাই কার্যাদেশ দেয়া হলেও কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের ২৭ জুলাই। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড ও কুষ্টিয়ার ঠিকাদার নাসির উদ্দিন মোল্লা যৌথভাবে কাজটি করছেন। দামুড়হুদা উপজেলার সুবলপুর গ্রামে ভৈরব নদের ভেতর ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৪ ভেন্ট বিশিষ্ট ওয়াটার রিজার্ভার নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। দ্বিতীয় দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে কাজটি ২০২৫ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে প্রকল্পের মেয়াদ আরেক দফা বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা বলেন, ভৈরব নদে দেয়া বাঁধের কারণে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ফসলি জমিতে বর্ষা মৌসুমে দেখা দিয়েছিল জলাবদ্ধতা। পাশাপাশি বাঁধ উপচেপড়া পানিতেও তাদের ফসল ডুবে যায়। উপজেলার সুবলপুর, পাটাচোরা, কাঞ্চনতলা, রঘুনাথপুর, ছুটিপুর ও কাজলার চর এলাকার ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার ফলে। ফসল রক্ষায় কয়েকটি গ্রামের কৃষক সুবলপুরে ভৈরব নদের বাঁধ কেটে দিয়ে ছিল। ফলে জমি থেকে কিছুটা পানি সরে যায়।
গ্রামটির একাধিক বাসিন্দারা বলেন, নদের মাঝে ওয়াটার রিজার্ভার নির্মাণ শুরু হওয়ার আগেই মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি শুরু করেন। দুই পাড়ের মাটি না থাকলে তার ঘরবাড়ি ভাঙনের কবলে পড়বে। এত বড় একটি প্রকল্পে দুই-পাঁচজন শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। গত চার বছর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খেয়াল খুশি মতো কাজ করে আসছে। নদে বাঁধ দেয়ার কারণে ধান ও পাট ডুবে যাচ্ছে। ফসল বাঁচাতে এলাকার চাষিরা বাঁধ কেটে দিয়েছে। কাজের ধীরগতির কারণে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তারা কাজ টির দ্রুত বাস্তবায়ন চাই এবং এর সুফল পেতে চাই অপেক্ষা করছে।
চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক মুন্সী বলেন, ‘ছয়-সাতটি নদ-নদীর উৎসমুখ হচ্ছে চুয়াডাঙ্গা। এখান থেকে নদ-নদীগুলো খুলনাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে গেছে। এমন একটি নদ ভৈরব। কিছুদিন আগে নদটি সংস্কার করা হয়েছে। কিন্তু ব্যবস্থাপনা ত্রুটির কারণে নদ থেকে যতটা সুযোগ-সুবিধা এলাকার মানুষের পাওয়ার কথা, তা পাওয়া সম্ভব হয়নি। পানিপ্রবাহ আটকে সুবলপুর পয়েন্টে অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি এমন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়েছে, যাদের এ ধরনের কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। নদী শাসনের কোনো যন্ত্রাংশ তাদের নেই। নদের প্রবাহ আটকে যে অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে, তা কল্যাণের চেয়ে অকল্যাণই বেশি হবে। দীর্ঘদিন বাঁধ দিয়ে পানিপ্রবাহ ঠেকিয়ে রাখার ফলে নদের তলদেশে পলি জমে নাব্যতা হারাবে। ফলে নদের পানি ধারণক্ষমতা কমে যাবে। যে অর্থ ব্যয় করে নদটি খনন করা হয়েছে। সে অর্থ পানিতেই চলে যাবে।
চুয়াডাঙ্গা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদ বলেন, ‘পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো নির্মাণকাজ ৮৭ শতাংশ শেষ হয়েছে। ওই পরিমাণ কাজে ব্যয় হয়েছে ২২ কোটি ২৮ লাখ টাকার কিছু বেশি। কাজটি পুরোপুরি শেষ হলে সুবিধা-অসুবিধা বোঝা যাবে। ভৈরব নদে বাঁধ দেয়ার কারণে ফসল নষ্ট হওয়া প্রসঙ্গে বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সেদিকে সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়।
উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি অফিসার অভিজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, ভৈরব নদে শুরুতেই বাঁধ দিয়ে নদের পানিপ্রবাহ আটকে দিয়ে কাজ শুরু করে। বাঁধের কারণে ও ফসলি জমি বর্ষা মৌসুমেবৃষ্টির পানিতে আমন ধান ও আউষ ধান পানিতে তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বাঁধ কেটে দিলে ফসলি জমি থেকে পানি বের হয়ে যায়। ভৈরব নদের পানি ধারণক্ষমতা, প্রবাহ ও নাব্যতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শুকনা মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষ্যে প্রকল্পটি হাতে নেয় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এই প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তববায়ন হলে এই জনপদের চাষিরা সুফল পেতে শুরু করলে পাল্টে যাবে এ জনপদের চিত্র। কৃষি বিভাগ বিষয়টি নজরে রেখেছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: জলবায়ু পরিবর্তন: ‘ইমাজেন ভেঞ্চারস পিচ ডে’ বিজয়ী খুলনার তরুণ উদ্ভাবকদল
নগর-মহানগর: দোহারে নির্বাচনী আচারণবিধি লঙ্ঘনে জরিমানা
সারাদেশ: বাগেরহাটে নারী গলাকাটা মৃতদেহ উদ্ধার