image

চকরিয়ায় বারুদ মরিচের বাম্পার ফলন

প্রতিনিধি, চকরিয়া (কক্সবাজার)

চলতি রবি শস্য মৌসুমে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী নদীর তীরের চরের জমিতে হাইব্রিড জাতের বারুদ মরিচের বাম্পার ফলন এসেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারণে এ বছর শুধু নদীর তীরে নন, উপজেলার বিভিন্ন জনপদের উর্বর জমিতে মরিচ চাষ করে রেকর্ড ফলন পেয়েছেন কৃষকরা।

তুলনামূলক কম খরচ এবং অল্প পরিশ্রমে কাঁচা মরিচের বাম্পার ফলনে বেশিরভাগ কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

চকরিয়া উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি অফিসার (হিসাব ও উন্নয়ন) মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, চলতি রবিশস্য মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মোট ৬৫৫ হেক্টর (১৫৩৭ একর) জমিতে হাইব্রিড জাতের মরিচ চাষ করা হয়েছে।

মাতামুহুরীর তীরের জনপদ বিশেষ করে উপজেলার কৈয়ারবিল, লক্ষ্যারচর, কাকারা, বিএমচর, চিরিঙ্গা, বরইতলী এবং চকরিয়া পৌরসভার চরাঞ্চলে মৌসুমি মরিচ চাষ বেশি হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছে, হাইব্রিড জাতের মধ্যে বারুদ মরিচে বেশি ফলন এসেছে।

হাইব্রিড জাতের বারুদ মরিচের বীজ বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের মেসার্স শহীদ এগ্রোসিড ফার্মের চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড বারুদ মরিচ চাষে উপযুক্ত আবহাওয়া, সঠিক জাত বাছাই এবং আধুনিক কৃষি পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়।

এভাবে কৃষকরা বারুদ মরিচ চাষ করে বিঘা প্রতি প্রায় ৩০ মণের ওপরে কাঁচা মরিচ উৎপাদন করতে সক্ষম। আমরা কৃষকদের মাঝে সেরা বীজটি পৌঁছে দেয়ার জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকি। যাতে আমাদের পন্য ব্যবহার করে কৃষকরা ভালো ফসল উৎপাদন করতে পারে।

চকরিয়া উপজেলা কৃষি বিভাগের উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার মো. মহিউদ্দিন বলেন, মরিচ চাষে বাম্পার ফলনের জন্য চাষের আগে উন্নত জাত নির্বাচন, মাটি ও জমি তৈরি করা, যেখানে পানি জমে না, এমন উঁচু জমি নির্বাচন করা। চারার বয়স নির্ধারণ করে ২৫-৩০ দিনের সুস্থ চারা রোপণ, সুস্থ ও রোগমুক্ত চারা পেতে ট্রে-তে বা নার্সারি বেডে (কম্পোস্ট মিশ্রিত) চারা উৎপাদন করা।

চিরিঙ্গা ইউনিয়নের বুড়িপুকুর এলাকার কৃষক মো. আমির হোছেন বলেন, বারুদ মরিচের বীজ এবছর প্রথমবার জমিতে চাষ করেছি। এখন দেখছি খেতের প্রতিটি গাছ মরিচের ভারে নুঁইরে পড়েছে। আমি আশাবাদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে খেতের মরিচ বিক্রি করে ভালো দাম পাব।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চলতি রবিশস্য মৌসুমে হাইব্রিড জাতের বারুদ মরিচ চাষে বাম্পার ফলন এসেছে বিএমচর ইউনিয়নের কন্যারকুম এলাকার কৃষক মো. মনোয়ার আলমের জমিতে। একই অবস্থা দেখা মিলেছে চকরিয়া পৌরসভার হালকাকারা মৌলভীরচরের কৃষক মোহাম্মদ সেলিমের জমিতে।

বারুদ মরিচ বীজের বাজার প্রসঙ্গে মেসার্স শহীদ এগ্রোসিড ফার্মের চকরিয়া অঞ্চলের ম্যানেজার মেহেদী হাসান বলেন, বর্তমানে চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে এক কেজি কাঁচা মরিচ খুচরা ৯০ টাকা ও পাইকারি ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। জমিতে আশাজাগানিয়া বাম্পার ফলনের কারণে বারুদ মরিচ বীজ এই অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে একযুগের বেশি সময় ধরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার শাহনাজ ফেরদৌসী বলেন, চলতি রবিশস্য মৌসুমে উপজেলার ৬৫৫ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারণে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আরও বেশি জমিতে মরিচ চাষ করেছেন কৃষকরা।

তিনি বলেন, চাষের আগে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে সরকারি প্রনোদনা কর্মসুচির আওতায় বিনামূল্যে সার দেয়া হয়েছে। এছাড়া এবার আগেভাগে মাতামুহুরী নদীর দুই পয়েন্টের রাবার ড্যাম দুটি ফুলানোর মাধ্যমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হয়েছে। তাতে মরিচ চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি