image
ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

নেত্রকোণা-১ আসন: দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা

ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রচারণায় ব্যস্ত নেতাকর্মীরা

প্রতিনিধি নেত্রকোনা

নেত্রকোণা-১ আসন দুর্গাপুর ও কলমাকান্দায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাওয়া-খাওয়া-ঘুম ভুলে প্রচারণায় মুখরিত। পাহাড়, সমতল আর ভাটি বাংলার প্রিয়মুখ বিত্রনপির আইন বিষয়ক ও আইজীবী ফোরামের মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে রেকর্ডসংখ্যক ভোটে বিজয়ী করতে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা মহল্লা মহল্লায় ক্যাম্প স্থাপন করে প্রচারণা চালাচ্ছেন ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রদান করতে।

উপজেলার বড় বড় বাজার, প্রতিটি ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রতীকের লিফলেট বিতরণ ও ভোট পার্থনার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। দুর্গাপর ও কলমাকান্দা উপজেলার কলমাকান্দা সদর, নাজিরপুর বাজার, পাচগাঁও-লেঙ্গুরা বাজার, গুতুরা ও ফুলবারী বাজার, গোবিন্দপুর বাজার, বিষরপাশা বাজার। দুর্গাপুর সদর বাজার, চন্ডিগড় বাজার, কুমুদগঞ্জ, বিরিশিরি, গুজিরকোণা, উৎরাইল, ডাকুমারা ইসলামপুর শিবগঞ্জ বাজার, তিনালী বাজার, ঝাঞ্জাইল বাজার, বিপিনগঞ্জ বাজার, দুর্গাপুর সদর পান মহল কাঁচা বাজার, তেরীবাজার, বউ বাজার, শীব মন্দীর ও মধ্য বাজারসহ প্রায় জায়গায় পথসভা করে লিফলেট বিতরণ করে ধানের শীয়ে ভোট প্রার্থনা করেছেন।

বিভিন্ন পথ সভায় ও উঠান বৈঠকে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তার সক্ষিপ্ত ভাষণে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে দুস্থ মহিলাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ডের মাধ্যমে অনুদানের ঘোষণা দেন। তাছাড়া ইতোমধ্যে তিনি শিক্ষর্থী, কৃষক-শ্রমিক, কুলি-মজুর, ব্যবসায়ী, পর্যটকসহ নানা পেশা ও শ্রেণির মানুষের দুর্ভোগ লাগবে সোমেশ্বরী নদী বিনামূল্যে পারাপারের জন্য ৩টি কাঠের ব্রিজ নির্মাণ করে দেন। ব্রিজগুলো দুর্গাপুর-শিবগঞ্জ কাঠের ব্রিজ (৭৫০ ফুট দীর্ঘ), দুর্গাপুর -চৈতাটি কাঠের ব্রিজ (৪৪৬ ফুট দীর্ঘ) ও গাঁওকান্দিয়া-বিরিশিরি কাঠের ব্রিজ (১১০ ফুট দীর্ঘ)। গোদারিয়া-নাগপুর বাজারের মাঝে বালছ নদীর ওপর ৮০ ফুট দৈর্ঘ্য ৬ ফুট প্রস্থ বাঁশের স্ট্রাক্চারের উপর কাঠের সেতু নির্মাণ করেন। শুকনাকুড়ি-পুকুরিয়াকান্দা কাকুরিয়া নদীর উপর ১৮০ ফুট দৈর্ঘ্য ৩ ফুট প্রস্থ বাঁশের স্ট্রাকচারের ওপর কাঠের সেতু নির্মাণ করেন।

বিনামূল্যে সোমেশ্বরী নদী পারাপারের এই বিস্ময়কর ও আকর্ষণীয় উদ্যোগকে এলাকাবাসী অভিনন্দন জানিয়েছেন। জুলাই-আগস্ট ২০২৪ আন্দোলনে দুর্গাপুর উপজেলার ৪ জন শহীদ হয়েছেন। শহীদ সাইফুল ইসলাম সেকুল, শহীদ উমর ফারুক, শহীদ মাসুম বিল্লাহ ও শহীদ জাকির হোসেন। তাদের প্রত্যেক পরিবারের প্রতি নগদ ৫০,০০০/- টাকা অনুদান দিয়েছেন। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রতিটি পরিবারকে ঈদ উপহার, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রতিটি পরিবারকে কোরবানির ব্যবস্থা ও পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে নতুন জামা কাপড়সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব খাবার সামগ্রী প্রদান করেন। জুলাই আন্দোলনে চন্ডিগড় ইউনিয়নের ফেচিয়া গ্রামে হুইল চেয়ার প্রদান করেন। জুলাই আন্দোলনে আহত কুল্লাগড়া ইউনিয়ন যুবদলের নেতা ‘নান্টুকে’ আত্মনির্ভরশীলতার জন্য একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা প্রদান করেন।

জুলাই আন্দোলনে সরকার পতনের পর মাত্র ০১ (এক) বছরে দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির জন সম্পৃক্ততা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সব ধর্মীয় বিশ্বাসী মানুষের অংশগ্রহণ এবং সমঅধিকারের ভিত্তিতে এক অনন্য, আলোকিত, আদর্শ ও মানবিক দুর্গাপুর গড়ে তুলতে বিএনপির পাশে থাকার জন্য আহ্বান জানান। দুর্গাপুর উপজেলার অন্যতম অবহেলিত জনপদ গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের ভাদুয়া স্কুল মাঠে দেশ বরেণ্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অংশগ্রহণে মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করেন। যার মাধ্যমে ৩ হাজার রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১১টি ধাপে ৪৫০ জন নারী-পুরুষের বিনামূল্যে চোখের ছানী অপারেশন সম্পন্ন করিয়েছেন।

বাকি রোগীদের পর্যায়ক্রমে অপারেশন করা হবে। বিনা খরচে রোগীদের ময়মনসিংহ বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে আনা-নেয়া, থাকা-খাওয়াসহ সমস্ত ব্যয় ব্যবস্থা তিনি করে থাকেন। চক্ষু অপারেশনকৃত রোগীদের মধ্যে বিনামূল্যে চশমা বিতরণ করা হয়েছে এবং চশমা বিতরণ অব্যাহত আছে। এ এক অনন্য দৃষ্টান্ত; যা দেশবাসীর কাছে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। নেত্রকোণা-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫৬ হাজার ১৮২ জন। কলমাকান্দা উপজেলায় ২ লাখ ৪৫ হাজার ৪৮৫ জন তন্মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ২৫ হাজার ২৬ জন, নারী ১ লাখ ১৯ ১ হাজার ১৫৬ জন, হিজরা ৩ জন ও দুর্গাপুর উপজেলায় প্রায় ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৭ জন তন্মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬ হাজার ৭২৫ জন, নারী ১ লাখ ৫ হাজার ২৭১ জন, হিজরা ১ জন। মোট ইউনিয়ন কলমাকান্দায় ৮টি, দুর্গাপুরে ৭টি ও একটি পৌরসভা রয়েছে।

এ আসনে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ৬ জন। অন্যরা হলেন গোলাম রব্বানী (রিকশা), আব্দুল হান্নান (হাতপাখা), আলকাছ উদ্দীন মীর (কাস্তে), মো. আনোয়ার হোসেন খান শান্ত (লাঙ্গল), মো. বেলাল হোসেন (তারা)। শীত ও ঘুমকে উপেক্ষা করে ধানের শীষে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যাস্ত নেতাদের মধ্যে আলম ভূঁইয়া, আব্দুল আউয়াল, এমএ জিন্নাহ, অধ্যক্ষ শীহদ খান, বর্ষীয়ান নেতা আবুচান চেয়ারম্যান, মো. হারেছ গণী, আলহাজ জামাল মাস্টার, আতাউর রহমান ফরিদ, মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, বিদ্যুৎ সরকার, কলমাকান্দার মো. খায়রুল ইসলাম ও সাইদুর রহমান ভূঁইয়া প্রমুখ।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি