image
ছবিঃ সংগৃহীত

পীরগাছার সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

প্রতিনিধি, পীরগাছা (রংপুর)

রংপুরের পীরগাছা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধনে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সাব-রেজিস্ট্রার বার্নার্ড মার্ডী এবং তার কার্যালয়ের মহোরার আঙ্গুরার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেছেন সেবা নিতে আসা একাধিক ভুক্তভোগী।

অভিযোগ রয়েছে, দিনের বেলায় ইচ্ছাকৃতভাবে দলিলে নানা ত্রুটি দেখিয়ে আপত্তি দেওয়া হয়। পরে ঘুষের বিনিময়ে রাত পর্যন্ত অফিস খোলা রেখে দলিল নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়।

ভুক্তভোগীদের মোবাইলে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো কোনো দিন সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্তও দলিল রেজিস্ট্রেশন সম্পাদন হচ্ছে।

স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগি জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিয়ম মেনে কাজ করতে গেলে নানা অজুহাতে ফেরত দেওয়া হয় দলিল। কিন্তু অতিরিক্ত টাকা দিলে সেই দলিলই দ্রুত সম্পন্ন হয়ে যায়। এতে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক দলিল লেখক জানান, বণ্ঠননামা, নাদাবী ও সংশোধনী দলিল সমোঝোতা সাপেক্ষে শতকপ্রতি ১০০-১৫০ টাকায় নিবন্ধন সম্পাদন করা হয়। হেবার ঘোষণাপত্র দলিলে অফিস খরচ ২১০০ হতে ৩৫০০ টাকা ছাড়াও শতক আন্ডার ভেলু হিসেবে প্রতি ১৫ হতে ২৮ টাকা পর্যন্ত নেয়া হয। সাফ কবলা ও দানপত্র দলিলে অফিস খরচ নেয়া হয় ১৭৬০ টাকা করে। মহোরার আঙ্গুরা পীরগাছা অফিসে যোগদানের পর হতে দলিল প্রতি সরকারি ফির নামে অতিরিক্ত ঘুষের টাকা আদায় করে আসছেন।

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে মহোরা আঙ্গুরাকে দলিল সম্পাদনের বিনিময়ে ঘুষের টাকা গ্রহণ করতে দেখা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মৌখিক অভিযোগ আছে, মহোরার আঙ্গুরা যোগদানের পর হতে ঘুষ গ্রহণের বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে, তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখান।

স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া না হলে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতি আরও বেড়ে যাবে এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়বে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দলিল লেখক বলেন, এখানে নিয়মের চেয়ে ঘুষই বড় হয়ে গেছে। টাকা না দিলে দিনের পর দিন দলিল আটকে রাখা হয়। মানুষ বাধ্য হয়ে রাতে এসে কাজ করাচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার বার্নার্ড মার্ডিকে মোবাইল করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য না দিয়ে বলেন, ভাই নিউজ করার আগে অফিসে আসেন, সাক্ষাতে কথা হবে।

মহোরার আঙ্গুরাকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, আমরা ফি আদায় করি এটা সকলেই জানেন। তবে কিছু বেশি নেয়া হয় সেটা দিয়ে আমাদের কর্তৃপক্ষসহ সবাইকে ম্যানেজ করতে হয়। আপনি যা পারেন লেখেন, আমার কিছু হবে। আমি পরে দেখে নিব।

এ বিষয়ে পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ বসাক বলেন, বিষয়টি জানা নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি