image
লাখাই (হবিগঞ্জ) : মাঠজুড়ে সরিষার আবাদ -সংবাদ

লাখাইয়ে সরিষা চাষে ব্যাপক সাফল্য লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ

প্রতিনিধি, লাখাই (হবিগঞ্জ)

লাখাই উপজেলায় দিগন্তজোড়া ফসলি মাঠে এখন শুধু হলুদের সমারোহ। শীতের সকালের নরম রোদে সরিষা ফুলের মনকাড়া দৃশ্য যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব আল্পনা। গত মৌসুমে বাজারে সরিষার ভালো দাম পাওয়ায় এবং সরকারি কৃষি প্রণোদনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ বছর উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে।

বাম্পার ফলনের হাতছানিতে লাখাইয়ের কৃষকদের চোখে-মুখে এখন স্বস্তির হাসি। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে লাখাই উপজেলায় ১ হাজার, ৭৪০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে বাস্তবে আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২০ হেক্টর বেশি সাড়া পাওয়া গেছে সরিষা চাষে। তবে অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের ব্যাপক আগ্রহের কারণে ইতোমধ্যে সেই লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে ৩শ হেক্টর বিনাচাষে এবং বাকি জমি প্রচলিত চাষাবাদের মাধ্যমে করা হয়েছে। এসব এলাকায় সরিষানির্ভর মধু সংগ্রহেরও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

বিগত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন মাঠে মৌবাক্স স্থাপন করে মধু সংগ্রহ করা হলেও স্থানীয় কৃষকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাবে সম্ভাবনাটি পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। চলতি মৌসুমে উদ্যোগ নেওয়া হলেও মধুচাষি ও সংগ্রহকারীর অভাবে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। উপজেলার করাব, মুড়িয়াউক, মোড়াকরি ও বামৈ ইউনিয়নের মাঠগুলো এখন হলুদে-সবুজে মোড়া। ফুলবাড়িয়া গ্রামের কৃষক শাজিদুর জানান, তিনি এবার দুই কানি জমিতে বারি-১৪ ও বিনা-৯/১০ জাতের সরিষা চাষ করেছেন। প্রতি কানিতে খরচ হয়েছে মাত্র ৫ হাজার টাকার মতো। গাছ ও ফুলের অবস্থা দেখে তিনি এবার দ্বিগুণ ফলন ও লাভের আশা করছেন।

গুনিপুর গ্রামের মুক্তার হোসেন জানান, সরিষা চাষে ক্ষতির ঝুঁকি কম এবং চাহিদা বেশি হওয়ায় প্রতি বছরই তিনি এই আবাদে যুক্ত হচ্ছেন। এক সময় লাখাই উপজেলা বোনা আমন ধান আবাদ প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল। তখন বোনা আমন ধান কাটার পর ন্যাড়া পুড়িয়ে সরিষা আবাদ করা হতো। সময়ের পরিবর্তনে বোনা আমনের জায়গা দখল করেছে রোপা আমন। ফলে বর্তমানে রোপা আমন কাটার পর সরিষা আবাদ করা হচ্ছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে ও প্রণোদনায় কৃষকরা এবার বারি-১৪, ১৫ এবং বিনা সরিষা-৯ ও ১০-এর মতো উচ্চ ফলনশীল জাতের আবাদ করেছেন। এতে একদিকে যেমন জমির উর্বরতা বাড়ে, অন্যদিকে ভোজ্যতেল আমদানির ওপর দেশের নির্ভরতা কমাতেও এটি বড় ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি আমন ধানের জমিতে বিনাচাষে সরিষা আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৩শ হেক্টর জমিতে বিনাচাষে সরিষা আবাদ হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে আমন-পরবর্তী সরিষা আবাদে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রণোদনা দেয়া হয়েছে।

ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং শস্যের নিবিড়তা বাড়াতে তেলজাতীয় ফসল হিসেবে সরিষা আবাদে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। সরিষানির্ভর মধু সংগ্রহের জন্য কয়েকজন মধুচাষির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এ বছর তারা আসতে না পারলেও ভবিষ্যতে তাদের মাধ্যমে মধু সংগ্রহের পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ দিয়ে সহযোগিতা করা হবে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি