image
গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স -সংবাদ

জনবল সংকটে ধুঁকছে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

শেখ নজরুল ইসলাম, প্রতিনিধি, গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ)

চিকিৎসক ও জনবল সংকট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম। ফলে রোগীদের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ১৩৩ গ্রামের দুই লাখের বেশি মানুষ ৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি এই হাসপাতালের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। তবে এখানে সেবার মান এখনও সন্তোষজনক নয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের ।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘুরে রোগী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নানান সংকটের মধ্য দিয়ে চলছে এ হাসপাতালের কার্যক্রম। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী নেই এখানে। নেই পর্যাপ্ত আধুনিক যন্ত্রপাতি।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসংলগ্ন হওয়ায় গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের আনা হয়। পাশাপাশি উপজেলায় গড়ে ওঠা অসংখ্য শিল্প-কারখানার কারণে স্থায়ী বাসিন্দাদের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক অস্থায়ী শ্রমিকও এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চক্ষু, অর্থোপেডিক সার্জারি, জেনারেল সার্জারি ও নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ পদে একজন চিকিৎসক থাকলেও তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেষণে কর্মরত। ফলে এসব বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বাধ্য হয়ে ঢাকাসহ আশপাশের জেলায় ছুটতে হচ্ছে।

গতকাল রোববার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যেই আউটডোরে রোগীর সিরিয়াল ৩২০ ছাড়িয়ে গেছে। টিকেট সংগ্রহ করতে দীর্ঘ লাইনের কারণে রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা গেছে।

চিকিৎসা নিতে আসা পঞ্চাশোর্ধ জাহানারা বেগম বলেন, ‘ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ঠিকমতো ডাক্তার দেখানো যায় না। আবার হাসপাতাল থেকে সব ওষুধও পাওয়া যায় না।’

হাসপাতালে ভর্তি রোগী সহিদ মিয়া জানান, রোগীর তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা খুবই কম। সময় মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় রোগীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। হাসপাতালের লজিস্টিক সাপোর্টও পর্যপ্ত নয়। অনুমোদিত ৩ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন একজন। ফলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা যথাসময়ে করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকটও রয়েছে এখানে।

একই চিত্র বিরাজ করছে গজারিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতেও। প্রতিটি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রেই জনবল ঘাটতি রয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. শারমিন আহমেদ তিথী সংবাদকে বলেন,‘আমি দায়িত্ব নেয়ার পর শূন্যপদ পূরণের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করেছি। কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছেন, নির্বাচনের পর এসব শূন্য পদ পূরণের চেষ্টা করা হবে। সীমাবদ্ধতার মাঝেও আমরা সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি।’

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি