image

ডেঙ্গু দমনে সাঁড়াশি অভিযান: ড্রোনের সাহায্যে ছাদে পানি তল্লাশি ও ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

​রাজধানী ঢাকায় ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটায় মশা নিধনে বি‌শেষ কার্যক্রম শুরু করেছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। এবারের অভিযানের বিশেষত্ব হলো প্রযুক্তির ব্যবহার; বহুতল ভবনের ছাদে বা দুর্গম স্থানে জমে থাকা স্বচ্ছ পানি শনাক্ত করতে ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার থেকে দুই সিটির সকল ওয়ার্ডে একযোগে এই বিশেষ ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ বা সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে। এর আগে, গতকাল সোমবার এক দিনেই ডেঙ্গু‌তে আক্রান্তের সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়ে যাওয়ায় এসব কার্যক্রম শুরু ক‌রে‌ছে দুই সিটি কর্পোরেশন।

ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ড্রোনের ক্যামেরায় লার্ভার অস্তিত্ব পাওয়া গেলেই সংশ্লিষ্ট বাড়ির মালিককে বড় অংকের জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে।

সাধারণত শীতের মৌসুমে এডিস মশার প্রজনন ক্ষমতা কমে গেলেও চলতি বছরের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা মশার বংশবিস্তারে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। তাই আজ সকাল থেকেই রাজধানীর উত্তরা, মিরপুর, বনানী এবং পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় লার্ভিসাইডিং ও ফগিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেবল রাস্তাঘাটে ওষুধ ছিটিয়ে এই সংকট সমাধান সম্ভব নয়, যদি না সাধারণ মানুষ ব্যক্তিগতভাবে সচেতন হন। বিশেষ করে নির্মাণাধীন ভবন ও পরিত্যক্ত টায়ারের মতো জায়গায় জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রধান প্রজনন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

সিটি কর্পোরেশনের এই ক্র্যাশ প্রোগ্রাম আগামী এক সপ্তাহ পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে বলে জানানো হয়েছে। নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখেন এবং ড্রোনের মাধ্যমে তদারকি কার্যক্রমে কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করেন।

​স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে আজ এক বিশেষ সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, শীতের মৌসুমে যদি এখনই ডেঙ্গুর এই ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে আসন্ন গরমের শুরুতে পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় বিশেষ ওয়ার্ডগুলো পুনরায় চালুর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি