রাজশাহী, পাবনা ও সিরাজগঞ্জের পর এবার নাটোরে এনসিডি কর্নারে সেবার মান উন্নত হচ্ছে। বহু মানুষ অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ফলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও অন্ধত্বের শিকার হচ্ছে। উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসসহ অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ (এনসিডি) কর্মসূচীর উদ্যোগে ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সহযোগিতায় রাজশাহী বিভাগে হৃদরোগে মৃত্যুহার কমাতে সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করেছে। তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের আজ ছিল শেষ দিন।
গতকাল সকাল ১০টায় জেলার নার্সিং ইন্সটিটিউটে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের এ সংক্রান্ত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ মুক্তাদির আরেফিন কর্মশালার উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এর বাংলাদেশ হাইপারটেনশন কন্ট্রোল ইনিশিয়েটিভ প্রোগ্রামের এডিশনাল ডিরেক্টর ডা: মাহফুজুর রহমান ভূঁইয়া, ডিভিশনাল প্রোগ্রাম অফিসার খোন্দকার এহসানুল আমিন ইমন, গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ এ এসএম আলমাস, লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মনজুর রহমান, বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈকত মো. রেজওয়ানুল হক, বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রতিনিধি ডা. মো. শফিকুর রহমান, নলডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. জুনাইদ হোসেন লেলিন, সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মুজাহিদুল ইসলাম, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এর বাংলাদেশ হাইপারটেনশন কন্ট্রোল ইনিশিয়েটিভ প্রোগ্রামের আই টি এক্সপার্ট মুহতামিম ফুয়াদ নাহিদ প্রমূখ। সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ মুক্তাদির আরেফিন বলেন, হৃদরোগ জনিত মৃত্যুহার এক চতুর্থাংশ কমিয়ে ২৫ ভাগে, উচ্চ রক্তচাপের ব্যাপকতা কমিয়ে ১৮ ভাগে নিয়ে আসা এবং একইসঙ্গে লবণ ব্যবহারের হার ২৫ ভাগ কমানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রাজশাহী বিভাগের সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এনসিডি কর্নারের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসসহ অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকার বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা, পরামর্শ ও ওষুধ প্রদান করছে। এদেশে প্রতি চারজন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজনের উচ্চ রক্তচাপের রোগী পাওয়া যায়, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই কর্নারগুলো থেকে প্রাপ্তবয়স্ক সকলকে আধুনিক ডিজিটাল মেশিনের মাধ্যমে রক্তচাপ পরিমাপ করা হবে এবং সকল রোগীর তথ্য ‘সিম্পল অ্যাপস’ ব্যবহার করে সংরক্ষণ করা হবে এবং তাদের উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের হার মনিটরিং এর কাজ করবে।