সিরাজগঞ্জে এক ফসলের ঝুঁকি আর লোকসানের হিসাব পাল্টে দিচ্ছে এই মিশ্র ফসলের চাষ। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছোনগাছা ও বাগবাটি ইউনিয়নে একই জমিতে আখ, পেঁয়াজ, আলু, মিষ্টিকুমড়া, করলাসহ বিভিন্ন সবজি চাষে সাফল্যের মুখ দেখছেন কৃষকরা। তার এই উদ্যোগ এখন এলাকাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবছর এই উপজেলায় ৭৫ হেক্টর জমিতে মিশ্র ফসলের চাষ হয়েছে। অল্প খরচে বেশি লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা এই চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে বলে জানা গেছে।
বাগবাটি গ্রামের আবুল হোসেন রিলে ক্রপ পদ্ধতিতে জমিতে একাধিক ফসলের আবাদ করেছেন। একদিকে পেঁয়াজ ও আলুর উত্তোলন চলছে, অন্যদিকে আলু ও আখের চাষ করেছেন। এই পদ্ধতিতে এক সাথে একাধিক ফসলের চাষ করা হচ্ছে। এতে একই পরিমাণ সার ব্যবহার করে একাধিক ফসল উৎপাদন হচ্ছে। ফলে কৃষকের আর্থিকভাবে লাভ হচ্ছে। কৃষক আবুল হোসেন বলেন, আগে এক জমিতে একটাই ফসল করতেন। কোন কারণে ফসল না হলে পুরো মৌসুমে লোকসান গুনতে হতো। এখন এক জমিতে চার ধরনের ফসল থাকায় একটি কম হলেও অন্যটি তা পুষিয়ে দিচ্ছে। চলতি মৌসুমেই তিনি খরচ উঠিয়ে লাভের মুখ দেখেছেন বলে জানান।
স্থানীয় কৃষকরা বলেন, এই মিশ্র চাষ দেখে আশপাশের অনেক কৃষক নতুন করে আগ্রহী হচ্ছেন। আগে যেখানে জমি আংশিক ফাঁকা থাকত, এখন সেখানে পরিকল্পিতভাবে সবজি চাষ শুরু হয়েছে। এতে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এস এম নাসিম হোসেন জানান, মিশ্র ফসলের চাষের জন্য কৃষকদের কারিগরি পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমরা বীজ ও সার প্রনদনা হিসাবে দিয়েছি। সরকারি অনুদান পেলে আরও সহায়তা দেওয়া হবে। জেলায় মিশ্র চাষ পদ্ধতির প্রসার ঘটলে কৃষকের ঝুঁকি কমবে এবং আয়ের নতুন পথ খুলে যাবে। একই জমিতে পেঁয়াজ, আল, আখ, মিষ্টিকুমড়া সরিষা করলাসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।