image

মহম্মদপুরে কৃষক প্রশিক্ষণের নামে সরকারি অর্থের তছরুপ

প্রতিনিধি, মহম্মদপুর (মাগুরা)

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা কৃষি অফিসে ‘মসলা জাতীয় ফসল চাষ’ ও ‘টেকসই কৃষি প্রকল্প’ বিষয়ক কৃষক প্রশিক্ষণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ হওয়ার কথা থাকলেও তা শেষ করা হয়েছে মাত্র কয়েক ঘণ্টায়। এছাড়া অযোগ্য কৃষক নির্বাচন ও ভুয়া উপস্থিতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ অপচয়ের চিত্র ফুটে উঠেছে।

সরেজমিনে প্রশিক্ষণে আসা নারী প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া একাধিক নারী সদস্য জানান, তারা কেন এখানে এসেছেন বা কী বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে, সে সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই। তাদের কেবল আসতে বলা হয়েছে, তাই তারা এসেছেন। মূলত প্রশিক্ষণের জন্য যোগ্য ও অভিজ্ঞ কৃষক নির্বাচনের পরিবর্তে স্রেফ কোটা পূরণের জন্য সাধারণ মানুষকে ডেকে আনা হয়েছে।

কাগজে-কলমে ৬০ জন কৃষককে প্রশিক্ষণ দেয়ার কথা থাকলেও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। দুপুর গড়িয়ে গেলেও অনেক আসন খালি ছিল; উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৫২ জন। বাকিদের কোটা পূরণ করতে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতেই তড়িঘড়ি করে অনেককে ফোন দিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করতে দেখা যায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে প্রাপ্ত প্রশিক্ষণ সূচি অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল থেকে দিনব্যাপী ১০টি সেশন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রথম দিন প্রশিক্ষণ শুরু হয় বিকাল ৩টায় এবং শেষ হয় মাত্র এক ঘণ্টা পর ৪টায়। দ্বিতীয় দিনও নামমাত্র সময়ে কাজ শেষ করা হয়।

জানা গেছে, যশোর অঞ্চলে টেকসই প্রকল্পের অধীনে ৬টি ব্যাচে ৩০ জন করে ৩ দিনের প্রশিক্ষণ এবং মসলা প্রকল্পের ১টি ব্যাচে ২ দিনের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এতে মাথাপিছু ৫০০ টাকা সম্মানি আর ৩০০ টাকা যাতায়াত ভাতা এবং উন্নত মানের খাবারের বরাদ্দ রয়েছে। তবে প্রশিক্ষণ দেরিতে শুরু হওয়ায় কৃষকরা সকালের নাস্তা থেকে বঞ্চিত হন। অভিযোগ রয়েছে, প্রশিক্ষণের মান ক্ষুন্ন করে ও সময় বাঁচিয়ে খাবারের টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে।

প্রশিক্ষণ সংক্ষিপ্ত করার বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পিযূষ রায় দায় স্বীকার করে বলেন, ‘প্রশিক্ষকরা না আসার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’ তবে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে দুপুরের পর লোক ডাকার বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

এ বিষয়ে মাগুরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. তাজুল ইসলাম বলেন, সরকারি নির্দেশনার বাইরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সময়ে প্রশিক্ষণ নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। ৬০ জন উপস্থিত থাকার কথা থাকলে কেন ৫২ জন হলো এবং কেন কৃষকরা প্রশিক্ষণের বিষয় জানেন না- তা খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি