image

‘আমরা এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই যেখানে নারীদের মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে’

জেলা বার্তা পরিবেশক, ঝিনাইদহ

নারীদের প্রতি কেউ কুদৃষ্টিতে তাকাতে পারবে না, তাকালে সেই চোখ উপড়ে ফেলা হবে। আমরা এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই যেখানে নারীদের মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের ওয়াজির আলী হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এসময় তিনি নারীদের অবর্ননীয় ত্যাগের বর্ণনা করে বলেন,মায়েদের ঋণ শোধ করার ক্ষমতা আমাদের নেই। সেই মাদের দিকে যারা খারাপ দৃষ্টিতে তাকাবে তাদের চোখ উপড়ে ফেলা হবে।

বক্তব্যের শুরুতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আমিরে জামায়াত শহীদ হাদি ওসমানের ইনকিলাব মঞ্চ ও জামায়াতের পক্ষ থেকে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

এসময় তিনি বলেন,যারা বিগত আন্দোলনে স্বামী, স্ত্রী, সস্তান, বোন ও পিতাকে হারিয়েছেন আমি তাদের হয়ে আপনার সামনে দাড়িয়েছি। জবীনের ঝুকি নিয়ে চেষ্টা করেছি তাদের পাশে দাড়ানোর। কি অপরাধ ছিলো তাদের। তাদেরকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অপরাধ একটাই অপশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলা। এ কারনে তাদের বিরুদ্ধে নির্মম আচরণ করা হয়েছে। আমরা সন্তান হারানোদের কাছে গিয়েছি। তাদের আহাজারি সহ্য করতে পারিনি। অনেকে আছেন যারা তাদের সন্তানদের এখনো কোন খোঁজ পাননি।

এসময় তিনি বলেন,পকেট থেকে জোর করে টাকা নেওয়া হয়েছে, চাঁদাবাজি করা হয়েছে। সেই ফ্যাসিবাদ বাংলায় আবার ফিরে আসুক আপনারা কি তা চান। আমাদের সন্তানরা যারা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে আন্দোলন করেছেন। তাদের প্রতি সববেদনা জানাচ্ছি। তিনি বলেন,এই জনপদে সবথেকে বেশি খুন করা হয়েছে। সোহানের মা বলেছিলেন তোমরা আমার সন্তানকে মেরেছো ঠিক আছে কিন্তু তার চোখ দুটি কেন তুলে নিলে কি অপরাধ করেছিল আমার ছোট্ট সন্তান।

ঝিনাইদহ জেলা জামায়াত আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের এ সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তৃতা করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যশোর কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসাইন।

এছাড়া সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের আমির ও ঝিনাইদহ-২ আসনের জামায়াত জোট প্রার্থী মাওলানা আলী আজম মো. আবু বকর। বিশাল এ সমাবেশে বক্তৃতা করেন,ঝিনাইদহ-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী অধ্যপক মতিয়ার রহমান, ঝিনাইদহ-৪ আসনের আবু তালিব ও ঝিনাইদহ-১ আসনের প্রার্থী এএসএম মতিউর রহমানসহ জেলা নেতৃবৃন্দ।

জামায়াতের আমিরের জনসভা কেন্দ্র করে দুপুর থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা জনসভাস্থলে আসতে থাকে। বিকাল গড়ানোর আগেই কানায় কানায় ভরে ওঠে জনসভার মাঠ। পুরো ঝিনাইদহ শহর লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নেতাকর্মীদের বাস ট্রাকসহ থ্রী হুইলারে চরম যানজটের সৃষিট হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়ে সাধারন মানুষ।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চুয়াডাঙ্গা থেকে সড়ক পথে ঝিনাইদহে এসে পৌছান জামায়াতের আমির। এরপর সরাসরি সমাবেশস্থলে পৌছে মঞ্চে ওঠেন। ৬ টা ৫৫ মিনিটে বক্তৃতা শুরু করেন আমিরে জামায়াত। মাত্র ২৩ মিনিটের বক্তব্যে আগামির বাংলাদেশ কেমন হবে তার একটি সংক্ষিপ্ত রুপরেখা তুলে ধরে বলেন, মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতেকটি জেলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে। মেডিকেল কলেজ করেই আমরা বসে থাকবো না। উন্নত প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ জনবল দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। সঠিক শিক্ষা ছাড়া ভালো জাতি গড়া সম্ভব না। আমরা ঘোষণা করেছি বেকার সমস্যার সমাধান করতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। বেকারদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। চাঁদাবাজি দুর্নীতি বন্ধ করা হবে।

প্রিয় ঝিনাইদহবাসি পাশের জেলা যশোরে যান সেখানে মেডিকেল কলেজ আছে কিন্তু রাস্তার বেহাল দশা। সরকারের কি জনশক্তি নাই। তাহলে অবকাঠামো কেন উন্নয়ন হচ্ছে না। রাষ্ট্রের সম্পদ লুটপাট করা হয়েছে। আমরা কথা দিচ্ছি জামায়াত ইসলামী ক্ষতায় গেলে লুটকারীদের পেটে হাত দিয়ে সব সম্পদ বের করে আনা হবে, সেটা দেশে অথবা বিদেশে। বেকারদেরর ভাতা দিয়ে আমরা অপমানিত করতে চাই না। বেকারদের যোগ্যতার স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

আমরা দুর্নীতিকে লালকার্ড দেখাতে চাই। দুর্নীতিবাজদের উদ্দেশ্যে বলেন,তোমাদের লজ্জা করে না। দুর্নীতি ছেড়ে দাও নয়লে রাস্তায় গিয়ে ভিক্ষা কর। চাঁদাবাজির থেকে ভিক্ষা করা সম্মানের ।

উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন,এ জাতির সন্তানেরা যুগে যুগে রক্ত দিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। আমরা তাদের সম্মান দিতে চাই। ২৪ এ বিপ্লব করেছে, ২৬ আরেকটি বিপ্লব করতে হবে। আগামী ১২ তারিখে ব্যলট বিপ্লব করতে হবে। দেশের উন্নয়নে এ বিপ্লব করতে হবে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি