image
মধুপুর (টাঙ্গাইল) : টাঙ্গাইলের মধুপুরের মহিষমারা গ্রামে ছানোয়ার হোসেনের এক খণ্ড কৃষির রাজ্যে এ বছর সূর্যমুখী হাসছে -সংবাদ

মধুপুর গড়ে কৃষির রাজ্যে সূর্যমুখীর মুগ্ধতা

প্রতিনিধি, মধুপুর (টাঙ্গাইল)

চারিদকে বাগান বাগিচা। জমির মধ্যে স্থলে বাড়ি। পূর্ব পাশে কফির একখণ্ড রাজ্য। বাড়ির পাশেই পানির পাম্প সাব মারসিবল। পাশ ঘেঁষেই সরু সড়ক। ভ্যান রিকশা চলাচলের সাথে আশপাশের মানুষের জন্য দেয়া। দক্ষিণ পাশে আনারসের খেত। পাশ ঘেঁষেই পাকা মসজিদ। পশ্চিম পাশেই সজ ড্রাগন কপি বাঁধাকপি সবজি। পেয়ারা বাগান করা পাশেই। অপর প্রান্তে করা হয়েছে কলেজ। পাশে আশ্রীতহীণ দের জন্য গড়া আশ্রয়ণ প্রকল্প। কলেজের মাঠ থেকে পূর্ব দিকে তাকাতেই চোখে হলুদ রঙের ফুলের বাগান। সারি সারি সাজানো। দূর থেকে দেখা যাচ্ছিল হলুদের সমারোহ। সামনে এগিয়ে গিয়ে দেখা যায় একই কৃষির রাজ্যের এটি তার ভিন্ন চাষ সূর্যমুখী। বলছিলাম টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়ের লাল মাটির কৃষক ছানোয়ার হোসেনের এক খন্ড কৃষি রাজ্যের কথা। এ বছর তিনি অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি সূর্যমুখীও চাষ করেছে।

মধুপুর শহর খেকে ১৫ কিলোমিটার পূর্ব দিকে মহিষমারা গ্রােেমই গড়েছে তার কৃষির রাজ্য। পাশেই গারো হাট নামের গারো বাজার। সরেজমিনে মহিষমারা গ্রামে গিয়ে জানা যায়, কৃষক ছানোয়ার হোসেনের কৃষির সফলতার গল্প। তার সাথে কথা বলে জানা যায়, এক সময় শিক্ষকতা করেতেন। শিক্ষকতা ছেড়ে চলে আসে নিজ গ্রামে শুরু করে কৃষি কাজ। সফলতা পান তিনি। নিজের আর বাবার জমিতে গড়ে তোলে নিজের গ্রামের নামে মহিষমারা কলেজ। কফি কাজু বাদাম পেয়ারা আনারস ড্রাগনসহ নানা ফসলের বৈচিত্র্য গড়ে তোলেন।

এ বছর জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধির জন্য শস্য পর্যায়ের জন্য সূর্যমুখী চাষ করেছে। জমির পরিমাণ প্রায় ৭০ শতকের মতো। এখানে আগে অন্য ফসল পেয়ারা আনারসের বাগান ছিল। বারবার একই জমিতে একধরনের ফসলের উৎপাদন ভালো আসে না বলেই তিনি চলতি মৌসুমে সূর্যমুখী চাষ করেছে। গোবর সার দিয়ে জমির তৈরি করে টাঙ্গাইল কৃষি বিভাগ থেকে বীজ এসে এ চাষ করেছে।

কৃষক ছানোয়ার হোসেন জানান, তার ৭০ শতক জমিতে এ বছর সূর্যমুখী চাষের ফলে তিন ধরনের লাভ পাচ্ছে। তারমতে, প্রথমত শস্য পর্যায় হচ্ছে। দ্বিতীয় ভোজ্য খাঁটি তেল পাবেন। নিজের পরিবারের চাহিদা মিটে যাবে। ভেজা তেল কিনে খেতে হলো না। তৃতীয়ত ফুলের সৌরভ চারদিকে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে। দর্শনার্থী, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ নির্মল আনন্দ পাচ্ছে।

পাঁচ পোটল ডিগ্রি কলেজের অর্থনীতির প্রভাষক লিয়াকত হোসেন জনী বলেন, সূর্যমুখী একটি তেল জাতীয় ফসল। অর্থকরী ফসল হিসেবে সূর্যমুখীর গুরুত্ব অপরিসীম। একদিকে ভোজ্য তেল হচ্ছে। বিক্রি করলে অর্থও আসে। পরিবেশ বান্ধব একটি নিরাপদ চাষও হচ্ছে। এর চাষ সম্প্রসারণের প্রয়োজন। ভাইঘাট আইডিয়াল কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক নাজিবুল বাশার জানান, ফুল সৌন্দর্যের প্রতীক। এ চাষে সৌন্দর্যও বাড়ছে, ভোজ্য তেলও পাওয়া যাবে। কৃষিতে সূর্যমুখীর বাড়ানোর কথা বলেন তিনি।

মহিষমারা গ্রামের কৃষক আমান আলী বলেন, ছানোয়ার হোসেন একজন সফল কৃষক। তিনি নতুন নতুন ফসলের চাষ করেন। নিরাপদ চাষের দিকে তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন। এ বছর তিনি তার বাড়ির পালনে সূর্যমুখীর চাষ করেছে। বাগানটি দেখতে প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী আসে আনন্দ পায়। ছবি উঠে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সূর্যমুখীতে শতকরা ৯৯ ভাগ উপকারী ফ্যাট আছে মানবদেহের জন্য উপকারী ওমেগা-৬, ওমেগা-৯ অলিক এসিড, ভিটামিন-ই, ভিটামিন-কে এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও মিনারেল। সরিষা, সয়াবিন এর চেয়ে সূর্যমুখী তৈল অসস্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের পরিমাণ কম।

মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রকিব আল রানা সাংবাদিকদের জানান, মধুপুরে পাহাড়ি ইউনিয়নগুলোতে বেশি সূর্যমুখী চাষ হয়। গত বছর আবাদ হয়েছিল ১৮ হেক্টর এবছর উৎপাদন হয়েছে ২৫ হেক্টর জমিতে যা গত বছরের চেয়ে ৬ হেক্টর বেশি মধুপুর উপজেলা মোট ৪৮ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান। তারমতে, সূর্যমুখী ফুলের তোল অন্য তেলের থেকে অনেক পুষ্টিসমৃদ্ধ।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি