image
দশমিনা (পটুয়াখালী) : উপজেলার চরাঞ্চলে ফসলি জমি পরিদর্শন করছেন কৃষি কর্মকর্তারা -সংবাদ

দশমিনার বালুচরে মিশ্র চাষে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

প্রতিনিধি, দশমিনা (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের আওতাধীন অর্ধ শতাধিক চরাঞ্চলে ক্ষিরা,তরমুজ ও বাঙ্গি গাছের লতা বেয়ে চলছে। গত বছরের তুলনায় এই বছর আবাদও বেড়েছে। ফলে সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে বাম্পার ফলনের। তবে সার-ওষুধের দাম বৃদ্ধির কারনে চাষিরা চিন্তিত রয়েছে। তেঁতুলিয়া নদীর তীরবর্তী এলাকাসহ চরবোরহান, চরঈশান, বাসুদেবপাশা, চরকচ্ছবিয়া, চরওয়াডেল, রায়সাহেবের চর, চরশৌলাসহ বিভিন্ন চরে ফসলের সমারোহ দেখা দিবে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন রবি ফসলের সঙ্গে চলতি মৌসুমে ৫০ হেক্টরে ক্ষীরা, ৪০ হেক্টরে বাঙ্গি ও ৩০০ হেক্টরে তরমুজের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত করা হয়। তবে তরমুজে এই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। গত বছর আবহাওয়া অনুকলে না থাকায় লাভের মুখ দেখেনি তরমুজ চাষিরা। উপজেলার তেঁতুলিয়ার বুক চিরে জেগে উঠা চরকচ্ছবিয়ায় তরমুজ চাষের দীর্ঘ ১৫-১৬ বছরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাচ্ছেন পাশের গলাচিপা উপজেলার চরকাজলের চাষি বাবুল খান। প্রায় ২৫ একর জমি লীজ নিয়ে সামান্য ক্ষীরা, শসাসহ ড্রাগন ও হীরা জাতের তরমুজের চাষ করেছেন। অতি জোয়ার, লবন পানির হানা আর একই জমিতে বার বার কীটনাশক ও সার,ওষুধ ব্যবহারের কারণে নিজ এলাকায় আগের মতো এখন আর তরমুজের ভাল ফলন না। কৃষকরা বীজ সংগ্রহ করে একই চরে ৫ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। আমন ধান কাটতে দেরি হওয়ায় চাষে কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও ইতোমধ্যে তরমুজ গাছ বেড়ে উঠতে শুরু করেছে। ড্রাগন জাতের ১০০ গ্রামের প্যাকেট বীজ ২ হাজার ২শ’ ৩০ টাকা নির্ধারিত মুল্যের বীজ সংগ্রহে ২ হাজার ৮শ’ টাকা লেগে যায়। হীরা জাতের তরমুজের ১০০ গ্রাম ওজনের বীজ কিনেছেন আড়াই হাজার টাকায়। বীজ সংগ্রহে আগের মতো সিন্ডিকেটের কারসাজি নেই। বিভিন্ন চরে এবার তরমুজের চাষ বেড়েছে। একই চরে বাকলা গ্রামের তরমুজচাষি ফিরোজ চৌধুরী জানান, ধান চাষে এখন আর লাভের মুখ দেখা যায় না। জলবায়ু পরিবর্তণের কারণে দিন দিন কৃষিতে বিপদ-আপদ বাড়ছে। ফাল্গুনেও ঘন কুয়াশা থাকে। তবে এই বছর গাছের লক্ষন ভাল। রোগবালাই আর আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে চাষিরা বাম্পার ফলন পাওয়া যাবে। চর রায় সাহেবের তরমুজ চাষি মহসীন জানান, তরমুজের প্রতিটি গাছের গোড়ায় ১২ গ্রাম এমওপি,৫-৭ গ্রাম ইউরিয়া, ১শ’৭০ গ্রাম টিএসপি, ১৫ গ্রাম ড্যাবসহ গ্রোজিন, সিনজেনটার ক্যারাটে, ম্যাগমা, থিউবিট, ভর্টিমেঘ ও স্কোরের মতো কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। আর চাষের খরচসহ এসব মিলে মাদা প্রতি ইতিমধ্যে প্রায় ৫০-৬০ টাকার মতো খরচ হয়। তবে খরচ যাই হোক রোগবালাই আর অতি জোয়ার কিংবা শিলা বৃষ্টির মতো বৈরী আবহাওয়া না হলে চাষীরা তরমুজের বাম্পার ফলনের আশা করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাফর আহমেদ জানান, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এই বছর তরমুজের আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাসহ সকলে নিয়মিত মাঠে ছুটে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। এই সময়ের কুয়াশায় তেমন ক্ষতির আশঙ্কা নেই। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে চাষিরা বাঙ্গি,ক্ষীরা ও তরমুজের বাম্পার ফলন পাবেন বলে কৃষি বিভাগ আশা করছে।

সম্প্রতি