image
নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ): ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপারই একমাত্র ভরসা -সংবাদ

বিজনা নদীতে সেতু না থাকায় দুর্ভোগে মানুষ

প্রতিনিধি, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ)

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় বিজনা নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু না থাকায় স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দেবপাড়া ও গজনাইপুর ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সন্নিকটে অবস্থিত হলেও নদীর ওপর যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় এসব এলাকার বাসিন্দারা যুগের পর যুগ ধরে অবর্ণনীয় ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছেন।

সেতুর অভাবে দেবপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব দেবপাড়া, উত্তর দেবপাড়া, দেবপাড়া, নলসুজা, সদরঘাট এবং গজনাইপুর ইউনিয়নের কায়স্থগ্রাম, মামদপুর শংকরসেনা, লোগাঁও, কান্দিগাঁও, বনগাঁও, শিয়ালের পুঞ্জি, নিশাকুড়ি, গজনাইপুর, শতক, রামলোহ ও কামারগাঁও সহ প্রায় ২০টি গ্রাম কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। এসব গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, হাটবাজারসহ কয়েক হাজার মানুষের বসবাস থাকলেও একটি সেতুর অভাবে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বাধীনতার পর থেকে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনের জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন সময়ে বিজনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে এলেও বাস্তবে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। সর্বশেষ সাবেক সংসদ সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী কায়স্থগ্রামের মুন্সিবাজার এলাকায় বিজনা নদীর (গোপলা নদী নামেও পরিচিত) ওপর প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯০ মিটার দীর্ঘ ও সাড়ে ৫ মিটার প্রস্থের একটি সেতু নির্মাণের জন্য ডিও প্রদান করেন। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তা আর এগোয়নি।

নদীর অপর পাড়ে বিস্তীর্ণ হাওর এলাকায় প্রতিবছর কয়েক হাজার মেট্রিক টন বোরো ধান উৎপাদিত হয়। কিন্তু সেতু না থাকায় কৃষকদের উৎপাদিত ফসল পরিবহন করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বর্ষা মৌসুমে নৌকা এবং শীত মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপারই একমাত্র ভরসা। এসব সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

এ ছাড়া চিকিৎসাসেবা গ্রহণ, ইউনিয়ন পরিষদের জরুরি কাজ, হাটবাজার ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রয়োজনে সদরঘাট নতুন বাজার, ইমামগঞ্জ বাজার, মুন্সিবাজার ও দেবপাড়া বাজারে যেতে নদী পার হতে হয় জীবন ঝুঁকি নিয়ে। অনেক সময় নৌকা না পাওয়ায় গুরুতর রোগীর চিকিৎসা বিলম্বিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত স্কুল-কলেজে যাতায়াত বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ঝরে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নির্বাচনের সময় সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও নির্বাচনের পর জনপ্রতিনিধিদের আর খোঁজ পাওয়া যায় না। একটি সেতুর অভাবে বর্ষা মৌসুমে পুরো এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এমনকি কেউ মারা গেলে দাফনের জন্য কবরস্থানে লাশ নেয়াও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।

এলাকাবাসীর দাবি, বিজনা নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মিত হলে ৩০ কিলোমিটার ঘুরপথের পরিবর্তে মাত্র ৪ কিলোমিটারের মধ্যে মৌলভীবাজার জেলার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হবে। এতে দিনারপুর পরগণাসহ আশপাশের এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকান্ড গতিশীল হবে এবং সামাজিক উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

চলমান নির্বাচনে হবিগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থীদের কাছে এলাকাবাসীর জোর দাবি, মিথ্যা আশ্বাস নয়: যে প্রার্থী বাস্তব উদ্যোগ নিয়ে বিজনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন, তাকেই তারা সমর্থন দেবেন। দ্রুত সেতু নির্মাণের মাধ্যমে অর্ধশতাব্দীর দুর্ভোগ লাঘবের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি