image
নদীর বুকেই ধান চাষ। ডিমলার নাউতার ও ধুম নদী দখল, ভরাটে হারিয়েছে স্বাভাবিক প্রবাহ -সংবাদ

ডিমলার শাখা নদীগুলো দখল-ভরাটে ‘মরা খাল’, খননের কোটি টাকা দুর্নীতি

প্রতিনিধি, ডিমলা (নীলফামারী)

এক সময়ের খরস্রোতা নদী, এখন ফসলের মাঠ। দখল, ভরাট ও অবৈধ বালু উত্তোলনে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার নাউতার, বুড়িতিস্তা, কুমলাই ও ধুম নদী কার্যত নিশ্চিহ্ন হতে বসেছে। এর সরাসরি আঘাত এসে পড়েছে দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্পে। হুমকির মুখে পড়েছে কৃষি, পরিবেশ ও নদীকেন্দ্রিক জীবন-জীবিকা।

নদী দখল আর অবৈধ বালু উত্তোলনের নীরব মহোৎসবে ডিমলার শাখা নদীগুলো এখন ‘মরা খালে’ পরিণত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ (পাউবো) সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দীর্ঘদিনের উদাসীনতা ও অপরিকল্পিত পুনঃখননের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্প তার কার্যকারিতা হারাতে বসে হুমকিতে পড়েছে ।

পূর্বে নাউতার ও ধুম নদী পুনঃখননের নামে কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও বাস্তবে সুফল মেলেনি। খননের অল্প সময়ের মধ্যেই নদীতে আবার বালু ও পলি ভরাট হয়ে চর জেগে উঠে। বর্তমানে নদীর বিস্তীর্ণ এলাকায় ধান ও বিভিন্ন ফসলের চাষ হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, নদীর বুকেই চলছে চাষাবাদ ও মাটি কাটার উৎসব। নদীতে পানি না থাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে অবৈধ বালু ব্যবসায়ী চক্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রভাবশালীরা প্রকাশ্যে নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে। এতে প্রতি বছর নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য।

পাউবো ডালিয়া কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নাউতার ও ধুম নদীর প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকায় পুনঃখনন করা হয়, যা ২০২২ সালে শেষ হয়। তবে খননকৃত বালু ও মাটি নদীর তীরেই ফেলে রাখায় তা আবার নদীতে ফিরে গিয়ে পুরো উদ্যোগ ভেস্তে দেয়।

সরেজমিন দেখা গেছে, ধুম নদীর ভেতরে বাঁধ দিয়ে আবাদি জমি তৈরি করা হয়েছে। কুমলাই নদীর উৎসমুখে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ করে নদীর প্রবাহ কার্যত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা দেয়া দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও কার্যকর ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ।

নদী বিশেষজ্ঞদের মতে, বিজ্ঞানসম্মত ও পরিকল্পিত পুনঃখনন ছাড়া এসব নদী রক্ষা সম্ভব নয়। ‘রিভারাইন পিপল’-এর পরিচালক ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তুহিন ওয়াদুদ বলেন, পাউবোর খনন কার্যক্রম অবৈজ্ঞানিক; এভাবে নদীর নাব্যতা ফেরানো সম্ভব নয় ।

ডালিয়া পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরি জানান, এ অঞ্চলের নদীতে বালুর পরিমাণ বেশি থাকায় খননের পর দ্রুত ভরাট হয়ে যাচ্ছে। কৃষি নির্ভর উত্তরাঞ্চলকে শুষ্ক মৌসুমে পানি সেচের মাধ্যমে ইরি চাষাবাদে মহাবিপ্লব ঘটাতে তিস্তা নদীর পাশাপাশি শাখা নদীগুলো আধুনিক পদ্ধতিতে পুনঃখনন করা একান্ত প্রয়োজন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, নদীগুলোর সীমানা নির্ধারণ করে পরিকল্পিত পুনঃখনন ও দখল উচ্ছেদ খুবই জরুরি। এ বিষয়ে জরুরি কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডিমলাবাসীর দাবি, নদী দখল ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ ও অতীত প্রকল্পগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং টেকসই পুনঃখননের মাধ্যমে শাখা নদীগুলোকে দ্রুত পুনর্জীবিত করা হোক।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» স্কুলে শিশু নির্যাতন: পবিত্র কুমার চার দিনের রিমান্ডে

» হাতছাড়া হচ্ছে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের ৪১ একর ভূমি

সম্প্রতি