সরকারের মেগাপ্রকল্প মাতারবাড়ী তথা মহেশখালীতে। প্রাচীনতম গভীর ও স্রোতগামী কোহেলিয়া নদীর উপর করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন মাতারবাড়ী সংযোগ সড়ক। মাতারবাড়ীতে বসবাসরত ৮০ হাজার মানুষ যাতায়তে সড়ক পথের এ ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু একটি প্রভাবশালী চক্র মহেশখালী উপজেলার প্রাচীনতম কোহেলিয়া সংলগ্ন মাতারবাড়ী সড়কের পার্শ্বে ও রাজঘাটের দক্ষিণে সরকারি জায়গা থেকে প্রতিনিয়ত বালু বিক্রি করে একদিকে সরকারকে রাজস্ব বঞ্চিত করছে। অন্যদিকে ব্যয়বহুল দৃষ্টিনন্দন সড়কটি ভাঙনের শঙ্কায় রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেন স্থানীয়রা। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সুনজর না থাকায় এভাবে এক্সকাভেটার দিয়ে মাটি উত্তোলন করে প্রতি ডাম্পার ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় কোন ধরনের বাঁধাহীন বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আস্টের পর থেকে মাতারবাড়ী বিএনপি নামধারী একটি সিন্ডিকেট মাছের ঘের, প্রকল্পের স্ক্র্যাপ ও বালু বিক্রিসহ বিভিন্ন অবৈধ কাজে জড়িয়ে নিজেরা প্রচুর অর্থকড়ির মালিক বনেছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য এভাবে বালি বিক্রি করায় গর্ত হয়ে যাচ্ছে কোহেলিয়া নদীর পশ্চিম পাশের সরকারি জায়গাটি। এতে যেকোন মুহূর্তে জনসাধারণের আকাক্সিক্ষত দৃষ্টিনন্দন সড়কটি ভেঙে লোকালয় পানিতে সয়লাব হওয়ার শঙ্কায় স্থানীয়রা।
অন্যদিকে ধসে পড়ার আশঙ্কা পূর্বপাশের নবনির্মিত ব্যয়বহুল ব্রিজ সংলগ্ন সড়ক পশ্চিম পার্শ্বে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাউন্ডারি ওয়াল। গত ২৪ মার্চ কক্সবাজার মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুতের পূর্বপার্শ্বের ভাউন্ডারি ওয়াল ও কোহেলিয়া নদীর উপর নবনির্মিত দৃষ্টিনন্দন ব্রিজ সংলগ্ন লাগোয়া সড়কের পশ্চিমে নদীভরাট সরকারী জায়গা থেকে দৈনিক শত শত গাড়িভর্তি বালু বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। এতে সরকারও হারাচ্ছে রাজস্ব। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঘুম না ভাঙায় জনমনে সৃষ্টি হয়েছে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া। এ বিষয়ে মেসার্স ইব্রাহিম এন্টারপ্রাইজ এর স্বত্বাধিকারী হোছাইন মোহাম্মদ মাসুম জানান, বালুগুলো সড়ক কাজে নিয়োজিত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মীর আকতার কোম্পানি থেকে ট্রেন্ডারের মাধ্যমে নিয়ে বিক্রি করছি।
এদিকে পরিবেশবাদী আব্দুস ছালাম কাকলীসহ অনেকেই দাবি তুলেন, নদীভরাট এসব সরকারি জায়গা বাগানের উপযোগী। এতে বাগান করলে পরিবেশের ভারসাম্য অনুকূলে থাকবে। অন্যথায় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট ও যেকোনো মুহূর্তে মাতারবাড়ী রক্ষা তথা দৃষ্টিনন্দন সড়কটি ভেঙ্গে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। মহেশখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবু জাফর মজুমদার বলেন, বিষয়টি শোনেছি দ্রুত পরিদর্শনে গিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সারাদেশ: ‘মানুষের সুখ-দুঃখের অংশীদার হতে চাই’
সারাদেশ: হিলিতে চালের দাম কমেছে কেজিতে ৮ টাকা